নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর :নয়া দিগন্ত
নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর :নয়া দিগন্ত
১৯ মার্চ ঢাকায় জনসভা

দেশে নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকার : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকার দেশকে ছেয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণবিচ্ছিন্ন সরকার জন-আতঙ্কে ভোগে। জনগণের বিপুল সমাগমের সম্ভাবনা থাকলে সরকার অজানা আশঙ্কায় বিপন্নবোধ করে। এই কারণে বিএনপির জনসভা বানচাল করতে সরকার ধারাবাহিক বাধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশ এবং রাজনীতি কী গোয়েন্দারা চালাচ্ছে? তাদের ওপর ভিত্তি করে একটি বিরোধী দলের সভা করতে দেয়া না দেয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে? গত কয়েক বছর ধরে দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অধিকার নেই, রাজনৈতিক নেতাদেরকে মিথ্যা মামলায় হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, কারাগারে নেয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার বলতে কিছু নেই।
এ দিকে দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি না পেয়ে আগামী ১৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করছি, ক্ষোভ প্রকাশ করছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি না দিয়ে ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। আগামী ১৯ মার্চ সোমবার আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জনসভার ঘোষণা করছি। আশা করি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা সমালোচনার অধিকার বন্ধ করে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবার অধিকার ও রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার ত্রাস ও ভীতি ছড়িয়ে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত করবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে আমরা সঙ্ঘাত এড়িয়ে চলছি। আমরা গণতন্ত্রে স্বীকৃত বিরোধী দলের অধিকারগুলো প্রয়োগ করতে চাই। সভা-সমাবেশ বিরোধী দলের সার্বজনীন অধিকার। এটি কোনো বেআইনি কর্মসূচি নয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, শুনলে অবাক লাগে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, বেআইনি কর্মসূচি হলে তো পুলিশ বাধা দেবেই। কিন্তু আপনারা পুরো রাস্তা দখল করে মিছিল করবেন, সেটি আইনি, আপনারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তার আশপাশে মিছিল করবেন সেটি আইনি। আর আমরা জনসভা করতে যাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে সেটি হয়ে যাবে বেআইনি!
মির্জা ফখরুল বলেন, জনসভা করার, সমাবেশ করার যে অধিকার আমাদের সংবিধানে রয়েছে, সেই অধিকারকে বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই। আমরা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পথে আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা চাই, ন্যূনতম যে অধিকারটুকু আছে সেটি পালন করতে দেয়া হোক।
তিনি বলেন, সম্প্রতি নাগরিক স্বাধীনতা হরণকারী সরকার বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে কদাচিৎ অনুমতি দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে সমাবেশস্থলের ওপর আক্রমণ চালিয়ে দলের নেতাকর্মীদের টেনেহিঁচড়ে আটক করা হয় যা বর্তমান দুঃশাসনের ভয়ঙ্করতম কালো অধ্যায়। দমন-পীড়নকে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান অ্যাজেন্ডা হিসেবে ধরা হয়েছে। এখন নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকার দেশকে ছেয়ে ফেলেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র মানে বিক্ষোভ-সমালোচনা। গণতন্ত্র মানে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীন দলের একতরফা বলে যাওয়া নয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পাবলিক প্রপার্টি, এটি কোনো ব্যক্তি, দল বা জোটের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করা সম্পত্তি নয়। সেখানে যদি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ মহাজোটের দলগুলো সমাবেশ করতে অনুমতি পায়, তাহলে বিএনপিসহ বিরোধীদলকে জনসভা করতে না দেয়া ক্ষমতাসীনদের দ্বিমুখী রাজনীতিরই প্রতিফলন।
দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ এস এম আবদুল হালিম ও সাবেক সচিব অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সুজাউদ্দিন উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন আদেশ নিয়ে নি¤œ আদালতে গেলে তাদের কারাগারে প্রেরণের নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
রাজধানীর মিরপুর বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
জনসভা প্রসঙ্গ : এ দিকে দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি না পেয়ে আবারো আগামী ১৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করছি, ক্ষোভ প্রকাশ করছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আগামী ১৯ মার্চ সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জনসভার ঘোষণা করছি। আমরা প্রত্যাশা করি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। বিশেষত যিনি দায়িত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, তার কাছে আমরা আশা করবো যে, তিনি যদি গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা করেন তাহলে আমাদের জনসভার অনুমতি দেবেন।
তিনি বলেন, আমরা এখনো ধৈর্য ধরছি, ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাচ্ছি। আমরা আবারো জনসভার অনুমতি চাচ্ছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যে কাগজপত্র তা আমরা যথাযথ জায়গায় দেবো। দেশনেত্রীর মুক্তি দাবিতে আমরা চট্টগ্রামে ১৫ মার্চ, বরিশালে ২৪ মার্চ এবং রাজশাহীতে ৩১ মার্চ জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি, সরকার এসব জনসভা অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করবে, যাতে করে দেশে একটি অনুকূল গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে তার মুক্তি দাবিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ গতকাল ১২ মার্চ দুই দফায় জনসভার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েও পায়নি বিএনপি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.