খুলনা জেলা রেজিস্ট্রি অফিস

দুর্ঘটনা আর আতঙ্ক নিয়েই চলছে কার্যক্রম

খুলনা ব্যুরো

সংস্কার নেই দীর্ঘ দিন। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ছাদের সিলিংজুড়ে বড় বড় ফাটল। আচমকা ভেঙে পড়ছে ইট বালু সিমেন্টের ঢালাই। দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে ওপরে টাঙানো হয়েছে মশারির নেট। দেয়ালের অবস্থায়ও ভালো না। খসে পড়ছে পলেস্তরা। দরজা ও জানালাও অনেকটা জরাজীর্ণ। এমন বেহালদশা খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় ভবনের। তারপরও থেকে নেই কার্যক্রম। দুর্ঘটনা, আতঙ্কে প্রতিটি সময় পার করতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে ভবনটিতে প্রাণহানিসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানার সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, জমি রেজিস্ট্রেশন ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য নগরীর কেডি ঘোষ রোড নগরভবনের পাশে স্বাধীনতার আগে বহু কক্ষবিশিষ্ট জেলা ভূমি রেজিস্ট্রার কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে এই কার্যালয় থেকে খুলনা মহানগরবাসীসহ জেলার বাসিন্দারা রেজিস্ট্রি ও ভূমিসংক্রান্ত সব জটিলতা নিরসনে সেবাগ্রহণ করে থাকেন। এই কার্যালয়ে দৈনন্দিন সেবা প্রদানের জন্য কর্মরত রয়েছেন অন্তত দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত সমস্যা ও নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করে এ অফিসে। কিন্তু দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে সম্প্রতি ভবনটির বেহালদশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ছাদ ভেঙে পড়ছে। খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তরা। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে দরজা-জানালা। ভেঙে পড়া ওই ছাদ থেকে রক্ষা পেতে টাঙানো হয়েছে নেট। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে চলছে অফিসটির দাফতরিক কাজকর্ম। সম্প্রতি অফিসে দাফতরিক কাজ করার সময় ভবনের ছাদ ভেঙে কামনাশীষ নামে এক কর্মচারী আহত হয়েছেন। ফলে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অফিসে আসা সেবাপ্রত্যাশী লোকজন।
খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রত্যাশীরা জানান, ছাদের ঢালাই থেকে ইটের খোয়া ভেঙে ভেঙে পড়ছে। ভবনের বেশির ভাগ জায়গায় রড বেরিয়ে গেছে। নেট দিয়ে কোনোমতে ঠেকানোর চেষ্টা হলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না। জমাট বাঁধানো কংক্রিট জাল ছিঁড়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ভবনের মধ্যে কাজ করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ফলে ভয়ে ভয়ে দিনের কাজ কোনোমতে শেষ করা হচ্ছে।
খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীরজ্যোতি চাকমা বলেন, ভবনে দেড় লাখ বালাম বইসহ নানা নথিপত্র ও আসবাবপত্র রয়েছে। আর দৈনন্দিন কাজকর্ম করার জন্য এত বড় ভবনও অন্যত্রে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে এ ভবনে কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে আপাতত সংস্কার করে ভবনটি কাজ করার উপযোগী রাখা হবে। এ ছাড়া পুরনো ভবন ভেঙে অচিরেই চার তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। কার্যক্রমের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.