নারী দিবস

অর্থনৈতিক সহায়তা বড় উদাহরণ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই : আনাবিয়াদ্রি, অনলাইন উদ্যোক্তা

সাক্ষাৎকার : বদরুন নেসা নিপা

বর্তমান যান্ত্রিক কর্মব্যস্ত জীনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ প্রযুক্তিনির্ভর। আর এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই নারীরাও। নিত্যনতুন প্রন্থায় প্রযুক্তির কল্যাণেই তারা তৈরি করে নিচ্ছেন নিজস্ব অবস্থান। প্রথাগত ব্যবসার পাশাপাশি তাই আজ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন ব্যবসায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে উত্তরোত্তর উন্নতি করে যাচ্ছেন নারীরা। এমনই এক নারী অনলাইন উদ্যোক্তা তাসমিয়া ইফালাত হোসেন অদ্রি। অনলাইনের সবাই আনাবিয়াদ্রি নামেই চেনে। তিনি বলেন : আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাস করে গতানুগতিকভাবেই চাকরি নেই একটি টেলিকম কোম্পানিতে। কিন্তু মন থেকে তেমন সমর্থন আসছিল না। ইচ্ছে করত নিজে কিছু একটা করে দেখাতে। তিন মাস যেতে-না-যেতেই কাজে ইস্তফা দেই। কিছু দিন পরই ২০১৩ সালে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। ঘরে বসে তখন শুধুই সন্তানের পরিচর্যা আর শিক্ষাকে কোনো কাজে লাগাতে না পারার বিষণœতা। মাথায় শুধুই একটা চিন্তাÑ নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করতে হবে। কিছু করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। সব বাধাকে শক্তি মেনে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনলাইনে ‘চাইল্ড জোন’ নামে একটা পেজ খুললাম। শুরুর দিকে আমার সংশ্লিষ্টতা ছিল যৎসামান্য। প্রথম সন্তান জন্মর ৮-৯ মাস পর একটা আইসিটি ফার্মে যোগদান করি। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর কিছুটা পিছুটান তৈরি হয়। বারবার মনে হতো চাকরি-বাকরি বৃথা, মূল হচ্ছে সন্তান। সন্তানকে ছেড়ে কাজ করতে আসা কষ্টকর। নিজের সাথে একটা সময় বোঝাপড়া করে চাকরি ছেড়ে দিলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম ‘চাইল্ড জোন’-কে ব্যাপক পরিসরে এগিয়ে নেবো। এ বিষয়ে আমার স্বামীর সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছি, এখনো পাচ্ছি। ‘চাইল্ড জোনের’ পেজে পণ্যের স্যাম্পলের ছবিসহ দাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি দেই। পণ্যটি পেজের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাদের পছন্দ হলে তারা সংখ্যা বা পরিমাণ উল্লেখ করে পণ্যটির চাহিদা ও প্রেরণের ঠিকানা জানায়। ক্রেতার চাহিদার সাথে সমন্বয় করে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা হয়। টার্গেট ছিল লাভ কম করে অনেক বেশি ক্রেতাকে সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা। ক্রেতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত ডেলিভারি করা জরুরি হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজন কর্মী নিয়োজিত আছে আমার প্রতিষ্ঠানে। নিজের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার পরিসর আরো বাড়িয়ে তুলি। শিশুদের ডায়াপার, কসমেটিকস, লোশন, সাবান, শ্যাম্পু, তেলসহ পণ্যতালিকা উত্তরোত্তর বেড়েই চলল। শিশুদের পাশাপাশি মায়েদের ব্যবহার্যসামগ্রী সরবরাহের জন্যও নিয়মিত অনুরোধ আসতে শুরু করল। এ সময় শুরু করলাম নতুন পেজ ‘মি. ও মিসেস জোন’। শিশুদের পাশাপাশি মায়েরাও তাদের কাক্সিত পণ্য পেয়ে খুব খুশি। সময়ের অভাব, পছন্দসই ডিজাইনের সামগ্রী না পাওয়ায় কিংবা যানজটের ভোগান্তির কারণে শপিংমলে গিয়ে কেনাকাটায় অনাগ্রহী ক্রেতাদের বিভিন্ন সুবিধার কথা চিন্তা করে অনলাইনে শপিং করছেন ক্রেতারা। ২০১৬ সালে আমার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। ব্যস্ততা আরো বেড়ে যায়। সংসার ও সন্তানদের আরো বেশি সময় দিতে হয়। এরই মাঝে অবসর বের করে অনলাইন ব্যবসা চালিয়ে যাই। একে একে এখন চাইল্ড জোন, চাইল্ড জোন কেনাবেচা, ক্রাফট জোন এবং আদ্রিয়ানার মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা হয়। ব্যবসা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ক্রেতাদের কাছ থেকে পাইনি পণ্যের গুণগত মান ও পরিমাণ নিয়ে। এখন আমি বেশ আশাবাদী। নতুন করে স্বপ্ন দেখি সন্তানের সাথে সাথে নিজের অনলাইন শপকেও বড় হতে দেখব। নিজ গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে এসে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং অনুপ্রেরণার বড় উদাহরণ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.