গাজীপুরে গার্মেন্টশ্রমিক, ইটভাটা মালিক শিশু ও দোকান কর্মচারীর লাশ উদ্ধার

গাজীপুর সংবাদদাতা

গাজীপুরে এক গার্মেন্টশ্রমিক, দোকান কর্মচারী, এক শিশু ও এক ইটভাটা মালিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনি ও রোববার শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি, মাওনা চৌরাস্তা, শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ও সদর উপজেলার বাঘিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পাশ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
শ্রীপুর থানার এসআই জামিল রাশেদ জানান, নিহত গার্মেন্টশ্রমিক তানিয়া আক্তার (১৭) কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হুগলাকান্দি গ্রামের রুহুল আমীনের স্ত্রী এবং সুমন ওরফে ডাপলু (২০) সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বিনাজোড়া গ্রামের সুরেস সাহার ছেলে। তিন মাস আগে রুহুল আমিনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রী টেপিরবাড়ী গ্রামের আবুল কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় বেহালা টেক্সটাইল কারখানায় শ্রমিক হিসেবে চাকরি করতেন। শনিবার রুহুল আমিন বাসায় ফিরে ঘরের দরজার ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। স্ত্রীকে ডাকাডাকি করে কোনো সারা-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের আড়ার সাথে তানিয়ার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
একই থানার এসআই হারুন-অর রশিদ জানান, নিহত সুমন মাওনা বাজার রোডের ফারুক মার্কেটের এক দোকানের কর্মচারী। শনিবার সকালে দোকানের গোডাউনে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে গলাকাটা এক শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ সোমবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় সাত বছর বয়সের নিহত ওই মেয়ে শিশুটির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে উপজেলার নান্দিয়াসাঙ্গুন গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে অজ্ঞাত পরিচয় এক শিশুর (৭) ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশ শিয়াল-কুকুরে খেয়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছে।
অপর দিকে নিখোঁজের এক দিন পর এক ইটভাটা মালিকের হাত-পা বাঁধা লাশ রোববার একটি বিদ্যালয়ের পাশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সাইদুর রহমান সদু মণ্ডল (৫৫) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাঘিয়া এলাকায় কলিম উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সদু মণ্ডলের সাথে তার পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয়। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত তাকে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে স্থানীয় বাঘিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে একটি গর্তে সদু মণ্ডলের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
জয়দেবপুর থানার কোনাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোবারক হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাতে দুর্বৃত্তরা সদু মণ্ডলকে হত্যার পর লাশ ওই গর্তে ফেলে পালিয়ে গেছে। নিহতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার হাত পা ও গলা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.