সর্বত্রই সঙ্কট
সর্বত্রই সঙ্কট

সর্বত্রই সঙ্কট

সালাহউদ্দিন বাবর

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে নানা সঙ্কট। এই সঙ্কট কোনো দল বিশেষের নয়, সঙ্কট সরকারের তথা সরকারি দলের, সংসদে সরকারের অনুগত বিরোধী দলের এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন ত্রিমুখী সঙ্কট যদি বিরাজমান থাকে, তবে দেশ চলবে কিভাবে! গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শুধু ক্ষমতাসীন বা সরকারি দলই দেশ পরিচালনা করে না। বিরোধী দল, সংসদেই হোক বা বাইরে, দেশ পরিচালনায় তাদেরও ভূমিকা থাকে। কিন্তু এখন বাংলাদেশে উল্লিখিত তিন শক্তির কেউই ভালো অবস্থায় নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকা দরকার, সেটা বিরাজ করছে না। এর ফলে অনেক উপসর্গ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। আর সে কারণে নাগরিক জীবনেও নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে এখন অনুযোগ করেও কোনো ফল হচ্ছে না।

সরকারের সমস্যা হচ্ছে, তাদের কাছে শুধু ‘রাজনীতি’ প্রাধান্য পাচ্ছে এবং আগামীতে আবার কিভাবে ক্ষমতায় আসবে, তার হিসাব-নিকাশ কষাই মূল গুরুত্ব পাচ্ছে। বিরোধী দলকে কেমন করে কোণঠাসা করে রাখা যায়, সেটাই বড় ভাবনা। তাদের ওপর মামলার পাহাড় চাপিয়ে রাখা হচ্ছে। বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপিকে গণবিচ্ছিন্ন করার জন্য তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পর্যন্ত বাধা দেয়া হচ্ছে। এসব দিকে মনোযোগ দেয়ার কারণে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনের শাসনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে নিচে যে দেশগুলো আছে তার অন্যতম বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিচে আছে যে তিনটি দেশ, তার মধ্যেও রয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ায় সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে কম্বোডিয়া। তার এক ধাপ উপরে পাকিস্তান। আর তার ঠিক উপরে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ভারতের ডাটলিডসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। লক্ষ করা যায়, আইনের শাসন না থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে সুশাসনের অভাব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটা দেখা যায় যে, ক্ষমতাসীনদের ‘নিজস্ব’ লোকজন আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে মারাত্মভাবে। জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি অনিয়ম ছড়িয়ে পড়েছে।

সংসদে সরকারের ‘অনুগত বিরোধী দল’ জাতীয় পার্টি তাদের অবস্থান সরকারে না বিরোধী দলে, তা বুঝে উঠতে পারছে না। নিজেদের অবস্থান কোথায়, তা নির্ণয়ের ক্ষমতাও তাদের নেই। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বক্তব্য দানকালে জাতীয় পার্টি নেত্রী রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির (জাপা) সম্মান বাঁচাতে মন্ত্রিসভায় দলটির সদস্যদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মন্ত্রিসভায় তারা থাকবেন কি না সে সিদ্ধান্ত নেয়ার অবস্থানেও নেই দলটি। সংসদে রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন : আমরা সরকারি দল, না বিরোধী দল, কোনটি আমরা? তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে নিজেদের পরিচয় দিতে পারি না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা লাগে। কারণ সবাই জানতে চায়, জাতীয় পার্টি সরকারি দল, না বিরোধী দল? তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম আমাদের মন্ত্রীগুলোকে উইথড্র করে নেন, আমাদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে দেন। কিন্তু আমি জানি না, কেন সেটা হয়নি। অর্থাৎ, পরিচিতি সঙ্কটে জাপা এখন ভুগছে।

বিএনপি নানা সমস্যায় রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। ২০১৪ সালে তাদের পক্ষে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হয়নি। তারা তখন চেয়েছিলেন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন। কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা তাদের সেই ন্যায্য দাবি পূরণ করতে সম্মত না হওয়ায় বিএনপির সে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। সেই থেকে বিএনপি নিরপেক্ষ ও প্রশ্নহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি নিয়ে সোচ্চার রয়েছে। আগামী নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে দাবিতে বিএনপি এখন সোচ্চার। বস্তুত এটা দেশের সব শ্রেণীর মানুষ চায়। ভালো নির্বাচন হলে সবাই তাতে অংশ নেবে, স্বাধীনভাবে ভোট দেবে। এর মধ্যে তো কোনো রাজনীতি নেই, কোনো হীন মানসিকতা নেই। নির্বাচনে কত ভালোভাবে জনমত প্রতিফলিত হবে, সেটাই সবার কামনা ও প্রয়াস হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে যত প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি আসে তাকে স্বাগত জানায় সবাই। তবে লক্ষ করার বিষয় হচ্ছে প্রশ্নহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে যত মতবিরোধ। নিশ্চয়ই এটি অবাক হওয়ার মতো। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, ক্ষমতাই যদি শুধু নিছক রাজনীতির উদ্দেশ্য হয়, তবে জনকল্যাণ কার দ্বারা কিভাবে হবে?

রাজনীতিতে ক্ষমতার নিমিত্ত হওয়া উচিত, কত ভালোভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়টি। এ জন্যই ক্ষমতার আকাক্সক্ষা থাকা উচিত। আজ পৃথিবী আর সনাতন পদ্ধতিতে এগিয়ে যাবে না। বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও আধুনিকতার প্রয়োগ পদ্ধতি রপ্ত করতে হবে। এ জন্য দলগুলোর গবেষণা, জপির ও তথ্য হালনাগাদ থাকতে হবে। আমরা যদি দেশের দলগুলোর দিকে দৃষ্টি দেই, তবে হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অতীতে রাজনীতির স্বরূপ এবং রাজনীতিবিদদের ভূমিকা যা ছিল আজ সেখানে বহু বড় বড় ঘাটতি রয়েছে, রাষ্ট্রীয়ব্যবস্থায় বহু মারাত্মক দুর্বলতা লক্ষ করা যায়।

সংসদ নির্বাচন নিয়ে স্বস্তি নেই। দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হলে এর কারণগুলো পরিষ্কার হবে। নির্বাচনের প্রধান দু’পক্ষ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয় মতপার্থক্যের আরো বিস্তৃতি ঘটেছে। অথচ তাদের কাছাকাছি আসাটা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে জরুরি। যেকোনো একপক্ষ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী না হয়, তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। গত প্রায় ১০ বছর বাংলাদেশ বস্তুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে না। এটা শুধু অগণতান্ত্রিকই নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শুদ্ধতার বরখেলাপ। আগামীতেও যদি এমনটি হয় তবে তা হবে দেশের জন্য আত্মঘাতী। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে যদি সত্যিকার জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা না থাকে, তা হলে আর জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কার্যকর থাকে না। এর ফলে নানা ক্ষতিকর উপসর্গ দেখা দেয়, যা ইতোমধ্যে এ দেশে লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশের বাইরেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়ে থাকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এ বিষয়গুলো নিয়েও তিক্ত আলোচনা হচ্ছে, যা দেশের ভাবমর্যাদাকে খাটো করছে।

বিএনপি বিরাজমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলছে, বর্তমান সময়ে তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছেন না। তারা নানা দিক থেকে বৈষম্যের শিকার। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনেরা নানাভাবে ও নানা প্রক্রিয়ায় নির্যাতন চালাচ্ছেন। সমআচরণ থেকে বঞ্চিত বিএনপি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এদিকে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া এখন কারারুদ্ধ, এটা দলটির জন্য একটি বড় সমস্যা। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হবে কি? এটা তারা পূর্বাপর বলে আসছেন, দল নেত্রী ছাড়া তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। এদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘সংবিধান অনুসারে’ নির্বাচন হবে, তাতে কেউ অংশ না নিলে তাদের ‘করার কিছু নেই’। অর্থাৎ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টির যে দাবি বিএনপিসহ বিরোধী দল করছে, তা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের কোনো আগ্রহ নেই। এ অবস্থায় আসলে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান আশা করা যায় না। বেগম জিয়া যেমন মামলায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, অনুরূপ মামলায় জড়িত ছিলেন এখনকার সরকারি দলের বহু শীর্ষস্থানীয় নেতা। তারা ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেন। অথচ তাদের বিরোধী দলের নেতাদের মামলাগুলো জারি রাখেন। অথচ এসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল ১/১১ সরকারের আমলে; যার উদ্দেশ্য ছিল ষড়যন্ত্রমূলক এবং রাজনীতিবিদদের হেনস্তা করা।

এদিকে, অংশগ্রহণমূলক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা খুব স্পষ্ট না হলেও আন্তর্জাতিকভাবে বহু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পরিষ্কার বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমের দেশগুলো এবং জাতিসঙ্ঘ সুষ্ঠু অবাধ ও সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছে। অপর দিকে, বর্তমান সরকারের অধীনেই ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ অনুষ্ঠানে সহায়তা দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিদেশীদের এ ব্যাপারে যতটুকু আগ্রহ রয়েছে, তার চেয়ে এটা বেশি প্রয়োজন বাংলাদেশের জনগণের। কেননা গত প্রায় এক দশক দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সুশাসন আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে দেশে শাসনব্যবস্থা দুর্বল এবং অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন শিথিল হয়ে পড়লে জনগণের দুঃখ কষ্ট দেখার বিষয়ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

জনগণ কোন দলকে পছন্দ করবে সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা একান্ত নির্ভর করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অভিপ্রায়ের ওপর। তবে দুটো বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। নির্বাচনে জনগণ পছন্দ করবে একটি দলকে। জনগণ যাকেই পছন্দ করুক, সে বিষয়টি নির্ধারণের জন্য সব দলের নাম ব্যালট পেপারে থাকতে হবে। সবার নাম ব্যালটে না থাকলে নির্বাচন প্রশ্নহীন ও গ্রহণীয় হবে না। তা ছাড়া ভোটের সামগ্রিক প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম যাতে স্বচ্ছ হয়, দেশের সব ভোটার যাতে বাধা ও চাপমুক্ত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই স্বাভাবিক ও কাক্সিক্ষত অবস্থাটা সৃষ্টি করার ব্যাপারে প্রশাসনে এমন মানসিকতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত। আসলে একটি ভালো নির্বাচনের জন্য সরকার বা প্রশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন তাদের সেই প্রশাসনের ওপর আস্থা থাকা খুবই জরুরি। একটি ভালো মানের নির্বাচনের ব্যাপারে কারোই দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই। এটা গণতন্ত্রের মূল চেতনা। এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যারা প্রধান পাত্র-মিত্র তথা সব রাজনীতিক, তাদের এ জন্য ফলপ্রসূ কাজ করা প্রয়োজন। কিন্তু যতদূর দেখা যায়, এ ব্যাপারে প্রধান দলগুলোর মধ্যে বিরাট মতপার্থক্য রয়েছে। এটা অবিলম্বে দূর হওয়া উচিত। আর সেজন্য অবশ্যই সংলাপ আয়োজন করতে হবে।

পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন সময় সংলাপের মাধ্যমে পরস্পর বৈরী পক্ষের মধ্যে এমন কি বিশ্বযুদ্ধসহ নানা যুদ্ধ বিগ্রহের অবসান ঘটেছে। তারা বৈরী অবস্থা থেকে মিত্র হয়ে উঠেছেন। এখনো কার্যকর আলোচনা করে বন্ধ করা যায় পারস্পরিক শত্রুতা। মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত নাজুক। তার পরও জরুরি অবস্থায় দুই পাশের সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস পায়। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংলাপ করে সমঝোতায় পৌঁছার নজির নেই। অতীতে বারকয়েক সংলাপ হয়েছে বটে। কিন্তু কোনো সফলতা আসেনি। এমনকি বেশ আগে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায়ও সংলাপ হয়েছিল, তাও ফলপ্রসূ হয়নি। এবারে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক সরকারের প্রশ্নেও বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েক দফা সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তাব দেয়া হলেও, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তা সাথে সাথে নাকচ করে দেয়া হয়। তাই নির্বাচন প্রশ্নে মতপার্থক্য ব্যাপকভাবে বিরাজ করছে। আর এ প্রশ্নটি সুরাহা না হলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করবেই। নির্বাচনের বেশি সময় হাতে নেই। এখন তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে তা দূর করার জন্য আশু উদ্যোগী হতে হবে।

যদি ধরে নেয়া যায় যে, রাজনীতিকরা সমঝোতায় উপনীত হলেন। তারপরও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আরো একটি অধ্যায় রয়েছে। সেই অধ্যায়টি হলো নির্বাচন কমিশনের পারঙ্গমতা বা যোগ্যতা। যেকোনো নির্বাচনে সব প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিজয়ী হওয়ার দুর্দম মানসিকতা থেকে নির্বাচনে বল প্রয়োগ ও পেশিশক্তির ব্যবহারের হাজার নজির হয়েছে। একই সাথে থাকে ক্ষমতাসীনদের অন্যায় হস্তক্ষেপ যাতে নির্বাচনী পুরো প্রক্রিয়াটা তাদের অনুকূলে আসে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জনগণের পক্ষে স্বাধীন ও চাপমুক্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়া সম্ভব হবে না। জনগণ যদি তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন না ঘটাতে পারে, তবে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়বে। এটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নেহায়েত আশঙ্কা নয়। অতীতে বহুবার এমন গুরুতর অন্যায় অনিয়ম হয়েছে। তাই ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সব আয়োজন হওয়ার পর যদি নিরাপত্তার প্রশ্নই উপেক্ষিত হয় তবে সব কিছু ব্যর্থ হয়ে যাবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের আরেকটি শর্ত হচ্ছে, নির্ভুল ভোটার তালিকা। এই তালিকায় দেশের ভোটার হওয়ার যোগ্য সব নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া সবার গণতান্ত্রিক অধিকার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.