বাড়ছে ধনী ও গরিবের ব্যবধান

সুশাসনের মাধ্যমেই উত্তরণ সম্ভব

দেশে ধনী ও গরিবের ব্যবধান বাড়ছে। শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনী পরিবারের হাতে চলে গেছে দেশের মোট আয়ের ৩৮ শতাংশ। জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে বৈষম্য বাড়ছে। সংস্থাটি বলছে, আয়ের এত বড় অংশ কিভাবে মাত্র ১০ শতাংশের হাতে কুক্ষিগত হলো, তা বুঝতে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে অবাধে ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেয়া, পুঁজিবাজার কারসাজি, কর ফাঁকি, সরকারি কেনাকাটা ও ব্যয়ে দুর্নীতি সর্বোপরি ভূমি দখলের ঘটনাগুলোই যথেষ্ট। এ প্রক্রিয়ায় কিছু মানুষের হাতে আয়বণ্টন কেন্দ্রীভূত হওয়ার অর্থ হলো, জাতীয় আয়ে বাকিদের অংশ কমছে। ইউএনডিপি বলছে, আয়ের কেন্দ্রীভবন এত দ্রুত ঘটছে যে, সম্পদশালী পরিবারগুলো আরো বেশি ধনী হচ্ছে, অন্য দিকে আরো বেশি নাজুক হচ্ছে সবচেয়ে দরিদ্র ও ভঙ্গুর জনগোষ্ঠী।
এভাবে একটি দেশে যখন বৈষম্য বাড়তে থাকে, তখন সমাজে নানা মাত্রায় অস্থিরতাও বাড়ে। বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে। আয়বৈষম্যের এ চিত্র থেকে চারটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ইউএনডিপি। প্রথমত, দেশে আয়বৈষম্য ছয় বছরে প্রকট হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এ সময়ে সবচেয়ে দরিদ্র ও নাজুক অংশটি আরো দরিদ্র হয়ে উঠেছে। তৃতীয়ত, সবচেয়ে ধনী অংশ দ্রুত আরো সম্পদশালী হয়ে ওঠায় তাদের মধ্যেই আয় আরো কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। চতুর্থত, দারিদ্র্যের মাত্রা গ্রামীণ দরিদ্রদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি।
বিশ্বের বহু দেশে এভাবে বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ বিচারে দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বাংলাদেশে এর প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ লুট ও দুর্নীতির মাধ্যমে মাস্তানতন্ত্র কায়েম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। কিন্তু কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না যদি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা না যায়। বাংলাদেশ চলছে সম্পূর্ণ উল্টো পথে।
ইউএনডিপি ক্রমবর্ধবান এ বৈষম্য থেকে উত্তরণে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর কথা বলেছে। এ জন্য রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু একই সাথে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগী হওয়া। লুটপাট ও লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে বৈষম্য আরো বাড়বে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.