অ্যাডভেন্ট ফার্মার আইপিও ফল আজ

টানা দরপতনে ৮ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসই সূচক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দ্বিতীয় দিনের মতো বড় দরপতনের শিকার হয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। রোববারের ৫৪ দশমিক ৬২ পয়েন্টের পর গতকাল আবারো ৬৭ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট অবনতি ঘটে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটির। আর এভাবে গত আট মাসের সর্বনি¤œ অবস্থানে নেমে এসেছে ডিএসই সূচক। দিনের শুরু থেকে বিক্রয়চাপের মুখে পড়া পুঁজিবাজার পরবর্তীতে আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারায় বড় দরপতনের শিকার হয়। তবে বাজারগুলোয় লেনদেন বাড়লেও দর হারায় লেনদেন হওয়া ৮২ শতাংশ কোম্পানি।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৬৭ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট হ্রাস পায়। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৭৩ ও ১৩ দশমিক ০৩ পয়েন্ট। ৫ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৭০৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে। ২০১৭ সালের ২ জুলাইয়ের পর ডিএসইর প্রধান সূচকটি আর এ পর্যায়ে নামেনি। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক হারায় যথাক্রমে ২২৮ দশমিক ৪২ ও ১৩৬ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচকের যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৭৩ ও ১৩ দশমিক ৪২ পয়েন্ট অবনতি ঘটে।
সূচকের ধারাবাহিক অবনতি সত্ত্বেও গতকাল দুই পুঁজিবাজারে লেনদেনের উন্নতি ঘটে। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল ২৯৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৬২ কোটি টাকা বেশি। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ২৩৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ১২ কোটি টাকা থেকে ৪৫ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন। তবে বাজারটিতে এককভাবে গ্রামীণফোনের ৩৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিভিন্ন কোম্পানির বড় ধরনের দরপতনের ফলে উন্নতি ঘটেছে লেনদেনের। কারণ বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বরাবরই টেলিফোনে শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দিয়ে থাকেন। সার্বক্ষণিক বাজার আচরণ তাদের নজরে থাকে না। ফলে ক্রয় আদেশ যত নিচেই দেয়া হোক না কেন বড় দরপতনের ফলে এ ধরনের ক্রয়াদেশগুলো বলবৎ থাকে।
এদিকে পুঁজিবাজার থেকে সদ্য মূলধন উত্তোলন করা কোম্পানি অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) লটারির ফল আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, রমনায় কোম্পানির লটারির ড্র অনুষ্ঠান হবে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি, রোববার থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার পর্যন্ত কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর আগে গত ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিএসইসির ৬২২তম কমিশন সভায় অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেডের আইপিও অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। কোম্পানিটিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ক্রয়, ভবন নির্মাণ এবং আইপিওর খরচ বাবদ এ টাকা ব্যয় করবে। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল যৌথভাবে ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড, আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেড।
রোববারের মতো গতকালও দিনের শুরুতেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ডিএসইএক্স সূচকের ৫ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে। বেলা যত বাড়ছিল দরপতনের শিকার হচ্ছিল লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলো। ফলে ব্যাপকভাবে নি¤œমুখী হয়ে ওঠে ডিএসই সূচক। সূচকের এ পতন অব্যাহত থাকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এ সময় ডিএসই সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৬৯৪ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে ডিএসই সূচকের অবনতি হয় প্রায় ৭৯ পয়েন্ট। দিনের শেষ দিকে হারানো সূচকের কিছুটা ফিরে পায় পুঁজিবাজারটি। দিনশেষে ৬৭ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৭০৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।
দুই পুঁজিবাজারের সব খাতেই ব্যাপক দরপতন ঘটে গতকাল। বেশ কয়েকটি খাতে পতনের শিকার হয় শতভাগ কোম্পানি। এগুলোর মধ্যে ছিল ব্যাংক, নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সেবা, পাট, কাগজ, টেলিকমিউনিকেশন, চামড়া ও বিবিধ খাত। অন্য খাতেগুলোয় হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ৩৩৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৭৩টি, যা লেনদেন হওয়া কোম্পানির প্রায় ৮২ শতাংশ। অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির দর। অপর দিকে, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২১৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৪টির দাম বাড়ে, ১৯১টির কমে এবং ১৩টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখে মুন্নু সিরামিকস। ২০ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১৪ লাখ ৪৩ হাজার শেয়ার হাতদবদল হয় গতকাল। ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় ৩৫ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ড্রাগন সোয়েটার ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, এপেক্স ফুড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ইফাদ অটোস, ফরচুন স্যুজ ও লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.