টার্গেট কিলিংয়ে মেতে উঠেছে সরকার : বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সরকার টার্গেট কিলিং করছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রিমান্ডে পুলিশি নির্যাতনেই ছাত্রদল নেতা মিলনের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেস কাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে গ্রেফতার করে পুলিশ। বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন চলছিল। পরের দিন রমনা থানা পুলিশ তাকে রিমান্ডের নামে তার ওপর বর্বরোচিত ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। একটানা তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জাকির হোসেন মিলনের ওপর ভয়াবহ পাশবিক নির্যাতন চালানোর পর মৃতপ্রায় অবস্থায় তাকে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় সোমবার ভোরে মিলনের মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যু হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাদের টার্গেট করে এভাবে হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নে মেতে উঠেছে সরকার। সরকারের টার্গেট একটাইÑ তা হলো পাশবিক নিপীড়নের মাধ্যমে প্রতিবাদী তরুণসমাজকে ক্ষতবিক্ষত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা, আর এ জন্যই সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মৃত্যু পরোয়ানা দিয়ে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। বেছে বেছে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের তরুণ নেতাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গণতন্ত্রের জন্য তারুণ্যের দ্রোহকে মাটিচাপা দিতেই ক্রসফায়ারের পাশাপাশি এখন রিমান্ডের নামে মেরে ফেলার সিরিয়াল শুরু হলো। স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সভাপতি মিজানুর রহমান রাজসহ তরুণ নেতাদের রিমান্ডের পর রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাদের অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, রিমান্ডে নিয়ে পুলিশের নির্দয় ও পৈশাচিক নির্যাতনের পর জাকির হোসেন মিলনকে কারাগারে চিকিৎসা না দিয়ে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার অমানবিক ঘটনায় নিঃসন্দেহে বলা যায়Ñ বর্তমান ক্ষমতালোভী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকা নিশ্চিত করতে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার পাশাপাশি রিমান্ডে নির্যাতন করে হত্যার আজ আরেকটি নতুন খাতা খুলল। তবে এভাবে নির্যাতনের সব সীমা অতিক্রম করেও সরকার নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, অপহরণসহ বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের সব অপকর্ম ও নির্যাতন-নিপীড়নের হিসাব আমরাও রাখছি। আওয়ামী সরকারপ্রধান গণতন্ত্র ও সংবিধানকে কেড়ে নিয়ে নিজের দখলে রেখেছেন, এখন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তা কেড়ে নিচ্ছেন তার লোকদের দিয়ে তৈরি করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা। বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্রে স্বীকৃত মানুষের অধিকার নেই, আছে শুধু শোক মিছিল।
তিনি বলেন, ছাত্রনেতা জাকির হোসেন মিলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার অধিবাসী। তারুণ্যদীপ্ত মিলনের সাংগঠনিক যোগ্যতার কারণেই কী তাকে জীবন দিতে হলো? নাকি পথের কাঁটা দূর করা হলো? এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে জাকির হোসেন মিলনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় ধিক্কার, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।
রিজভী বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি দলের পক্ষ থেকে কাজী আবুল বাশারকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার সব অসত্য ও রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।
খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গ : এ দিকে খালেদা জিয়ার জামিনে বিএনপি খুশি কি নাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তাকে জামিন দেয়া হয়েছে তাতে আমরা আংশিক খুশি। আমরা পরিপূর্ণ খুশি হবো যখন তিনি জেল থেকে বেরিয়ে বাসায় ফিরে যাবেন। তখন আমরা পরিপূর্ণ খুশি হবো। তার মুক্তির ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশনেত্রীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের ব্রিফিংয়ে শুনলাম, কালকে (মঙ্গলবার) সকালের মধ্যে জামিনের আদেশের কাগজপত্র কারাগারে যাবে এবং তিনি বেরিয়ে আসবেন।
খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে বিভাগীয় শহরগুলোতে ডাকা জনসভা হবে কি না এবং তিনি সেগুলোতে উপস্থিত থাকবেন কি না প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, তখন সেগুলো আমরা রিভিউ করব। উনি থাকবেন কি না তা উনি বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত আমরা তো বলতে পারব না। উনার সাথে আলোচনা না করে বলতে পারব না। উনি সহি সালামতে ফিরে আসুন। উনি নির্বিঘেœ ফিরে আসার পর তার সাথে আলোচনা করে আমরা জানাব ওই কর্মসূচিগুলো থাকবে কি না এবং থাকলে উনি সেখানে অংশগ্রহণ করবেন কি না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.