মাইসনাম উইনসন শিং
মাইসনাম উইনসন শিং
ছুরির ডিএনএ পরীক্ষায় খুলল হত্যা জট

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থী খুনে স্বদেশী মাইসনাম উইনসন জড়িত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসির ভারতীয় শিক্ষার্থী মো: আতিফ শেখ খুনের পর একই দেশের আরেক শিক্ষার্থী মাইসনাম উইনসন সিংয়ের (২৬) আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার ধোয়াশা কেটেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহ্নত উদ্ধার করা ছুরি সিআইডির ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাব থেকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ছুরির বাট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএ-এর সাথে মাইসনাম উইনসন শিংয়ের ডিএনএ-এর মিল পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
নগরের আকবর শাহ থানার আবদুল হামিদ সড়কের একটি ফ্ল্যাটে গত বছরের ১৪ জুলাই রাত ২টার দিকে আতিফ শেখ খুন হন। একই ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উইনসন সিংকে উদ্ধার করে পুলিশ। দু’জনই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। আতিফকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। তার শরীরে ১৫টি আঘাতের চিহ্ন ছিল।
আতিফ ভারতের আসামের গুয়াহাটি ও উইনসন মনিপুর রাজ্যের বাসিন্দা। নগরের আবদুল হামিদ সড়কের লেকভিউ সোসাইটির হাজী ইউসুফ ম্যানশনের পঞ্চমতলার একটি ফ্ল্যাটে (ডি-২) তারা ভাড়া থাকতেন। তিন কক্ষের ওই বাসায় আতিফদের অপর দুই সহপাঠী এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র গুরঙ্গ নিরাজ ও এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জোসনা তম্বুরামও থাকতেন। এ দু’জনও ভারতের মনিপুরের। হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর আতিফের বাবা আবদুল খালেক আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করেন।
গত ২০ জুলাই পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা মামলার পরবর্তী তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি মাইসনাম উইনসন শিংকে গ্রেফতার করেন। বেশ কয়েকবার রিমান্ডে এনে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মাইসনাম উইনসন শিং জানান, ঘটনার আগে-পরে সব কিছু তার মনে থাকলেও ঘটনার সময়টুকু সে স্মৃতিচারণ করতে পারছে না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের ছয় সদস্যবিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে মাইসনাম উইনসন শিংয়ের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করা হয়। মেডিক্যাল বোর্ড মাইসনাম উইনসন শিং ইচ্ছাকৃতভাবে স্মৃতিচারণ করতে না পারার বিষয়টি বলার চেষ্টা করছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এতকিছুর পরও মাইসনাম উইনসন শিং ঘটনার বিষয়ে তার আগের অবস্থানে অনড় থাকায় ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন আলামত রক্ত, ছুরি, ছুরির বাট, চাদর ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য সিআইডির ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রেরিত জবাবে জানান প্রেরিত আলামতগুলো রক্ত, ছুরি, চাদর থেকে একজনের ডিএনএ এবং ছুরির বাট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে সন্দেহভাজন মাইসনাম উইনসন শিং ও গানঞ্জমাই নীরাজের ডিএনএ তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে তাদের ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। তারা উভয়ের ডিএনএ-এর সাথে ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত ডিএনএ তুলনামূলক পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়। এতে উল্লেখ করেন, ছুরির বাট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএ-এর সাথে মাইসনাম উইনসন শিংয়ের ডিএনএ-এর মিল পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, গ্রেফতারকৃত প্রধান সন্দেহভাজন আসামি মাইসনাম উইনসন শিং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে জব্দকৃত ছোরা ব্যবহার করে নিহত আতিফ শেখকে উপর্যুপরি আঘাত করে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর আবেগতাড়িত হয়ে নিজের ব্যবহৃত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.