পঞ্চগড়ে জমি অধিগ্রহণের ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ

পঞ্চগড় সংবাদদাতা

পঞ্চগড়ে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে চা বোর্ডের জন্য জমি অধিগ্রহণের ১৭ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই টাকা আদায়ে দুদক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদে আবেদন করেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে আমিনুল হক এক অভিযোগে জানান, পঞ্চগড় চা বোর্ডের আঞ্চলিক অফিসের জন্য সরকার তাদের তিন ভাই ও এক বোনের মালিকানাধীন ৫৬.১২ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। সরকার ওই জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬৮ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৮ টাকা নির্ধারণ করে। তারা সরল বিশ্বাসে ওই টাকা উত্তোলন করে সবার মধ্যে অর্থ বণ্টনের দায়িত্ব দেন পাশের সিঅ্যান্ডবি এলাকার মৃত হাশিম উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলামকে। তিনি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখা থেকে সব টাকার চেক গ্রহণপূর্বক অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড পঞ্চগড় শাখায় আমিনুল হকের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। ওই টাকা উত্তোলনের জন্য কয়েকটি চেকের পাতায় স্বাক্ষর করে নিয়ে ১০টি চেকের মাধ্যমে সব টাকা উত্তোলন করে জমি মালিকদের ৫১ লাখ টাকা দেন। বাকি ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৮ টাকা আজ-কাল দেয়ার কথা বলে তালবাহানা করতে থাকেন।
এ নিয়ে ভাইবোনদের পক্ষে আমিনুল হক হাফিজুল ইসলামের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনে ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের সালিস আদালতে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর নোটিশ করলে হাফিজুল সালিস আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি সব টাকা উত্তোলন করে সবাইকে ভাগ বণ্টন করে দিয়েছেন বলে জানান। পুরো হিসাব দিতে তিনি সময়ের আবেদন জানান। এরপর নির্ধারিত তারিখে কয়েকবার হাজির হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করে কালক্ষেপণ করেন। এ বিষয়টির মীমাংসা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় বাদিকে উচ্চতর আদালতের যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তারা একটি সালিসি আদালতের প্রতিবেদন দেন। বারবার সময় নির্ধারণ করে হিসাব না দেয়ায় এবং হাজির না হওয়ায় বাদির অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আমিনুল হক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও অভিযোগ করেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাচ্চু হাফিজুল ইসলামকে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়ার জন্য অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানেও হাফিজুল হিসাব দিতে তালবাহানা করতে থাকেন। পরিশেষে তারা টাকা ফেরত পেতে পুলিশ সুপার ও পঞ্চগড় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
শুধু তা-ই নয়, হাফিজুল ইসলাম আমিনুল হক গংদের ৮.৬৪ একর জমি বিক্রয় করে দেয়ার জন্য জমির মূল কাগজপত্র নেন। সেই কাগজপত্র নিয়ে হাফিজুল ইসলাম ওই জমিতে বাড়ি, খামার করে সাইনবোর্ড দিলে একই গ্রামের কয়েক ব্যক্তি ওই জমি তাদের দাবি করে আদালতে একটি মামলা করেন। সেই মামলা পরিচালনার জন্য হাফিজুল ইসলাম তাদের কাছ থেকে ১৩৫ শতক জমি নিজের নামে কবলা রেজিস্ট্রি ও ৬.৯৯ একর জমি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে নেন। ওই মামলা এখনো চলমান রয়েছে।
এ নিয়ে মুঠোফোনে হাফিজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার নামে তারা মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছে। তাদের টাকা তারাই ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছে। তারাই ভাগবাটোয়ারা করেছে। বাহক হিসেবে কোনো চেকে আমার নাম নেই। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি তাদের সঞ্চয়পত্র কেনা ও বীমা করার জন্য সহযোগিতা করেছিলাম। আমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। সেখানে কাগজপত্র দেখিয়েছি।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাচ্চু বলেন, হাফিজুল ইসলাম গরিব মানুষদের জমি অধিগ্রহণের ১৭ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে অফিসে এসে হিসাব দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে আসেনি। তার শাস্তি হওয়া উচিত।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.