শিশুদের ভাবনার জগৎ দিন

শতাব্দী জুবায়ের

বইমেলায় যখন কোনো শিশুর কোমল পায়ের পদচারণা দেখি, তখন মনের অজান্তেই ভালোলাগা কাজ করে। আজকের যে শিশু বইমেলায় আসছে, তারা একসময় বিদগ্ধ পাঠক হবে, হবে লেখক। যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের বইমেলায় নিয়ে আসছেন, তাদের স্যালুট জানাই। শিশুরা বইমেলায় এসে নানা ধরনের বই দেখছে। বই না পড়ুক কিন্তু বই দেখছে তো। এটাই অনেক কিছু। অবশ্য বাংলাদেশে শিশুসাহিত্যের জগতটা বেশ এগিয়ে আছে। আরো এগিয়ে যাক এমনটাই প্রত্যাশা করি।

শিশুসাহিত্য পৃথিবীর সব দেশের সাহিত্যেই আছে। শুধু বাংলাদেশে আছে এমনটা নয়। একজন শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে বই। একটি বই একজন শিশুকে ভাসায় কল্পনার সাগরে। তাই বই পড়লে একজন শিশুর কল্পনা শক্তি বেড়ে যায়। যেটা সিনেমা বা অন্য কোনো কিছু করলে এতটা বিকশিত হয় না।

আমরা এখন শিশুদের কি দিচ্ছ। তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে। তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি অ্যানড্রয়েড ফোন। সেখানে নানা ধরনের খেলা খেলে যে শিশু সময় কাটাচ্ছে, সে আসলে কতটুকু শিখছে। তার কল্পনার ও ভাবনার জায়গাটা কী তৈরি হচ্ছে? নাকি একটা গেম নিয়ে পড়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যেটা তার মানসিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। একটি বিষয় লক্ষ করবেন। একটি পরিবারের বাবা-মা বা অভিভাবক যা করেন, শিশুদের যা সেখান তা তার মধ্যে দেখা যায়। বাবা-মায়ের কথা চাল-চলনও সন্তানদের মধ্যে দেখা যায়। অর্থাৎ ওরা যা করে তারা তাই করার চেষ্টা করে। তাই বাবা মা যদি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলেন তাহলে সন্তানরাও সেটাই অনুসরণ করবে। তারাও পড়তে বসবে।

কোনো শিশুর সাথে প্রতারণা করা যাবে না। কারণ, শিশু অবস্থায় সে যদি প্রতারণার শিকার হয় তাহলে সে বড় মাপের প্রতারক হবে না তার নিশ্চয়তা কী? তাই শিশুদের সাথে প্রতারণা না করে তাদের কথার গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের বই পড়তে দিন। যদি সে কথা বলার সুযোগ পায় তাহলে আরো কথা বলবে। যে যে বিষয়গুলো নিতে পারে সে বিষয়গুলো তার সাথে শেয়ার করতে পারবেন সহজেই। যেটি তাকে মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। একটা দিকে লক্ষ রাখতে হবে যে, শিশু সবকিছুতে সত্য খোঁজে। তাকে কল্পনার সাথে সাথে বাস্তবধর্মী বই দিতে হবে। কারণ সে যদি বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে যায় তাহলে নানা প্রতিবন্ধকতাকে সে তুচ্ছজ্ঞান করে এগিয়ে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের শিশুটিই আগামী দিনের পাঠক, লেখক। তাই তাদের হাতে বই তুলে দিতে হবে। তাহলেই সে পাবে নিজের ভাবনার জগৎ।

লেখক: ছাত্র, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.