সিঙ্গাপুরের ইস্তানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকুবের মধ্যে বৈঠক : পিআইডি
সিঙ্গাপুরের ইস্তানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকুবের মধ্যে বৈঠক : পিআইডি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে বোঝাতে সিঙ্গাপুরের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান

বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সে দেশকে বোঝাতে সিঙ্গাপুরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারকে বোঝানোর জন্য তিনি আসিয়ানের সভাপতি রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের প্রতি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আসিয়ানের সভাপতি রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর তারা যেন মিয়ানমার সরকারকে বোঝায় এদের (বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের) ফিরিয়ে নেয়ার মধ্যেই ওই এলাকার স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন নির্ভর করছে।’
শেখ হাসিনা গতকাল সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় এ কথা বলেন।
সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইস্তানায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র সচিব মো: শহীদুল হক বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন, এ সময় প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং সিঙ্গাপুরে জাহাজ ভিড়ার পর নাবিকদের ওঠানামা নিয়ে সমস্যাটি আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
তিনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয় নিয়েও আলাপ হয়েছে।’
এর আগে শেখ হাসিনা ইস্তানায় সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুবের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা আমাদের ওপর বোঝা হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আলাপ-আলোচনা করে এদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। কিন্তু নানাবিধ কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সিঙ্গাপুরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, বলেন পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি বলেন, দুই নেতার আলোচনায় একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ব্যবসাবাণিজ্য এবং বিনিয়োগ। এ ব্যাপারেই বেশি আলোচনা হয়েছে।
মো: শহীদুল হক বলেন, একই সাথে কানেকটিভিটি বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও তারা আলাপ করেছেন এবং সমুদ্রগামী নাবিকদের জাহাজ নোঙরের পর সিঙ্গাপুর বন্দরে ওঠানামায় যে সমস্যা হয় সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকুব এবং প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে এই সফর আয়োজনের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সম্মত হয়েছেন বলেও পররাষ্ট্র সচিব জানান।
শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেসব খাতে সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ আহ্বান করেছেন, তারমধ্যে রয়েছে খাদ্য ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জ্বলানি খাত। সমুদ্রগামী নাবিকদের জাহাজ নোঙরের পর সিঙ্গাপুর বন্দরে ওঠানামায় সমস্যাটি সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গাপুরকে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক ব্যবধান ঘোচাতে আরো ব্যাপক বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা কামনা করেন।
সিঙ্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গতকাল সকালে ইস্তানায় সিঙ্গাপুর প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় অফিস কাম বাসভবনে সংবর্ধনা দিয়েছে দেশটির সরকার। শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ইস্তানায় পৌঁছলে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং তাকে অভ্যর্থনা জানান। ইস্তানায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও অবস্থিত।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইস্তানার গেটে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামলে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। পরে সিঙ্গাপুরের সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্রবাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন ও গার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুবের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে চার দিনের সরকারি সফরে সিঙ্গাপুর পৌঁছেন। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করছেন।
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের দু’টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর : বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর গতকাল পিপিপি এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত দু’টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।
স্মারক দু’টি হচ্ছেÑ পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং এয়ার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কনফিডেন্সিয়াল সমঝোতা স্মারক।
সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ইস্তানায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের উপস্থিতিতে স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এস এম গোলাম ফারুক এবং সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব তান গাই সেন উভয় দেশের এয়ার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কনফিডেন্সিয়াল সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করেন।
প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) সিইও সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন এবং সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক এন্টারপ্রাইজের সহকারী সিইও তান সুন কিম উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিষয়ক অন্য সমঝোতা স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য সিঙ্গাপুরে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ প্রদানে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যাতে তাদের কাছে এই দেশটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় অন্যতম পছন্দনীয় কর্মস্থল হিসেবে অব্যাহত থাকে।
গতকাল দুপুরে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ইস্তানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের দেয়া এক মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্য সিঙ্গাপুর ক্রমেই একটি অন্যতম পছন্দীয় গন্তব্যস্থল হয়ে উঠছে। আমি আশা করি সিঙ্গাপুর এই শ্রমিকদের জন্য বরাবরের মতোই সুষ্ঠু কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা অব্যাহত রাখবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এবং সিঙ্গাপুর তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্বেষায় একে অন্যকে সহযোগিতা করতে পারে। সিঙ্গাপুরের পুঁজি, উন্নত প্রযুক্তি এবং তা ব্যবহারের দক্ষতা রয়েছে। আর আমাদের রয়েছে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তি। যাদের একটি বড় অংশই বয়সে নবীন এবং শিক্ষিত, যে দক্ষতাকে উভয়ের পারস্পরিক সুবিধার জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে, বলেন তিনি।
ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাতের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক একই ধরনের মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর বিদ্যমান।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্মারকগুলো দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের উপস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
শেখ হাসিনার সফরকে সম্পর্ক জোরদারের চমৎকার সুযোগ বললেন লুং
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিঙ্গাপুর সফর দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক জোরদার করার একটি চমৎকার সুযোগ। গতকাল সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতে লি সেইন লুং এ কথা বলেন। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং তার ইস্তানায় অবস্থিত সরকারি বাসভবনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেয়া এক মধ্যাহ্নভোজে এ কথা বলেন।
লি সেইন লুং বলেন, বাংলাদেশের বিকাশমান বাজারে জ্বালানি এবং বন্দর খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা থাকায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে।
এ সময় লি সেইন জানান, সিঙ্গাপুরের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সেম্বকর্প, যার সিঙ্গাপুরের পাওয়ার প্ল্যান্ট খাতে প্রায় ১১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ রয়েছে এবং সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটিস (পিএসএ) বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে তাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণে আগ্রহী।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এবং আশিয়ান ও অন্যান্য প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত ও শ্রীলঙ্কার সাথে যুক্ত।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল চুক্তি নবায়ন সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মানুষকে আরো কাছে আনবে, ব্যবসায় বাণিজ্যের পথ সুগম করবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ দিলে আমরা সম্মিলিতভাবে আরো বেশি কিছু করতে পারি।’ বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্ব ও বিকাশমান অংশীদারিত্ব সামনের দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা স্মরণ করে লী সিয়েন বলেন, তখন থেকেই দুই দেশের নেতা, জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্রমে সম্পর্ক বৃদ্ধি পেতে থাকে।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধনের কারণে আমাদের দীর্ঘকালের বন্ধুত্ব আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২০ সালে সিঙ্গাপুর সফর করেন এবং ১৯২৯ সালে প্রকাশিত ‘যাত্রী’ গ্রন্থে তার প্রতিফলন ও ভ্রমণকাহিনী ফুটে উঠে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তার সংসদীয় এলাকা ইয়ো চু কং রোডে প্রখ্যাত বাঙালি কবির সম্মানে ‘টেগোর এভিনিউ’ নামকরণ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করা অব্যাহত রেখেছে।
লী সিয়েন মনে করেন, ‘জনগণের সাথে জনগণের সংযোগ স্থাপন আমাদের বহুমুখী সম্পর্ককে জোরদার করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গাপুর বন্দর পরিদর্শন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্য বন্দর পোর্ট অব সিঙ্গাপুর পরিদর্শন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গতকাল দুপুরে পোর্ট অব সিঙ্গাপুর পরিদর্শন ও এর স্বয়ংক্রিয় কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন।’
তিনি জানান, বন্দরের কর্মকর্তারা তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেন ও চট্টগ্রাম বন্দরকে স্বয়ংক্রিয় করার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাহাজ চলাচল মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা রোববার দুপুরে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েনের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.