কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

চল্লিশ.

‘এক মিনিট, রবিন!’ ডেস্কের সামনে গিয়ে চেয়ারে বসল বাবা। মোবাইল ফোন বের করল। ‘একটা জরুরি কথা সেরে নিই।’
বিশ মিনিট পরও বাবার জরুরি কথা শেষ হলো না। আবার অফুরন্ত কথা বলে চলেছে তার উকিলের সাথে।
আমার কাঁধের লোম গজানো জায়গাটা যেন পুড়ে যাচ্ছে, সেই সাথে প্রচণ্ড চুলকানি।
‘বাবা, আমার কথাটা শোনো!’ প্রায় ফিসফিস করে বললাম।
‘শুনব। শুনব।’ আমার দিকে তাকালও না বাবা।
আবার গিয়ে বিছানায় উঠলাম।
হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে বালিশে মাথা রেখে চিত হলাম। চাদরটা টেনে দিলাম গলার কাছে। তাকিয়ে আছি বাবার দিকে। টেলিফোনে কথা বলছে। দুনিয়ার আর কোনো দিকে খেয়াল নেই। এত খুশি বহুকাল দেখিনি তাকে।
বাবার এই আনন্দটা নষ্ট করতে চাইলাম না। কাঁধের কথাটা বললেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবে।
থাক, বলব না। সামান্য একটু ব্যথা আর কয়েক গোছা লোমই তো। এমন কিছু না।
তাই আমার গোপন কথাটা তখনকার মতো চেপে গেলাম। বাবাকে জানালাম না। তবে জানানো উচিত ছিল। তাহলে অনেক ঝামেলা আর সমস্যা থেকে বাঁচতে পারতাম।

নিরাপদেই রেনকে নিয়ে বাড়ি পৌঁছলাম আমরা। জাহাজঘাটা থেকে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত সারাক্ষণ সাথে ছিলেন বাবার সাংবাদিক বন্ধু। গাড়ি থেকে শুরু করে, সমস্ত ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। তাই কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি আমাদের।
(চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.