ভবিষ্যতে দেশে বাড়বে পাগল!
ভবিষ্যতে দেশে বাড়বে পাগল!

ভবিষ্যতে দেশে বাড়বে পাগল!

মেহেদী হাসান

কথা হচ্ছিল রাজধানীর বনশ্রীতে অবস্থিত নামকরা একটি স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে অভিভাবকদের সাথে। পঞ্চম শ্রেণীর বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর অভিভাবক বললেন, সন্তানদের বই শুধু দিন দিন কঠিনই হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে সৃজনশীল পদ্ধতি। এ সময় একজন অভিভাবক বলে ওঠেন, বই যেভাবে কঠিন করা হয়েছে আর যেভাবে ছোট শিশুদের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে তাতে এক দিন তারাও পাগল হবে, আমরাও পাগল হবো। পড়ার চাপে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পাগলের সংখ্যা বাড়বে।
আরেক অভিভাবক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এখন ছোট শিশুদের বই আর পড়ালেখা যে কঠিন করা হয়েছে তাতে এ বই আমাদের সময় থাকলে আমরা পাস করতে পারতাম না।


আরেক অভিভাবক বলেন, ভাই আমাদের কষ্টের কথা বলে বোঝাতে পারব না। সন্তানদের পড়া সামলাতে গিয়ে আমাদের ঘর-সংসার সব শেষ হয়ে গেল। হাসি, আনন্দ, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়ানো, ছুটি কাটানো এসব হারিয়ে গেছে জীবন থেকে। সারাক্ষণ শুধু এক চিন্তা কিভাবে পরীক্ষায় ভালো করা যাবে।


অভিভাবকেরা সবাই একবাক্যে বলেন, সরকারকে বলেন, সৃজনশীল উঠিয়ে দিক আর সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষা দু’টি বাতিল করুক। আমরা একটু হাফ ছেড়ে বাঁচতে পারব। এ পরীক্ষা আর সৃজনশীল আমাদের জীবন শেষ করে দিয়েছে। তার পর রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। এত কষ্ট করে ভালো পড়ালেখা করেই বা কী হবে। যারা পড়বে না তারাও পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাবে আর ভালো ফল করবে।


কয়েকজন অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করলেন এমসিকিউ বাতিল হওয়া বিষয়ে। তারা বলেন, এমসিকিউ বাতিল হয়েছে ভালো কিন্তু তার পরিবর্তে এক কথায় উত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, শূন্যস্থান পূরণ প্রভৃতি তুলনামূলক সহজ বিষয় দিতে পারে। কিন্তু তা না করে সব করে দেয়া হলো সৃজনশীল। ছোট শিশুদের এভাবে সব প্রশ্ন সৃজনশীল করা খুবই ভয়াবহ। এটি একঘেয়েও বটে। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত মান বণ্টন বিষয়ে কিছু জানানো হলো না। সব কিছু নিয়েই শুধু টেনশন আর টেনশন। এভাবে কি মানুষ সুস্থ থাকতে পারে?


অষ্টম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীর মা বললেন, আগে ছিল সাতটি সৃজনশীল। আড়াই ঘণ্টা পরীক্ষা। সাতটি সৃজনশীল লিখতে লিখতেই ছেলে-মেয়েদের হাত বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষা শেষে তারা হাত সোজা করতে পারে না। তার পর যদি এমসিকিউ বাদ দিয়ে ১০টি সৃজনশীল করা হয়, তাহলে কখনওই তারা লিখে শেষ করতে পারবে না। তিনটি সৃজনশীল প্রশ্ন বাড়বে আর সময় বাড়াবে মাত্র আধা ঘণ্টা।


সমাপনী পরীক্ষা সামনে রেখে রাজধানীর নামকরা একটি স্কুলে প্রতি শনিবার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট গ্রহণ করা হচ্ছে। গত ৩ মার্চ গণিত ও বাংলা বিষয় দিয়ে মডেল টেস্ট গ্রহণ শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসার পর অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক অস্থিরতা। কারণ গণিত এসেছে বইয়ের বাইরে থেকে। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে দেখা গেল কান্না করতে করতে বের হচ্ছে পরীক্ষার হল থেকে। অনেকে জানাল তারা সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।

এসব কারণে ওই স্কুলের সামনে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। কয়েকজন অভিভাবক জানালেন, ভাই আমাদের পাগল করে দিচ্ছে এই সমাপনী পরীক্ষা ও সৃজনশীল পদ্ধতি। গণিতেও সৃজনশীল। কোথায় যাবো আমরা বলেন। এত ছোট শিশুদের পরীক্ষায় গণিত দেয় ঘুুরিয়ে পেঁচিয়ে। বাসায় পড়ে একটা, আসে আরেকটা। গণিতে নাম, সংখ্যা এসব পাল্টে দেয়। সব শিশু কি এসব ধরতে পারে? যারা একটু কম মেধাবী তাদের অবস্থা কী হচ্ছে ভাবুন। বাসায় যেটা প্র্যাকটিস করে সেটাও যদি হুবহু আসে তাও ভুল করে বসে তারা। জানা বিষয়ও তারা ভুল করে মনোযোগের অভাবে। তার পর যদি অদল-বদল করে দেয়, তাহলে শিশুরা কী করবে?


অনেক অভিভাবক বলেন, সৃজনশীল আর সমাপনী জেএসসি পরীক্ষার কারণে প্রায় সব অভিবাবক তাদের সন্তানদের কোচিং ও প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য এখন। এসব পরীক্ষা আর সৃজনশীল ব্যবস্থা না থাকলে আমাদের এত হয়রানি হতে হতো না। শিশুদেরও এত চাপ দেয়ার দরকার হতো না।
অনেক অভিভাবক বলেন, স্কুলে যা পড়ায় তার ওপর নির্ভর করলে পাস নম্বর তুলতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে। ভালো রেজাল্টের জন্য শুধু স্কুলের পড়ার ওপর নির্ভর করা যাচ্ছে না কোনো অবস্থায়ই।

সন্তানদের বই আর কঠিন পড়ালেখা নিয়ে একজন অভিভাবক গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মাশাআল্লাহ। আমার ছেলে অনেক বড় ক্লাসে (পঞ্চম) পড়ে। আমার আর তাকে পড়ানোর যোগ্যতা নাই (আমার পড়াশোনা নিয়ে আমার আস্থা ছিল)। বাচ্চাকে পড়াতে গিয়ে মাঝে মাঝে তব্দা খাই।’
এম এ পাস এ অভিভাবক তার পঞ্চম শ্রেণী পড়া ছেলের বাংলাদেশ অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজ বই থেকে নিচের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।


In pairs, write a short presentation on one of our textile industries or cottage industries. describe the raw materials it uses and how it processes them. present to the class.

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.