পুলিশের গুলিতে ৩ কাশ্মিরি নিহত ২ নেতা গৃহবন্দী

এনডিটিভি ও ইকোনমিক টাইমস

কাশ্মিরের দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগে ভারতীয় পুলিশের গুলিতে তিনজন স্বাধীনতাকামী গোরিলা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে কাশ্মির পরিস্থিতি। পরিস্থিতি আরো উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কায় সেখানে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে স্বাধীনতাকামী দুই নেতাকে গৃহবন্দী করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের নামাজে জানাজায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নৌহাট্টা, খানিয়ার, রাইনাওয়ারি, সাফাকাদল, এমআর গুঞ্জ, মাইসুমা, ক্রালখুদ ও সুরা অঞ্চলকে কঠোর নজরদারির আওতায় নিয়েছে প্রশাসন। শ্রীনগরের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার শ্রীনগরের লাকচক এলাকায় বন্ধ পালিত হয়েছে। শ্রীনগর ও আশপাশের এলাকায় কারফিউয়ের মতো নিষেধাজ্ঞাসহ ইন্টারনেট বন্ধ ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া কাশ্মির উপত্যকাজুড়ে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। সব স্পর্শকাতর এলাকায় আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় ও বিক্ষোভের আশঙ্কায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মাদ ইয়াসিন মালিককে গ্রেফতার ও হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের প্রধান মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দী করেছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে স্বাধীনতাকামী স্থানীয় সশস্ত্র গেরিলা সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করেছে পুলিশ। অপর একজনের পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি।
কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নিরপরাধ মানুষকে হত্যার পর তাদের সন্ত্রাসবাদী প্রমাণের চেষ্টার অসংখ্য জোরালো অভিযোগ রয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত-পাকিস্তানের গোলাগুলি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত ৪ মার্চ রাতে সোপিয়ানে সেনা অভিযানে নিহত পাঁচজনের তিনজনকে সন্ত্রাসবাদীদের সহযোগী দাবি করা হয়। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা ছিলেন নিরপরাধ তরুণ। ‘বেসামরিক নিরপরাধ’ হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে কাশ্মির। লোকজন বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসে। জারি করা হয় কারফিউ। স্কুল-কলেজ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। গত ১০ মার্চ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলীয় এলাকার স্কুল-কলেজগুলো খুলে দেয়া হয়। জানানো হয়, ১২ মার্চ থেকে দক্ষিণ কাশ্মিরের স্কুল-কলেজগুলো খুলবে। তবে এ দিন ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নতুন করে তিনজন নিহত হওয়ার পর দক্ষিণ কাশ্মিরের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের একজনের নাম ঈসা ফাজিল। তার বাড়ি শ্রীনগরে। আরেকজনের নাম সৈয়দ ওয়াইস। তার বাড়ি দক্ষিণ কাশ্মিরের কোকেরনাগ এলাকায়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তারা দু’জনই প্রকৌশলবিদ্যার শিক্ষার্থী এবং পরে স্থানীয় সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠনে যোগ দেয়। হিজবুল মুজাহিদীন ও তেহরিক উল মুজাহিদীনের সদস্য তারা। নিহত তৃতীয়জনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ভারতীয় পুলিশ আরো দাবি করে, রোববার রাতে অনন্তনাগের হাকুরা অঞ্চলে গেরিলাদের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হয়। গেরিলাদের সাথে জওয়ানদের বন্দুকযুদ্ধ চলে। সোমবার স্থানীয় সশস্ত্র সংগঠনের দুই সদস্য এবং এক অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত হয়। নিহত তিনজনের একজন সম্প্রতি শ্রীনগরে পুলিশের ওপর হামলার সাথে যুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়। সোমবারের কথিত ওই বন্দুকযুদ্ধে সেনাবাহিনীর কোনো জওয়ান হতাহত হননি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.