নতুন টেস্টে ৯০ সেকেন্ডেই জানা যাবে ত্বকে ক্যান্সার রয়েছে কিনা
নতুন টেস্টে ৯০ সেকেন্ডেই জানা যাবে ত্বকে ক্যান্সার রয়েছে কিনা

ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে কিনা, জানা যাবে দেড় মিনিটে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন দ্বার উন্মোচন হলো। এক পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র নব্বই সেকেন্ডে অর্থাৎ দেড় মিনিটেই জানা যাবে কারো ত্বকের ক্যান্সার আছে কিনা। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা ক্যান্সার শনাক্ত করার এই নতুন পরীক্ষা চালু করেছেন।

গবেষকরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির ত্বকে মেলানোমা অর্থাৎ ত্বকে মেলানিন নামে যে পদার্থ আছে তার কোষে কোনো ধরণের টিউমার তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কিনা, দেড় মিনিটেই এই পরীক্ষা তা বলে দিতে পারবে।

এই টিউমারই পরবর্তীতে ত্বকের ক্যান্সার তৈরি করে।

কোন ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, ত্বকে আঁচিল, তিল বা আঘাতের চিহ্ন, চুলের রঙ এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্ন থাকে টেস্টে।

বলা হচ্ছে, পরীক্ষাটি খুবই নির্ভুল।

ত্বকের ক্যান্সারের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় গবেষণাগারে এই টেস্ট বা পরীক্ষা উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত গবেষণাটি এবং এই টেস্টের কথা অস্ট্রেলিয়ার জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে প্রকাশিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি হওয়া ক্যান্সারের মধ্যে মেলানোমা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচজন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাযন।

পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে এই ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয় মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে এক শতাংশ মানুষ জীবনে একবার এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

ত্বকের ক্যান্সার ঠিক কি কারণে হয়, সেটি নির্দিষ্ট করে জানা যায় না। তবে সূর্য রশ্মি এবং বংশগত কারণকে এজন্য দায়ী করা হয়। এছাড়া যাদের ত্বকে তিল বেশি তাদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে টিউমার শনাক্ত করা গেলে, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে।

 

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে যেভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

অতিরিক্ত মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা খাবার গ্রহণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানিয়েছেন ফরাসি গবেষকরা।

কেক, চিকেন নাগেট ও বড় পরিসরে উৎপাদিত রুটিকে "অতিরিক্ত প্রকিয়াজাতকৃত" খাবারের মধ্যে রেখেছেন গবেষকরা।

এক লাখ পাঁচ হাজার লোকের উপর চালানো এক পরীক্ষায় দেখা গেছে যত বেশি এই ধরনের খাবার গ্রহণ করা হয়, ক্যান্সারের ঝুঁকি ততই বেড়ে যায়।

এই গবেষণা নিয়ে অনেকে বিতর্কিত মত পোষণ করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন সুস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণই সর্বোৎকৃষ্ট।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কোনগুলি :

•বড় পরিসরে উৎপাদিত প্যাকেটজাত রুটি

•মিষ্টি বা মসলাযুক্ত স্ন্যাকস

•চকলেট বার ও মিষ্টি

•সোডা ও কোমল পানীয়

•মিটবল, পোলট্রি ও ফিশ নাগেট

•ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও স্যুপ

•ফ্রোজেন ও রেডি খাবার

•চিনি, তেল ও চর্বি দিয়ে তৈরী খাবার

খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকির অন্যতম প্রধাণ কারণ হিসেবে এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

ধূমপান বন্ধ করার পর ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ অথিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রক্রিয়াজাত মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ায়।

ইউনিভার্সিতে সোরবোন পারী সিতে'র একটি গবেষণা দল গড়ে ৫ বছর ধরে এই গবেষণা চালায়। জরিপের অধিকাংশ অংশগ্রহনকারীই ছিল মধ্যবয়সী নারী।

ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় উঠে আসে, খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের হার ১০% বাড়লে, ক্যান্সারের ঝুঁকি ১২% বেড়ে যায়।

এই গবেষণা চালানোর সময় :

•গড়ে ১৮% মানুষের খাবার ছিল অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত

•গড়ে প্রতি বছর ১০ হাজার লোকের মধ্যে ৭৯ জনের ক্যান্সার দেখা গেছে

•প্রক্রিয়াজাত খাবারের হার ১০% বাড়ানোর ফলে বছরে প্রতি ১০ হাজারে অতিরিক্ত ৯ জনের ক্যান্সার ধরা পড়ে

গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ বাড়ার সাথে সাথে আগামী কয়েক দশকে ক্যান্সার অঅক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে তারা জানান এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো বড় আকারের জরিপ ও গবেষণা চালানো প্রয়োজন।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ক্যান্সারের মধ্যে নিশ্চিত কোনো সম্পর্ক এই গবেষণায় উঠে আসেনি।

এই গবেষণা থেকে বলা যায় না যে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ক্যান্সারের একটি কারণ।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে'র প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর লিন্ডা বল্ড বলেন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণকারীদের ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে, আর ওজন বৃদ্ধির কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাদ্যাভ্যাস ও ওজনের পারস্পরিক সম্পর্ক আলাদাভাবে বিচার করা কঠিন।

বল্ড বলেন "এই গবেষণা আমাদের জন্য একটি সতর্কতাবার্তা দেয়, তবে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে স্বল্প পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের বিষয়ে দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়।"

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার বিষয়ে ভিন্ন মত ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.