ব ই আ লো চ না

একটি ব্যতিক্রমী বই

অতীতের অনুসূচনা, ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন এবং বর্তমানের পরিকল্পনাহীন জীবন বেকুবের জিন্দেগি। হজরত আলী রা:-এর এই চিরন্তন বাণীরই যেন সম্প্রসারণ ‘আমার অতীত আমার সংগ্রাম আমার ভাবনা’ নামক বইটি।
বইটির লেখক মো: মুস্তাফিজুর রহমান প্রাণন্তর চেষ্টা করেছেন। বইটি ৩২০ পৃষ্ঠার। প্রকাশক সূচিপত্র।
এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী বই। দুই পর্বে লিখিত। প্রথম পর্বে একটি জনপদের সুখ-দুঃখ ও বিরাজমান অবস্থার বর্ণনা। সে জনপদের নাম বগুড়া। বগুড়ার একটি জনপদের পত্তন ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অধিবাসীদের জীবনযাপন পদ্ধতি, তাদের আনন্দ-বেদনা, নানা কুসংস্কার, ভয়-ভীতির পরিবেশ, লোকদের ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার-আচরণ, আসা-আকাক্সা ও সংস্কৃতির যে চিত্রটি লেখকের লেখায় উঠে এসে তার বাংলাদেশের নদ-নদী বিস্তৃত পললভূমি অঞ্চলের প্রচ্ছদ।
এ অংশে লেখকের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে সংগ্রাম করে জীবনে প্রতিষ্ঠার কথাও এসেছে। এসেছে পীর-মুরিদের ইতিহাস, মাজার, ওরস শরিফ, ভণ্ডপীর, ওয়াজ-নসিহত, বয়ান, ভূত-পেতœী, জিনের আছর, দেও-দৈত্যের গল্প, কলেরা-বসন্ত, মহামারীর অভিনব চিকিৎসার কথা। এলাকার কিছু সাধারণ মানুষের চরিত্র, বৈশিষ্ট্য অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়, ট্রেন সার্ভিসের পরিবর্তে বাস সার্ভিসের উত্থান, মিল কারখানা, ব্যাংক ইত্যাদি জাতীয়করণের করুণ পরিণতি এবং স্বপ্নের ঢাকা শহর বস্তিতে রূপান্তরের কথাও এসেছে। দ্বিতীয় পর্বে রয়েছেÑ ইংরেজ ও উপনিবেশ শাসনামলের কথা। দেশীয় বশংবদ তৈরি ও তাদের ক্ষমতায়ন এবং উসমানিয়া সালতানাত কিভাবে উৎখাত হয়েছিল বংশবদদের দিয়ে সে কথাও উঠে এসেছে।
লেখক গ্রামগঞ্জের আমজনতার বিনোদনও বাদ দেননি। তার ভাষায়Ñ ‘সে জমানায় বিনোদনের জন্য তাদের গ্রামে না ছিল টেলিভিশন, না ছিল রেডিও। রেডিও বেশ বড়ো সাইজের হতো এবং তা চালাবার জন্য কয়েক কেজি ওজনের ব্যাটারি লাগত।’ এভাবে লেখক রাতে কিসসা শোনা, বিষাদসিন্দু পাঠ, কলের গান, রেডিও শোনা, কবিয়াল গানের বাহাস, সিরাজউদ্দৌলা, টিপু সুলতান নাটক ও যাত্রাগান ইত্যাদিও কিছু না কিছু তুলে এনেছেন। তুলে এনেছেন ঘুড়ি, পতেঙ্গা ওচাং উড়ানো, হাডুডু খেলা, লাঠি খেলা, নৌকাবাইচ, পাতা খেলা ইত্যাদিও। এখানেও থেমে থাকেননি, কৃষক ও জেলের গ্রামীণজীবনও প্রয়োজনে আলোচনা করেছেন খুব সুন্দরভাবে।
উমাইয়া আব্বাসীয় যুগও প্রয়োজনে তুলে এনেছেন অত্যন্ত সুন্দর পরিমার্জিত ভাষায়। এনেছেন খ্রিষ্টান ও ব্রিটিশদের কথাও। সাদ্দাম ও তার ইরাক ও বর্ণনা করেছেন প্রয়োজনবোধে। ৯/১১ বা ওসামা বিন লাদেনও বাদ যায়নি।
বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি।
Ñনূর মোহাম্মদ

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.