বাড়তি দায়িত্ব সাবিনা-কৃষ্ণার ওপরও

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাবিনা খাতুনের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। তবে কৃষ্ণা রানী সরকারের জীবনে এটাই প্রথম। প্রথম খেলতে যাচ্ছেন দেশের বাইরের কোনো লিগে। এতে বেশ উচ্ছ্বসিতও তিনি। তবে এ উত্তেজনার আড়ালে নিজের দায়িত্ববোধটা ভুলে গেলেন না কৃষ্ণা। সাথে সিনিয়র ফুটবলার সাবিনাও। ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগে তাদের ভালো পারফরম্যান্স মানে ভবিষ্যতে অন্য বাংলাদেশীদেরও রাস্তা তৈরি হওয়া। কাল ভারত যাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুইজনই নিজ থেকে উল্লেখ করলেন বিষয়টি। সাবিনা জানালেন, ‘এবার সেরাটা দিতে পারলে পরে আরো খেলোয়াড় চাইবে তারা। সুতরাং এটা এখন আমাদের দায়িত্ব ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেয়া’। কৃষ্ণার বক্তব্য, এই প্রথম কোনো পেশাদার লিগে খেলতে যাচ্ছি। লক্ষ্য একটাই, নিজেকে তুলে ধরা। তাহলে আগামীতে দেশের অন্য ফুটবলাররাও সুযোগ পাবেন।
ইন্ডিয়ান উইমেনস লিগে তামিলনাড়–র দল সেথু এফসির হয়ে খেলবেন বাংলাদেশের এ দুই স্ট্রাইকার। সাবিনা এর আগে তিন দফা খেলেছিলেন মালদ্বীপে। দুইবার ফুটসালে। অন্যবার লিগে। ২০১৫ সালে তার প্রথম যাওয়া। প্রথমবার ৩৭, পরের বার ২৩ ও শেষ বার করেছিলেন ২৭ গোল। তার মাঝের প্রতিযোগিতাটি ছিল লিগ। তার সঙ্গী হয়েছিলেন গোলরক্ষক সাবিনা আক্তার ও মিড ফিল্ডার মিরোনা। বাংলাদেশ সিনিয়র দলের অধিনায়ক সাবিনা ভালো করেই জানেন, মালদ্বীপের ফুটবলের চেয়ে অনেক উন্নত হবে ভারতের লিগ। সুতরাং এর এখানে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। মোট আট দলের এ লিগ। প্রতি দলে তিনজন করে বিদেশী খেলার অনুমতি।
কবে লিগ শুরু হবে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ দুই ফুটবলার কবে রওনা হবেন তা নির্ভর করছে ভিসা প্রাপ্তির ওপর। এখন পর্যন্ত তাদের সাথে চারটি ম্যাচ খেলার চুক্তি। চুক্তি এপ্রিল পর্যন্ত। দলের ম্যাচ সংখ্যা বাড়লে তাদেরও ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। তথ্য দেন বাফুফের টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটিজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি।
সাবিনা ও কৃষ্ণা অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে আছেন। তাদের ফিটনেসও বেশ ভালো। সতরাং তারা ভালো করবেন এমন প্রত্যাশা বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের। তার আশাবাদ আগে কলকাতা লিগ মাতাতেন বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলাররা। এখন সাবিনা-কৃষ্ণা মাঠ কাঁপাতে পারলে প্রমাণিত হবে বাংলাদেশের ফুটবলের যে উন্নতি হয়েছে।
২০০৯ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন সাবিনা। কৃষ্ণার লালসবুজ জার্সি গায়ে তোলা ২০১৩ সাল থেকে। সিনিয়র জাতীয় দলে চান্স পরের বছরই। সর্বশেষ সাফ ফুটবলে চমৎকার খেলেছিলেন দুইজনে। তবে সে আসরে অসাধারণ খেলা স্ট্রাইকার সিরাত জাহান স্বপ্না কেন এবার ডাক পেলেন না এ নিয়ে বিস্ময় কোচ ছোটনের। তার মতে, এবার দুই ফুটবলার প্রত্যাশা অনুযায়ী খেললে আগামীতে স্বপ্না, মনিকা, মারিয়া, আঁখিদেরও সুযোগ হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.