ধর্ষক সুইপার আটক

হাটহাজারীতে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ছরিকাঘাত

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

হাটহাজারীতে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে (৯) ধর্ষণ করে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছে পাশের হাইস্কুলের সুইপার আপন চন্দ্র (৫৫)।
গত রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মেয়ে নিখোঁজের খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর বাবা এসে স্থানীয়দের সহায়তায় বিকেল ৪টায় সেফটিক ট্যাংক থেকে মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয় জনতা ধর্ষক আপন চন্দ্রকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
জানা গেছে, কাটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী গত রোববার সাড়ে ৩টায় ক্লাসের শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে সাথে বান্ধবীসহ তার বড় ভাইকে ভুট্টা দিতে স্কুল মাঠের বিপরীতে কাটিরহাট উচ্চবিদ্যালয়ে যায়। শিক্ষকদের ধর্মঘট থাকায় বিদ্যালয়ে সে দিন ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষকেরা কর্মসূচি পালনে উপজেলা পরিষদে অবস্থান নেয়। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ের সুইপার আপনকে তার ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে ধর্ষক আপন তার ভাই দোতলায় আছে জানিয়ে তাকে নিয়ে দোতলায় যায়। ধর্ষিতার বান্ধবী অনেক্ষণ নিচে দাঁড়িয়ে থেকে তার বান্ধবী নেমে না আসায় নিজের স্কুলে গিয়ে শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানায়। ওই স্কুলের শিক্ষিকা কয়েকজন ছাত্রকে সাথে নিয়ে মেয়েটিকে এ দিক সে দিক খুঁজে না পেয়ে স্কুলের সুইপার আপনকে মেয়েটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আপন মেয়েটি সম্পর্কে অসংলগ্ন তথ্য দিলে ওই শিক্ষিকার সন্দেহ হয়।
তিনি তখন মেয়েটির বাবাকে তার মেয়ে নিখোঁজের খবর দেন। মেয়েটির বাবা স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয়ের আশপাশে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে সেফটিক ট্যাংকে নেমে অজ্ঞান অবস্থায় ধর্ষিতা মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রথমে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ধলই ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর জামান স্থানীয় জনতার সহায়তায় ধর্ষক আপনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ সময় স্থানীয় হাজার হাজার উত্তেজিত জনতা ধর্ষক আপনের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক আনোয়ার হোসেন জানান, ধর্ষিতা মেয়েটিকে ধর্ষণের পর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়েছে। তারপর তাকে গুম করার উদ্দেশ্যে সেফটিক ট্যাংকে ফেলা দেয়া হয়। দোতলায় এবং সেফটিক ট্যাংকের পাশে জমাটবদ্ধ রক্ত পাওয়া গেছে।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মেয়েটির গলায় এবং মুখে বেশ কয়েকটি ধারালো বস্তুর আঘাত রয়েছে। চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ছাত্রীটির শরীরে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও সে এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.