অনুশীলনে বাংলাদেশ দল
অনুশীলনে বাংলাদেশ দল

প্রতিপক্ষ ভারত : নিজস্ব স্টাইলে খেলবে বাংলাদেশ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

নিদাহাস ট্রফিতে আজ ফিরতি লেগে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগের দেখায় ৬ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৪ রান তাড়া করে জয় পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী মাহমুদুল্লাহরা। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ভারতকে হারানোর মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে তারা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে দুই দিন সময় পেলেও প্রস্তুতি সেভাবে নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। কারণ দুই দিনই বৃষ্টির কারণে বেশি সময় মাঠে অনুশীলন করতে পারেনি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কাল সেই আক্ষেপই ঝরল তার কণ্ঠে।

জানালেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর প্র্যাকটিসই করতে পারেনি তারা। আগের দিন বৃষ্টিতে গা গরম করা ছাড়া হয়নি ব্যাটিং-বোলিং। কালও সেই একই অবস্থা। বিকেলে যাও চেষ্টা করার কথা ছিল মাঠের অবস্থা দেখে ইনজুরির ভয়ে তাও করা হয়নি।

মাহমুদুল্লাহ বললেন, ‘গতকাল (পরশু) প্র্যাকটিস হয়নি, আজো (গতকাল) একই অবস্থা। প্র্যাকটিস হলে অবশ্যই ভালো হতো। কিন্তু কিছু করার নেই। আবহাওয়ার ওপর তো কারো হাত নেই।’ তিনি বলেন, ‘যদি একেবারে কিছুই করা না যায় তাহলে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই নামব (ভারতের বিপক্ষে)।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছিলাম। আমাদের মানসিক প্রস্তুতি ভালো ছিল। সবাই মিলেই চেয়েছিলাম একটা জয়। আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। দলের প্রতিটা স্টাফ, কোচিং বিভাগ, খেলোয়াড় সবাই খুব করে চাচ্ছিল ওই জয়। আমরা পেরেছি লক্ষ্যে পৌঁছাতে।’

তবে এ জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ দল যে আকাশে উঠে গেছে এটা মানতে নারাজ তিনি। কারণ ভালো জয়ের পর আবার ব্যর্থ হওয়ার বহু নজিরও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা জয় পেয়েছি। তার মানে এই নয় যে, অনেক কিছু করে ফেলেছি। হ্যাঁ, ওই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এখনো উন্নতির অনেক জায়গা আছে। ক্রিকেট এমন একটি খেলা যেখানে প্রতি ম্যাচ থেকেই শেখার থাকে। যে জায়গাগুলোতে আমাদের সমস্যা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করছি।’

ভারতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারত খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরা যদি মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে সেভাবে খেলতি পারি তাহলে ওদের হারানো অসম্ভব নয়। মিরাজ ও অপু বেশ ভালো বল করেছে, ওই সময় রান খুব কম হয়েছে। ২০ বলে ওই সময় একটাও বাউন্ডারি হয়নি। এটা ভালো দিক। ওরা বেশ ভালো স্পিনার।’

পেছনের কথা উল্লেখ করে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এ সফর শুরু করি অনেকটাই টেনশনের মধ্য দিয়ে। কারণ এর আগে আমরা পরাজয়ের মধ্যেই ছিলাম। আসলে আমাদের টার্গেট প্রতি ম্যাচেই জয়। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের টার্গেট ফাইনাল খেলা। সে জন্য প্রতি ম্যাচেই আমাদের ভালো করতে হবে।’

মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘এক জয়ে আমরা অনেক কিছু করে ফেলেছি এটা ভাবা ভুল। আমরা মাটিতেই রয়েছি। আমাদের এখনো টি-২০ ভার্সনে প্রতিষ্ঠা পেতে অনেক কাজ করতে হবে। কারণ এ ভার্সনে আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি জয়ের ধারায় থাকব। ভালো করব। একই সাথে এ ভার্সনে বাংলাদেশ নিজেদের স্টাইলেই প্রতিষ্ঠা পাবে।’

বাংলাদেশ স্কোয়াড : মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, লিটন কুমার দাস, আবু হায়হার রনি, আবু জায়েদ রাহী, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল ইসলাম অপু।

ভারত স্কোয়াড : রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, সুরেশ রায়না, মানিশ পান্ডে, দিনেশ কার্তিক, দিপক হুদা, ওয়াশিংটন সুন্দর, যুজবেন্দ্রা চাহাল, অক্ষর প্যাটেল, বিজয় শঙ্কর, শারদুল ঠাকুর, জয়দেব উনাদকট, মোহাম্মদ সিরাজ ও ঋসভ পান্থ।

 

কালো ব্যাজ পরে কাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় পুরো দেশ শোকে মুহ্যমান। এই শোক স্পর্শ করেছে নিদাহাস ট্রফি খেলতে এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দলে।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ জানান, নেপালের দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ দল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে কালো ব্যাজ পরে নামবে।

তিনি বলেন, ‘যখন আমরা খবরটা শুনলাম, খুবই মর্মাহত হয়েছি। শুনেছি সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ জনের মতো বাংলাদেশী ছিলেন। খুবই মর্মান্তিক। তারা কারো না কারো খুব কাছের মানুষ। খুবই বেদনাদায়ক। তাদের পরিবার ও স্বজনকে সমবেদনা জানাই। সৃষ্টিকর্তা যেন তার পরিবার পরিজনের এই শোক বইবার ক্ষমতা দেন, এ দোয়া করি।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.