প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থনীতিবিদেরা

আর্থিক খাতে অব্যবস্থাপনা অর্থনীতিতে বড় বাধা ঢাকা স্টকের ভূমিকা সঠিক হচ্ছে না : মুহিত

ব্যাংক ডিফল্ট একটা রীতি হয়ে গেছে : রেহমান সোবহান
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
দেশের ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলার কড়া সমালোচনা করে প্রাক-বাজেট আলোচনায় দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, যত্রতত্র ঋণ প্রদান, অব্যবস্থাপনা, যথাযথ নজরদারির অভাবে দেশের ব্যাংক খাতে দুরবস্থা বিরাজ করছে। এ ছাড়া বেপরোয়া ঋণ প্রদানে অনেক ব্যাংকই সীমা লঙ্ঘন করছে। অথচ সংস্কার কার্যক্রমের নামে প্রতি বছরই অকার্যকর কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনীতিতে এখন বড় বাধা। ক্যাপিটাল মার্কেটেও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। আর্থিক খাতের সংস্কার ছাড়া দেশের উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, পুঁজিবাজারে ডিএসইর রোল সঠিকভাবে হচ্ছে না। কেউ কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কে গতকাল অর্থনীতিবিদদের সাথে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সিপিডির চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান, সাবেক অর্থ সচিব মতিউল ইসলাম, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, অর্থনীতিবিদ খন্দকার বজলুল হক, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো যথাক্রমে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য ও অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সাবেক অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের বছরে আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যান, তাদের েেত্র সরকার নমনীয় নীতি নেয়। বিষয়টি ঠিক এমন নয়। কোনোভাবেই অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে পরিবহন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এসব খাতে বেশি বরাদ্দ থাকবে।
রেহমান সোবহান বলেন, যত্রতত্র ঋণ দেয়া, অব্যবস্থাপনাসহ যথাযথ নজরদারির অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাতে দুরবস্থা বিরাজ করছে। ব্যাংক ডিফল্ট একটা রীতি হয়ে গেছে। বেপরোয়া ঋণ দেয়ায় েেত্র অনেক ব্যাংকই সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। যার ফলে মূলধন সঙ্কট বাড়ছে। প্রতি বছর সংস্কার কার্যক্রমের নামে অকার্যকর কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। এটি মূলত দীর্ঘ সময়ের কাঠামোগত সমস্যার ফল, যা সমাধানে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
এডিপির ব্যাপারে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদে সময় ও ব্যয় বাড়ছে। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে না পারায় যেমন ব্যয় বাড়ছে, তেমনি ভোগান্তিরও সৃষ্টি হচ্ছে। উন্নয়ন প্রস্তাবনা অনুযায়ী সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে না পারলে মেগা প্রকল্প থেকে ফল আসবে না। তিনি বলেন, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এ খাতের সংস্কার না করলে এ মার্কেটে থেকে কাক্সিক্ষত ফল আসবে না।
এম সাইদুজ্জামান বলেন, ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান অরাজকতা দীর্ঘ দিনের। যদি ব্যাংকে লুটপাটকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না যায় তাহলে সরকারের অর্জিত অনেক সাফল্য ম্লান হয়ে যাবে।
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা সমাধানে ব্যাংকগুলোকে মার্জ করার কথা বলা হয়। কিন্তু এ-সংক্রান্ত কোনো আইন নেই। আগে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির বড় সমস্যা বেকারত্ব। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এখনো দেশের ৩৮ শতাংশেরও বেশি লোক আন্ডার এমপ্লয়মেন্ট। এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদপে নেয়া উচিত।
মতিউল ইসলাম বলেন, দেশে ব্যাপক হারে উন্নয়ন চলছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়লেও সুফল আসছে না।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, মধ্যম সারির দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ায় যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আগে যেভাবে বিদেশ থেকে সাহায্য আসত, এখন আর সেভাবে আসছে না বা আসবে না। আবার বর্তমানে যেসব সাহায্য আসছে, তাও চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে। রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।
ড. তারেক বলেন, চলতি অর্থবছরের বাস্তবায়ন অন্যান্য বছরের চেয়ে খারাপ। বাজেট মনিটরিংয়ে আমাদের জোর দিতে হবে। আমরা সঞ্চয়পত্রের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। এ থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, দাতাদের টাকায় আমরা গবেষণা করি। এতে আমাদের কোনো লাভ হয় না। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে যথাযথ তথ্যের জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শক্তিশালী করতে হবে। যথাযথ তথ্য আমাদের থাকে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.