মনিরামপুরে ভিখারিনীর দোকানও বেদখল

আব্দুল মতিন মনিরামপুর (যশোর)

মনিরামপুরের সামেলা বেগম নামে এক স্বামীপরিত্যক্তা ভিখারিনীর দোকান জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, ১০ মাস ধরে শাহিনুর রহমান টিটো নামে এক ব্যক্তি দোকানটি দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে। সামেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হয়েও এর কোনো প্রতিকার পাননি। মণিরামপুর উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানটি দেয়া হয়েছিল সামেলাকে। গত বছর এপ্রিলের শেষ দিকে যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুুন কবীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার সিলেমপুর বাজারে এক অনুষ্ঠানে সামেলার হাতে ওই দোকানের দখল হস্তান্তর করেন।
ভিক্ষুকদের জন্য গত বছর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খানপুর ইউনিয়নের সিলেমপুর বাজারে দুটি পাকা ও তিনটি টিনের দোকান তৈরি করা হয়। পাকা ঘর দুটির মধ্যে একটি বরাদ্দ দেয়া হয় সামেলাকে। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে ওই দোকানে ব্যবসা করে বাকি দিন কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার। খানপুর ইউনিয়নের ফেদাইপুর গ্রামে সরকারিভাবে পাওয়া একখণ্ড জমিতে ঝুপড়ি ঘর তুলে বাস করেন সামেলা। তার ২৪ বছর বয়সী একটি ছেলেও রয়েছে। ওই ছেলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন আগে তার স্বামী আব্দুস সাত্তার এলাকা ছেড়ে চলে যান। সেই থেকে আর খবর নেননি স্ত্রী সন্তানের। স্বামীহারা সামেলা জীবন যাপনে নেমে পড়েন থালা হাতে ভিক্ষা করতে।
সামেলার অভিযোগ দোকান তৈরির সময় সকাল-বিকেল পানি টেনে তিনি কাজ করেছেন। দোকান হস্তান্তরের সময় তৎকালীন ইউএনও তাকে কিছু টাকা দেবেন বলেছিলেন। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দোকান পাওয়ার পরপরই শেখপাড়া খানপুর গ্রামের মৃত রফিকুল বিশ্বাসের ছেলে শাহিনুর রহমান টিটো সেটি দখলে নিয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সামেলা জানান, দোকান উদ্ধারে আমি ডিসি, ইউএনও ও এসিল্যান্ড অফিসে গিয়েছি কয়েকবার। কিন্তু কেউ আমাকে পাত্তা দেয়নি।
দোকানটি টিটো দখলে নিলেও তিনি কিন্তু সেখানে কোনো ব্যবসা করেন না। তিনি এখন নওয়াপাড়ায় আকিজ জুুটমিলে শ্রমিকের কাজ করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, কেউ ভিক্ষুকের দোকান জোর করে দখল করে রাখলে তা দখলমুক্ত করা হবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.