একরাম
একরাম

ফেনীর আলোচিত একরাম হত্যা মামলার রায় আজ

অধরা ১০ আসামি জামিনে পলাতক ৯
শাহাদাত হোসাইন ফেনী

বহুল আলোচিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্ক শেষে জেলা ও দায়রা জজ মো: আমিনুল হক রায়ের এই দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন। বীভৎস এ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১০ আসামিকে চার বছরেও ধরতে পারেনি পুলিশ। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৯ জন জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২০ মে শহরের অ্যাকাডেমি সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। বীভৎস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, কপিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, টিটু, রাহাত মো: এরফান আজাদ, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, বাবলু, শফিকুর রহমান ময়না, একরাম হোসেন আকরাম, মোসেলহ উদ্দিন আসিফ ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় গ্রেফতারকৃতদের জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন আরো ৯ আসামি। এরা হলেনÑ এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মো: নাফিস উদ্দিন অনিক, মো: ইউনুস ভূঞা শামীম টপ শামিম, আবিদুল ইসলাম আবিদ, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, নুরুল আবসার ওরফে জাহিদ চৌধুরী, আরমান হোসেন কাউসার ও জসিম উদ্দিন নয়ন। মামলায় জামিনে থাকা মো: সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামে একজন আসামি ইতোমধ্যে র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার বহুল আলোচিত এ মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ থাকলেও আসামিদের গ্রেফতার নিয়ে সংশয় রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম আবিদ প্রবাসে আত্মগোপন করেছেন।
পিপি হাফেজ আহম্মদ জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ, সাফাই সাক্ষীর জেরা শেষ হওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি সরকার পক্ষে ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ওই দিন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। একই দিন আদালত পলাতক ১৯ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
তিনি আরো জানান, এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদি ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী প্রদান করেছেন। স্বীকারোক্তি প্রদান করা ১৬ জনের মধ্যে হেলাল উদ্দিন নামে একজন পরে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ ছাড়া মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরাও একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ, গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি সমাপনী যুক্তিতর্কে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডসহ সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো: রাশেদ খান চৌধুরী জানান, এ মামলায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.