মেঘের দেশে

এস এম নূরনবী সোহাগ

অতুল আর রাতুল খুব ভালো বন্ধু। তারা একসাথে স্কুলে যায়, খেলাধুলা করে। কিন্তু মাঝে মধ্যে রাতুলকে অতুল একদম বুঝতে পারে না। ওর কেমন যেন আলাদা একটা জগৎ আছে, যেখানে ও ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারে না। স্কুলে অতুলের আরো অনেক বন্ধু থাকলেও রাতুলের তেমন কোনো বন্ধু নেই। রাতুল সবসময় ডুবে থাকে তার একান্ত ভাবনার জগতে। রাতুল একেক সময় একেক রকম ভাবে। অতুল জানে, সে পাখি হয়ে উড়ে যেতে চায় আকাশে, ঘুরে দেখতে চায় মেঘের দেশ। এমন মনবাসনা তার অনেক দিনের। রাতুল ঘুড়ি নিয়ে আকাশে ওড়ায়। আকাশের অনেক দূর পর্যন্ত সে ঘুড়ি উড়ে যায়। একসময় নাটাইয়ের সব সুতা শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ঘুড়ি মেঘ ছুঁতে পারে না। একদিন রাতুল ঘুমের মধ্যে দেখল, সে একটি খোলা মাঠে একা বসে আছে। চার দিকে তখন মেঘ আর রোদ্দুরের খেলা। হঠাৎ আকাশ থেকে সাদা পোশাক পরা একজন রূপবতী নেমে এলো। রাতুল খেয়াল করে দেখে, তার পোশাকভর্তি মণিমুক্তা জ্বলজ্বল করছে। রাতুল তখন চমকে উঠে প্রশ্ন করেÑ ‘কে তুমি?’ সে প্রতি উত্তরে বলেÑ ‘আমি মেঘপরী। আমি তোমাকে নিতে এসেছি।’ রাতুল জিজ্ঞেস করেÑ ‘কোথায়?’ মেঘপরী বললÑ ‘মেঘের দেশে। তুমি তো অনেক দিন থেকেই মেঘের দেশ ঘুরে দেখতে চেয়েছিলে।’ আনন্দে রাতুলের চোখ চকচক করে। ‘সত্যিই তুমি আমায় মেঘের দেশে নিয়ে যাবে’Ñ রাতুল প্রশ্ন করে। মেঘপরী বললÑ ‘সত্যিই নিয়ে যাবো।’ রাতুল একদৌড়ে বাড়ি এসে নতুন পোশাক পরে আসে। এরপর মেঘপরী রাতুলকে বাতাসের সাথে ভাসিয়ে মেঘের দেশে নিয়ে চলে। রাতুলের সে কী আনন্দ! রাতুল দেখে, তার পাশ দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে যাচ্ছে। নিচে তাকাতেই দেখল তার পুরো গ্রাম ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে। তার গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা নদী খুব সরু একটা নালার মতো দেখাচ্ছে। রাতুল বিমোহিত হয়ে গেল। যেতে যেতে মেঘপরী হঠাৎ বলেÑ ‘আমরা চলে এসেছি মেঘের দেশে।’ মেঘপরীর কথায় রাতুল চোখ ফিরিয়ে দেখে, তুলোর মতো খণ্ড খণ্ড মেঘ উড়ে যাচ্ছে তাদের চারপাশ দিয়ে। মেঘপরী রাতুলকে নিয়ে একটি মেঘখণ্ডে নামল। রাতুল পা রাখতেই বুঝতে পারল, সে কোনো নরম বিছানায় পা রেখেছে। এতটাই নরম যেন সে পুরোটাই ডুবে যাচ্ছিল। তারপর সে মেঘে করে ঘুরে দেখল পুরো মেঘের দেশ। তার অনেক আনন্দ লাগে। ঘুরতে ঘুরতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো। এবার ফিরতে হবে। মেঘপরী রাতুলকে ছোট্ট একখণ্ড মেঘ উপহার দেয়। রাতুল তো দারুণ খুশি। এরপর মেঘপরী রাতুলকে পৌঁছে দিয়ে যায় তার গ্রামে। রাতুলের হঠাৎ স্বপ্ন ভেঙে যায়। রাতুল একদৌড়ে মাঠের দিকে ছোটে। স্কুলে না গিয়ে সে সারা দুপুর মাঠে অপো করে মেঘপরীর জন্য, কিন্তু মেঘপরী আসে না রাতুলকে নিতে। তবে রাতুলের তাতে মন খারাপ হয় না। সে আনন্দে দুই হাত উঁচিয়ে মাঠের মধ্যে ছুটে বেড়ায়। কারণ, কাল সে মেঘের দেশে গিয়েছিল, নিজের হাতে ছুঁয়ে দেখেছে নরম নরম মেঘ...।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.