জানাজা নামাজের গুরুত্ব

ফিরোজ আহমাদ

কোনো মুসলিম ব্যক্তি ইন্তেকাল করলে জানাজার নামাজের ব্যবস্থা করতে হয়। হজরত আবু হোরায়রা রা: হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেনÑ তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দ্রæত জানাজায় নিয়ে যাও। কেননা, যদি সে নেককার হয়, তবে সে উত্তম ব্যক্তি, তোমরা তাকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যাও। আর যদি সে অন্য কিছু হয়ে থাকে তাহলে সে আপদতুল্য। তাড়াতাড়ি তোমাদের কাঁধ থেকে নিচে নামাও (বুখারি : ১২৩৬)।
মৃত ব্যক্তির জন্য জানাজার নামাজ খুবই ফজিলতপূর্ণ। মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের দোয়া সুপারিশের ন্যায়। তাই মৃত ব্যক্তির জানাজায় উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। হজরত আয়েশা রা: হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেনÑ যদি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজে এমন একদল মুসলমান আদায় করে যাদের সংখ্যা এক শ’ পর্যন্ত পৌঁছে এবং প্রত্যেকে তার জন্য সুপারিশ করে, নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ মৃত ব্যক্তির জন্য কবুল করা হবে (মুসলিম : ২০৬৬)।
জানাজায় অংশগ্রহণ করা মুসলমানের হক। হজরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেনÑ এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। ১.সালামের জবাব দেয়া, ২.অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেয়া, ৩.জানাজায় শরিক হওয়া, ৪. দাওয়াত কবুল করা, ৫. হাঁচির জবাব দেয়া। ( বুখারি : ১১৬৮)।
জানাজার নামাজে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিও অনেক নেকি লাভ করে থাকেন। হজরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেনÑ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় কোনো মুসলমানের লাশের সাথে অনুগমন করেছে এবং তার সাথে রয়েছে, ‘যতণ না তার জানাজা পড়েছে এবং তাকে দাফন করেছে’। সে দুই ‘কিরাত’ সওয়াব নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। প্রত্যেক ‘কিরাত’ হচ্ছে উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ। যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ পড়েছে, অতঃপর দাফন করার পূর্বে বাড়ি ফিরেছে, সে এক ‘কিরাত’ সমপরিমাণ সওয়াব নিয়ে ফিরেছে। (বুখারি : ১২৪৫)।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.