শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর বাংলাদেশের জয়োল্লাস
শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর বাংলাদেশের জয়োল্লাস

টাইগারদের মিশন এখন ভারত বধ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

এক জয়ে সব দৃশ্যপটে পরিবর্তন! বাংলাদেশেরও ছিল একটি জয়ের আকুতি। কিন্তু এমন অসম্ভবকে সম্ভব করবে বাংলাদেশ- তা কেউ আশা করেনি। তবে ওই ম্যাচের জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহিম প্রসঙ্গে বিসিবি প্রধানের সমালোচনা বেশ মুখরোচক হয়ে উঠেছে ক্রিকেটাঙ্গনে। মুশফিক ছক্কা মারতে পারেন এটা নাকি নাজমুল হাসানের জানাই ছিল না। ম্যাচ জয়ের পর বিসিবি প্রধানের এমন কথাটা লজ্জার। বোর্ড প্রধান হয়েও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য মুশফিককে যতটা না হেয় করা হয়েছে- তার চেয়ে ঢের বেশি ক্রিকেটারদের সম্পর্কে তার অজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

মুশফিক চাপের মধ্যেও ভালো খেলেন। শুধু তাই নয়, দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করার অভ্যাস তার নতুন নয়।

বিসিবি প্রধানের অমন মন্তব্যের জবাবও দিয়েছেন মুশফিক। যদিও হেসেই বলেছেন, ‘এবার উনি হয়তো বুঝবেন’।

এমন কথার তৎপর্য অনেক। কারণ টেস্ট ক্রিকেটের সফল অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া মুশফিক যেমন ভালোভাবে নেননি, দেশের ক্রিকেটের জন্যও সেটা ছিল ক্ষতিকারক। হাতুরাসিংহসহ দলের সাথে থাকা একটা গ্রুপের কথায় কান দিয়ে বিসিবি প্রধান দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর মুশফিককে সরিয়ে দেন অধিনায়কত্ব থেকে। অথচ এ মুশফিকের ক্যাপ্টেনসিতেই ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশকে টেস্ট ক্রিকেটে হারাতে সক্ষম হয়েছে। মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘটে যায় অনেক কিছু।

সফরে সাকিবের না গিয়ে বিশ্রাম নেয়া। টস জিতে মুশফিক তার সিদ্ধান্তের বাইরে চেয়ে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত মেনে চাহিদার বাইরে চেয়ে দল পরিচালনা করা। উইকেট কিপিং থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা। একজন ক্যাপ্টেন হয়েও বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করতে বাধ্য হওয়া।

ম্যানেজম্যান্টের এসব সিদ্ধান্ত ছিল ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জার ও দৃষ্টিকটু। হাতুরুসিংহে সেগুলো বাস্তবায়ন করে গেছেন বোর্ড সভাপতিকে বুঝিয়ে!

মুশফিক নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে এর বিপক্ষে কিছু কথা বলেছিলেন। দোষ হয়ে যায় সেটাই। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেনসি চলে যায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে ম্যাচে তিনি প্রায় একাই জিতিয়েছেন, তাতে মুশফিকের অনেক অভিব্যক্তি ছিল এসব অশুভ কিছুর বিপক্ষে। মুশফিকের পূঞ্জীভুত ক্ষোভ দূর করতেই তিনি ইঙ্গিতে ‘নাগিন’ ড্যান্সসহ জয়ের উদযাপনটা করেছেন বিভিন্নভাবে।

মুশফিক বলেন, ‘আমরা গত দুই তিন মাস কঠোর পরিশ্রম করেছি। সেটার ফল মিলেছে। এতে সত্যিই ভালো লাগছে। নিজের ওই অবিশ্বাস্য ইনিংস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে নিজের ওপর আস্থা থাকতে হয়। নিজের ওপর বিশ্বাস না থাকলে ভালো করতে পারে না কেউ।’

প্রেমাদাসার ওই উইকেটের প্রশংসাও করেন তিনি। মুশফিক বলেন, ‘ওই উইকেটটাও বেশ ভালো ছিল। যেকোনো ব্যাটসম্যানই এমন একটা ইনিংস খেলবে এমন উইকেটে এটাই স্বাভাবিক। আর সেটা আমি করতে পেরে বেশ খুশি।’

এদিকে গতকাল বাংলাদেশ দলও প্র্যাকটিস করেছে। ভারত এবার তাদের প্রতিপক্ষ। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ কেমন করবে সেটা দেখার বিষয়। বেশ কিছু দিন থেকে জয়ের যে আকুতি ছিল সেটা ওভারকাম করতে পেরে এখন তারা এ রিদমটা ধরে রাখতে চায়। ভারতের বিপক্ষেও যদি এমন ম্যাচটা খেলা সম্ভবপর হয় তাহলে জয় পাওয়া অসম্ভব কিছু না।

কারণ টি-২০ ক্রিকেটে এখনো ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সে সুযোগটা চলে এসেছে। প্রথম সাক্ষাতেই সুযোগ ছিল বেশি। নিজেদের জন্যই সেটা সম্ভব হয়নি। কালকের ম্যাচে সেটা করে দেখানোর প্ল্যানটা কষছেন কোর্টনি ওয়ালশ এবং এখন থেকেই তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলম্বোর প্রেমাসাদা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে।

 

ভারতের কাছেও হার, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে শ্রীলঙ্কা

বৃষ্টিটা বোধহয় সৌভাগ্য হিসেবেই এসেছিল ভারতের জন্য। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টিতে কার্টেল ওভারের ম্যাচ জিতে নিয়েছে তারা অনায়াসে। কলম্বোতে সারা দিনই বৃষ্টি ছিল। খেলা ওই কারণেই দেরিতে শুরু হয়। এক ওভার কার্টেলও হয়ে নির্ধারিত হয় ১৯-এ। এমন ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামতে হয় শ্রীলঙ্কাকে। এখানেই তারা কিছুটা পিছিয়ে যায়। আগের ম্যাচগুলোর মতো পাওয়ারপ্লেতে সেভাবে রান ওঠেনি। উইকেটও হারাতে হয় বৃষ্টিতে দীর্ঘক্ষণ কাভারের নিচে থাকা আর্দ্রতাযুক্ত উইকেটে। তবু ১৫২ রান সংগ্রহ করেছিল তারা ৯ উইকেটে।

কুশল মেন্ডিস ঠিকই নিজের খেলা খেলে দিয়েছেন। তার করা ৫৫ রানের ওপর ভর করেই শ্রীলঙ্কা ওই সংগ্রহে পৌঁছেছিল। এ ছাড়া আর কেউই পারেননি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে। যেটা করেছিল তারা আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে ২১৪ করা দলটি এত কম স্কোর করবে তা ভাবা যায়নি। তবে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের এ ম্যাচে বেশ ভালোই কন্ট্রোল করেছে ভারতীয় বোলাররা। বিশেষ করে পেস বোলার শারডুল ঠাকুরের মারাত্মক বোলিংয়ের মুখে ক্রিজ আঁকড়িয়ে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। চার উইকেট নেন এ বোলার, ২৭ রানে।

অন্যদের মধ্যে সুন্দর নেন দুই উইকেট। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কুশল ছাড়া থারাঙ্গার ২০ রান উল্লেখযোগ্য। আসলে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচটিতে হেরে যাওয়ার পর লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কিছুটা আত্মবিশ্বাসীনতাও লক্ষ করা গেছে। না হয় কুড়ি ওভারের ম্যাচে ৯ উইকেট হারাবে?

এরপর ১৫৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারত প্লান কষেই ব্যাটিং করে। ১৩ রানে রুহিত শর্মা আউট হওয়ার পর, ২২ রানে আউট হন সফল ব্যাটসম্যান শেখর ধাওয়ান। এরপর ৬২ রানে রায়না ও ৮৫ রানে লোকেশ রাহুল আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে। কিন্তু মানিষ পান্ডে ও দিনেশ কার্তিক আর পেছনে তাকায়নি। দু’জন অপরাজিত থেকেই দলকে নিয়ে যান জয়ের মার্কে। পান্ডে অপরাজিত ৩১ বলে ৪২ ও কার্তিক অপরাজিত ছিলেন ২৫ বলে ৩৯ করে। ধ্যানাঞ্জয়া নেন দুই উইকেট।

এটা শ্রীলঙ্কার টানা দ্বিতীয় হার। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠল ভারত। চার পয়েন্ট তাদের তিন ম্যাচে। সমান ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ২ ও এক ম্যাচ কম খেলে বাংলাদেশের পয়েন্টও ২। পরের ম্যাচ আগামীকাল বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে। সোমবারের ম্যাচে পরাজয়ের ফলে বিদায়ের আশঙ্কায় পড়ে গেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.