প্রি য় জ ন প ঙ্ ক্তি মা লা

শিশির মাহমুদ
বৃষ্টি শেষের আকাশ হবো

এই শহরে ভেজা মেঘগুলো-
মাঝ রাতে একা হয়ে যায়!
একটা জলপাই চোখ-
নতুন বাতাসের কস্তুরী ঘ্রাণে-
মুছে দিয়ে যায় যতসব পুরনো দীর্ঘশ্বাস।
কপোলে তরঙ্গ মেখে-
টিনের চালের আনাজ পাতারা
ফের মেঘপুঞ্জে উড়ে বেড়ায়, বৃষ্টিতে ভিজে।
দিন শেষে সন্ধ্যাতারাদের সাথে-
এই বারের মতো মৃত্যুকে আমি
ফিরে যেতে বলেছি।
আর কিছুটা দিন আমি না হয়-
ফেরিওয়ালা হয়ে কষ্ট বিক্রি করব
ভাদ্রের সকালে আলপথ দিয়ে হেঁটে হেঁটে!
যদি রৌদ্রের উত্তাপে-
কখনো ফুরিয়ে যায় উষ্ণতার ঘ্রাণ;
তবে বৃষ্টি শেষের আকাশ হবো আমি।
তুমি দেখে নিও,
বুনোহাঁসের পালকে লেপ্টে
থাকবে আমাদের সত্তা।
আর সে দিন হয়তো দু’জনই বুঝব-
রাতের পিদমের চেয়ে আলোর দাম
অনেক বেশি ছিল।
লালপুর, নাটোর

হাসান নাজমুল
এখন আপন কেউ নেই

প্রকৃতিকে কাছে টানতেই প্রকৃতি দু’হাতে নিয়ে এলো
ঝড়ের তাণ্ডব, নিমেষেই ভেঙে দিলো প্রেম-ভালোবাসা
রাতভর অল্প অল্প করে সাজানো যেসব শব্দে আমি-
লিখেছিলাম একটি গল্প, আজ সে-গল্পের শব্দগুলো
মরে গেল ঝড়ের আঘাতে; হায়! কী নিষ্ঠুর এ নিসর্গ!
পুরানো সমস্ত ভালোবাসা আজকে হঠাৎ ভুলে গিয়ে
ফেলে দিলো প্রতিকূল পথে, আমাকে চিনতে পারল না;
আমি তো কখনো ঝড় তুলে দেইনি এই নিসর্গ-বুকে,
তবে কেনো মুঠো ভরে নিয়ে এলো হিংস্র পশ্চিমা ঝড়
তবে কেন হৃদয়ের ঘর ভেঙে দিয়ে হয়ে গেল পর;
আপন ভাবব আর কাকে, এখন আপন কেউ নেই
কাউকে আপন ভাবলেই বুকে ঝড় তুলে চলে যায়।
প্রিয়জন-১৬১৬

জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ
অর্বাচীন
তুমি লিখে দিতে পারো; তুমি বলে দিতে পারো;
সকালের কবিতা, দুপুরের কবিতা
অথবা সন্ধ্যায় গড়া রাতের কবিতা,
আমি তোমায় কবিতার মতো চাই।
তোমার বুকের হাড়গুলোও যদি মিথ রচনা করে,
তাহলে কেউ আর
অজুহাতেও ছেড়ে যাবে না এ শহর,
তুমি বাতাসের মা...
হয়তো আমি তোমার কেউ;
সব অবসাদের ঘরোয়া নজরে
প্রলেপ দিতে থাকি-
তোমাকে জানা হলো;
তোমাকে বোঝা হলো,
তোমাকে কবিতার মতো দেখতে চাইলাম
কবিতার ভেতর টুকে দিলাম,
অথচ তুমি কবিতা হলে না, মেয়ে...

সুমন আহমেদ
ভোরের মেঘ

একটি পরিপূর্ণ সকাল আঁকতে পারিনি বলে-
আজো শিল্পী জীবন ব্যার্থতায়;
শত চেষ্টা করেও
রঙতুলিতে সাজাতে পারিনি
কুহেলি-ও রোদ্দুর ভালোবাসা।
ভোরের মৃদু আলো এসে
গায়ে জড়াতে-ই দেখেছি
রাত্রির কোমল বিছানায়
সুখের নিদ্রা ভঙ্গ করে
দলছুট পাখিদের ছুটে যাওয়া
বিশালতামুক্ত নীলাভ নভোপ্রাঙ্গণে,
জীবন প্রদীপ জ্বলতে না জ্বলতেই
ঝরে যাওয়া শিউলির মতো
নিভতে দেখেছি-
অসহায় পাখিদের অশ্রুঝরা কান্না।
শত আকাক্সক্ষার কাক্সিক্ষত
দীর্ঘ রাত্রির প্রত্যাশার তিলে তিলে
গড়া সমস্ত আয়োজন
ভেঙে দিলো ভোরের মেঘ।
নবীনগর, প্রিয়জন।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা
তুমি আছো বলে

দিনের প্রতিটি অংশে তোমার ছায়াময় স্পর্শ
ছুঁয়ে যায় এক মাতাল হাওয়ার সুরে
নিজেকে হারিয়ে ফেলি কোনো এক নীরব জগতে
ভেবে বুকের গহিনে মিষ্টি আলোয় দূরে।
ভালোবাসার বৃষ্টি নয়; আমি তো শুধু তোমার
এমন হয় গো আজ থেমে থেমে হৃদয়ে
তুমি কেন এলোমেলো কিসের ভাবনায়
জানালার গ্রিল ধরে থাকো দাঁড়িয়ে।
বেলায় বেলায় হারিয়ে বেড়াই তোমার চোখে
হাতের আলতো স্পর্শে ছুঁয়ে দেখা
আমি ধন্য একজীবনে তুমি আছো বলে
কেটে যাবে ওগো আমাদের সুখের রেখা।
উত্তর জায়লস্কর, ফেনী

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.