মফস্বলে চিকিৎসার বেহালদশা

কর্মস্থলে নেই বেশির ভাগ ডাক্তার

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে সরকারি চিকিৎসাসেবা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে চিকিৎসকদের গ্রামের মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য জোর আহ্বান জানানো হলেও কার্যত এর কোনো বাস্তবতা দেখা যায়নি আদৌ। সহযোগী একটি দৈনিক কর্মস্থলে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়ে একটি ক্রোড়পত্র ছেপেছে। ওই ক্রোড়পত্রে বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ে চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা হয়। পত্রিকাটি প্রতিবেদনে চিকিৎসা প্রশাসনের হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক অনুপস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলায় পদায়ন হলে চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে থাকতেই চান না। ডাক্তারদের মফস্বলে যোগদান ও উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে অনীহার ব্যাপারটি বহুল আলোচিত। এ সমস্যা সমাধানে আন্তরিক কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কেন ডাক্তাররা সেখানে থাকতে চান নাÑ তা নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা হয়নি। ফলে গ্রামের মানুষেরা সরকারি চিকিৎসার উপযুক্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় একটি উপজেলায় একজন ডাক্তারের যোগদানের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিতির চিত্র সংবলিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ৪ অক্টোবর তিনি নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তখন মাত্র এক দিন অফিস করেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় ১৬ অক্টোবর আবার এক দিন মাত্র উপস্থিত ছিলেন কর্মস্থলে। এরপর আর কাজে ফেরেননি ওই চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, সে ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ জানেন না। ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ পদের বিপরীতে ৯ জন চিকিৎসকের পদায়ন হয়েছে। তবে তাদের কেউ কর্মস্থলে যান না। এ অবস্থায় আসলে একটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় কী অবদান রাখতে পারে? প্রকৃতপক্ষে কোনো অবদানই রাখতে পারে না। সারা দেশের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার উপস্থিতির হার ঘুরেফিরে একই অবস্থা বিরাজ করছে। সরকারি হিসাবে ৬০ শতাংশ ডাক্তার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। গ্রামে চিকিৎসক উপস্থিত করার জন্য কর্মস্থল আকর্ষণীয় করা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে মফস্বলে যোগদান নবীন ডাক্তারদের নিজেদের চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত নয়। বড় শহরগুলোতে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় গ্রামে তা দেয়ার চেষ্টা করা হয়নি। একইভাবে ডাক্তারদের সেবা নেয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেমন জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা থাকে, সেটাও নেই। কর্মস্থলে অনুপস্থিতিই একটা সংস্কৃতি হয়ে গেছে। এ ধরনের অবহেলার জন্য উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও দেখা যায় না। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।
মূলত জনগণের করুণা নিয়ে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কিছু অর্জন করতে পারেন। চিকিৎসকদের নিজেদেরই এ ব্যাপারটি নিয়ে ভাবা দরকার। ডাক্তারদের নিজেদের মধ্যে চেতনা জাগতে হবে। যাদের জন্য তৈরি করা হলো, তারাই যদি বঞ্চিত হনÑ তাহলে এই ডাক্তার সৃষ্টি অর্থহীন থেকে যায়। একইভাবে চিকিৎসা প্রশাসনের আদেশ-নিষেধ বাস্তবায়ন করার ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.