বাংলাদেশ দল (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশ দল (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টির চোখ রাঙানি : ম্যাচের ভাগ্য কী হবে?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বৃষ্টির কারণে দুই দিন অনুশীলন করা হয়নি বাংলাদেশ দলের। প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সময় পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। তাই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার কথা বলেছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। তবে আরো বিপদ হয়ত সামনে অপেক্ষা করছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা গেছে, কলম্বোতে বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। যদি এমনটা হয় মহাবিপদে পড়বে বাংলাদেশ। তাহলে ম্যাচের ভাগ্য কী হবে?

হিসেব অনুযায়ী, দুই দলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়। আর তাতে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে ভারতের। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এমনিতেই শীর্ষে আছে ভারত। আর এক পয়েন্ট যুক্ত হলে সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে ভারত। ফলে বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুক্রবারের ম্যাচটি তখন কার্যত সেমিফাইনাল হয়ে উঠবে। যারা জিতবে, তারাই ফাইনালে যাবে।

আজকের ম্যাচে তাই টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, ‘হ্যাঁ, এমন আবহাওয়ায় টস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিক বোলাররা একটু সুবিধা পান। কিন্তু পরের দিকে ব্যাট করা খুব সহজ হয়ে যায়। এমনিতেই এটা ব্যাটিং উইকেট। এখানে শেষে যারা ব্যাট করেছেন তারাই জিতেছেন সাধারণত।’

উইকেট নিয়ে মাহমুদুল্লাহর মন্তব্য, ‘এটা সম্পূর্ণ ব্যাটিং উইকেট। এখানে পেসারদের ভালো করা সহজ নয়। মোস্তাফিজ যে খুব খারাপ করছে তা নয়। সে ভালোই করছে। মোস্তাফিজ আমাদের গ্রেট বোলার।’

 

পা মাটিতেই রাখছেন মাহমুদুল্লাহ!

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৪ রান চেজ করে জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ যে অনেক ওপরে উঠে গেছে সেটা মানতে নারাজ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। এখনো উন্নতির অনেক জায়গা রয়ে গেছে। সাথে সাথে এ পারফরম্যান্স কন্টিনিউ করতে হবে। ফলে পা মাটিতেই রাখছেন সাকিবের অবর্তমানে অধিনায়কত্ব করা সিনিয়র ক্রিকেটার। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কাল তিনি আফসোস করেন প্র্যাকটিস নিয়েই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর প্র্যাকটিসই করতে পারেনি তারা। আগের দিন বৃষ্টিতে গা গরম করা ছাড়া হয়নি ব্যাটিং-বোলিং। কালও সেই একই অবস্থা। বিকেলে যদি কিছু করা যায় সে চেষ্টা ছিল। কিন্তু মাঠের যে অবস্থা তাতে ভয় ইনজুরিরও। মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘গতকাল (পরশু) প্র্যাকটিস হয়নি, আজো (গতকাল) একই অবস্থা। প্র্যাকটিস হলে অবশ্যই ভালো হতো। কিন্তু কিছু করার নেই। আবহাওয়ার ওপর তো কারো হাত নেই।’ তিনি বলেন, ‘যদি একেবারে কিছুই করা না যায় তাহলে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই নামব (ভারতের বিপক্ষে)।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছিলাম। আমাদের মানসিক প্রস্তুতি ভালো ছিল। সবাই মিলেই চেয়েছিলাম একটা জয়। আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। দলের প্রতিটা স্টাফ, কোচিং বিভাগ, খেলোয়াড় সবাই খুব করে চাচ্ছিল ওই জয়। আমরা পেরেছি লক্ষ্যে পৌঁছাতে।’ তবে এ জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ দল যে আকাশে উঠে গেছে এটা মানতে নারাজ তিনি। কারণ ভালো জয়ের পর আবার ব্যর্থ হওয়ার বহু নজিরও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা জয় পেয়েছি। তার মানে এই নয় যে, অনেক কিছু করে ফেলেছি। হ্যাঁ, ওই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এখনো উন্নতির অনেক জায়গা আছে। ক্রিকেট এমন একটি খেলা যেখানে প্রতি ম্যাচ থেকেই শেখার থাকে। যে জায়গাগুলোতে আমাদের সমস্যা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করছি।’ ভারতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারত খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরা যদি মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে সেভাবে খেলতি পারি তাহলে ওদের হারানো অসম্ভব নয়। মিরাজ ও অপু বেশ ভালো বল করেছে, ওই সময় রান খুব কম হয়েছে। ২০ বলে ওই সময় একটাও বাউন্ডারি হয়নি। এটা ভালো দিক। ওরা বেশ ভালো স্পিনার।’

পেছনের কথা উল্লেখ করে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এ সফর শুরু করি অনেকটাই টেনশনের মধ্য দিয়ে। কারণ এর আগে আমরা পরাজয়ের মধ্যেই ছিলাম। আসলে আমাদের টার্গেট প্রতি ম্যাচেই জয়। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের টার্গেট ফাইনাল খেলা। সে জন্য প্রতি ম্যাচেই আমাদের ভালো করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এক জয়ে আমরা অনেক কিছু করে ফেলেছি এটা ভাবা ভুল। আমরা মাটিতেই রয়েছি। আমাদের এখনো টি-২০ ভার্সনে প্রতিষ্ঠা পেতে অনেক কাজ করতে হবে। কারণ এ ভার্সনে আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি জয়ের ধারায় থাকব। ভালো করব। একই সাথে এ ভার্সনে বাংলাদেশ নিজেদের স্টাইলেই প্রতিষ্ঠা পাবে।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.