রংপুরে স্বামীর বাড়ির ফটকে অনশন

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর অফিস

রংপুর মহানগরীর চিলমন পাঙ্গাটারী এলাকায় বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে স্বামী তাওহিদ ইসলামের বাড়ির গেটের সামনে অনশন করছেন দশম শ্রেনী পড়ুয়া রুমাইয়া আখতার রুমী এক কিশোরী। দুইদিন থেকে অভূক্ত অবস্থায় থাকলেও বুধবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ওই কিশোরীকে ঘরে উঠায় নি স্বামীর পরিবার। উল্টো তাকে বেদম মারপিট করা হয়েছে। স্থাণীয় কাউন্সিলর পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেও কোন সুরাহা পায় নি কিশোরী।

অনশনরত কিশোরী সুমাইয়া আখতার রুমি নয়া দিগন্তকে জানান, নগরীর মহববত খা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনী পড়া অবস্থায় একই স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্র তাওহিদ ইসলামের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গগে উঠে। এক পর্যায়ে সে অন্তস্বত্বা হয়ে পড়লে বিয়ের চাপ দিলে তাওহিদ তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে বিষয়টি আমি স্কৃল কর্তৃপক্ষ এবং তাওহিদের পরিবারকে জানায়ই। তারপর গ্রাম্য বৈঠকে বিষয়টি প্রামণিত হওয়ার পর ৬ মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়। তবে বয়স কম থাকার কারন দেখিয়ে তাওহিদের পিতা আমিনুর রহমান সেসময় রেজিষ্ট্রি বিয়ে করান নি। বিয়ের পর তাওহিদ আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং আমরা ঘর সংসার করি।

রুমি জানান, এরই মধ্যে আমার সাথে তাওহিদের পরিবারের লোকজন নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে। আমার ভবিষ্যতের পড়ালেখার কথা চিন্তা তারা আমাকে দুই মাসের পেটের সন্তান এ্যবরশন করাতে বাধ্য করে। এ্যবরশনের পরই শুরু হয় তাওহিদের পরিবারের নতুন খেলা। তারা জোড়পুর্বক আমাকে পিতার বাড়ি পার্শ্ববর্তি মধুকমল এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ১ মাস থাকার পর আমি আবারও স্বামীর বাড়িতে আসলে স্বামীর পরিবার আমাকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে স্থাণীয় সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন আমাকে বড়িতে নিয়ে গিয়ে তিনদিন রাখেন।

রুমি জানান, সেখানে থেকে মঙ্গলবার সকালে মেম্বার আবুল হোসেন আমাকে তাওহিদের বাড়িতে উঠিয়ে দিতে আসলেও তারা আমাকে গ্রহন করে নি। এক পর্যায়ে আবুল হোসেনের উপস্থিতিতেই আমাকে শশুড় আমিনুর, শাশুড়ী নুরজাহানসহ অন্যান্যরা ব্যপক মারপিট করে রাস্তায় ফেলে যায়। সেখান থেকে কোনমতে উঠে এসে আমি স্বামীর বাড়ির গেটের সামনে অনশনে বসেছি। আমার সাথে এলাকার শত শত মানুষ এসে যোগ দেয়। এরই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে আমার শশুড় ও শাশুড়ী গেটের বাইরে এসে এলাকাবাসিকে লাঠি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি আমাকেও নির্যাতন করে।

রুমি আরও জানান, বিষয়টি আমি স্থাণীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানী, কোতয়ালি থানার ওসিসহ সবাইকে জানিয়েছি। কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত আমার দাবি পূরণে এগিয়ে আসে নি। বরং আমার শশুড় বাড়ির লোকজন আমার স্বামীকে লুকিয়ে রেখে আমাকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য মারপিটকরার পাশাপাশি হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমাকে বিয়ের স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত আমি না খেয়ে থাকবো।
মহব্বত খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন জানান, অনশনরত ছাত্রী আমার বিদ্যালয়ে দশম শ্রেনীতে পড়ে। গত ৬ মাস আগে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করা হলেও ছেলের পরিবার বিষয়টি নিয়ে টালবাহনা করছে। এতে মেয়েটির জীবন সংকটের মুখে পড়েছে।

রুমির পিতা এনামুল হক নয়া দিগন্তকে জানান, আমার মেয়ের জীবনটাকে ধংস করে দেয়া হচ্ছে। ওরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ওদেরকে কিছু বলতে পারছে না। কেউ কিছু বলতে গেলে তার নামে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। আমি চাই আমার মেয়েকে তার স্বামীর ঘরে সংসার করার সুযোগ দেয়া হোক।

তাওহিদের পিতা আমিনুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, গত ৬ মাস আগে রুমির পরিবারের লোকজন আমার ছেলেকে জোড় করে বিয়ে দেয়। মৌখিক ভাবে আমি বিয়াইকে ডাকি এবং আমাদের মধ্যে একটা চুক্তি হয় যে, ছেলেমেয়ে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত সংসার করবে না। সেজন্যই আমি তাকে ঘরে তুলি নি। তবে প্রোরোচিত করে পেটের সন্তান এ্যবরশন করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

রংপুর সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানী নয়া দিগন্তকে জানান, বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতে উভয়পক্ষের লোকজনকে নিয়ে বসার কথা আছে।

এ ব্যপারে রংপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ নয়া দিগন্তকে জানান, ভুক্তভোগি কিশোরী বিষয়টি মোবাইল ফোনে আমাকে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, রুমি রংপুর মহানগরীর ৮ নং ওয়ার্ডের বধু কমল এলাার এনামুল হক এবং তাওহিদ ৯ নং ওয়ার্ডের চিলমন পাঙ্গাটারী এলাকার আমিনুর রহমানের পুত্র। এলাকাবাসি জানিয়েছেন, রুমির পরিবার গরীব হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন তাওহিদের পরিবার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.