বিশ্বসাহিত্যের টুকিটাকি

মতিন মাহমুদ

কে জয় করবেন ম্যান বুকার
বুকার পুরস্কারের পর ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। ম্যান বুকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুরস্কারটি দ্বিবার্ষিক থেকে বার্ষিক করার মধ্য দিয়ে ম্যান গ্রুপ ও ব্রিটিশ রয়াল সোসাইটি অব লিটারেচার কর্তৃপক্ষও বিদেশী লেখকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য ১৩টি বইয়ের লংলিস্ট গত সোমবার লন্ডনে প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় এর আগে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল বিজয়ী দক্ষিণ কোরীয় লেখিকা হ্যান কাং ও হাঙ্গেরীর লাজল্লো রয়েছেন। আরো রয়েছে ইরাক, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মান, অস্ট্রিয়া, তাইওয়ান ও আর্জেন্টিনার লেখক-লেখিকারা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে লংলিস্ট থেকে শর্টলিস্টে কারা আসছেন এবং সবশেষে বিজয়ীর হাসি কে হাসবেন? পুরনোদের কেউ কি আবারো জিতে নেবেন, নাকি উঠে আসবেন নতুন লেখক। এখন সেটা নিয়েই চলছে জল্পনা কল্পনা। ম্যান বুকার পুরস্কারের সাথে ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের কিছু ভিন্নতা রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের ক্ষেত্রে বিশ্বের যেকোনো দেশের লেখকের উপন্যাস বা ছোটগল্প সংগ্রহ অংশ নিতে পারে। তবে তা ইংরেজি ভাষায় অনূদিত এবং ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হতে হবে। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড। আর তা মূল লেখক এবং অনুবাদকের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। দেখা যাচ্ছে অনুবাদকের এখানে একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে এবং সম্মানও রয়েছে। আর শর্টলিস্টভুক্ত প্রতিটি বইয়ের জন্য লেখক ও অনুবাদকেরা এক হাজার পাউন্ড করে পাবেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ এক লাখ টাকারও বেশি। এ বছর ১০৮টি বই থেকে বিচারকমণ্ডলী ১৩টি বই লংলিস্টের জন্য মনোনীত করেন। বিচারক প্যানেলের সভাপতির দায়িত্বে আছেন সাহিত্যের অধ্যাপক ও লেখিকা রয়েল সোসাইটি অব লিটারেচারের চেয়ারপারসন লিস আপিগনানেসি। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন কবি, রিভিউয়ার ও অনুবাদক মাইকেল হফম্যান, ঔপন্যাসিক হারি কুনজুরো, সাংবাদিক ও সাহিত্য সমালোচক টিম মার্টিন এবং ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্প লেখিকা হলেন ওয়োমি।
বিচারক প্যানেলের চেয়ারপারসন লিসা বলেছেন, এই পুরস্কার কমিটির নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত হয়েছি, আমরা বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। লংলিস্টে আসার মতো আরো বই ছিল। আমরা অনেক ভালো লেখক ও বই পেয়েছি। তালিকায় আছে দক্ষিণ কোরিয়ার হ্যান কাং-এর ‘দি হোয়াইট বুক’ অনুবাদ করেছেন ডেবোরাহ স্মিথ। কাং ২০১৬ সালে বিজয়ী হয়েছিলেন তার ‘দি ভেজিটেরিয়ান’ উপন্যাসের জন্য। রয়েছেন হাঙ্গেরীর লাজল্লো ক্রাসনাহোরকাই। তার উপন্যাসের নাম ‘দি ওয়ার্ল্ড গোজ অন’। অনুবাদ করেছেন জন বাটকি, অটিলি মুলজেট ও জন সিতেস।
ইরাকের লেখক আহমেদ সাদাবি রয়েছেন এই তালিকায়। তার বইয়ের নাম ‘ফ্রাংকেনস্টাইন ইন বাগদাদ’। এই অনুবাদ করেছেন জোনাথন রাইট। স্পেনের রয়েছেন তিনজন। জেভিয়ার সার্কাস, তার বইয়ের নাম ‘দি ইমপস্টোর’, অনুবাদ ফ্রাংক ওয়েইন। এন্টোনিও মুনজ মলিনা- বই : ‘লাইক ও ফেডিং শ্যাডো’, অনুবাদ ক্যামিলো এ রামিরেজ। গ্যাব্রিয়েল ইয়াবরা, বই : ‘দি ডিনার গেস্ট’, অনুবাদ নাতাশা উইমার। ফ্রান্সের আছেন দু’জন। লরেন্স বিনেটের বইয়ের নাম ‘দি সেভেনথ ফাংশান অব ল্যাংগুয়েজ’, অনুবাদ স্যাম টেইলর। ভার্জিনি ডেসপেন্টেস-বই : ‘ভার্নন সুবুটেক্স’ অনুবাদ ফ্রাংক ওয়েন। রয়েছেন জার্মানির জেনি এরপেনচেক- তার বইয়ের নাম ‘গো, ওয়েন্ট, গন’, অনুবাদ সুসান বারনোফস্কি। আরো আছেন আর্জেন্টিনার আরিয়ানা হারউইক (বই ‘ডাই, মাই লাইফ’, অনুবাদ সারাহ মোজেস ও ক্যারোলিনা অবলোফ), অস্ট্রিয়ার ক্রিস্টোফার বানস মারার (বই ‘দি ফাইন মাউন্টেন’ : অনুবাদ সিমন পেয়ার, পোল্যান্ডের ওলগা টোকারজুক (বই : ফাইটস’ : অনুবাদ-জেনিফার ফ্রান্ট) ও তাইওয়ানের উ মিং-ই (বই ‘দি স্টোলেন বাইসাইকেল’, : অনুবাদ-ডারিল স্টার্ক)। আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্য থেকে ছয়টি বইয়ের শর্টলিস্ট প্রকাশিত হবে। আর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ২২ মে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট মিউজিয়ামে এক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে। সে পর্যন্ত জল্পনা কল্পনা চলতেই থাকবে, বলাই বাহুল্য।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.