সেলিম মোল্যা
সেলিম মোল্যা

গণপূর্তের মালি : এক স্ত্রীকে দিয়েছেন দামি গাড়ি-ফ্ল্যাট, অপর স্ত্রীকে প্লট

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপূর্ত অধিদফতরের এক কর্মচারীর প্রায় আড়াই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেলিম মোল্যা নামে ওই কর্মচারী গণপূর্ত অধিদফতরে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রারিক হিসেবে কর্মরত।
তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গতকাল রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে দুদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে সেলিম মোল্যা তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে গোপনকৃত ২ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ৯৮৫ টাকার সম্পদসহ ২ কোটি ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তিনি নিজ ভোগ দখলে রেখেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, সেলিম মোল্যা ১৯৮৪ সালে মালি পদে গণপূর্ত অধিদফতরের অধীন আরবরি কালচার ডিভিশনে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে দীর্ঘ দিন প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি দাফতরিক কাজে প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজ নামে, তার প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জন করেন। তিনি অবৈধ উপার্জন দিয়ে এক স্ত্রীর নামে উত্তর শাহজাহানপুরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয়, টয়োটা প্রিমিও ব্র্যান্ডের কার ক্রয়, আরেক স্ত্রীর নামে খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকায় প্লট ক্রয়, নিজ নামে মাইক্রোবাস, ট্রাক ক্রয়, মানিকগঞ্জ ঝিটকা এলাকায় তিনতলা আবাসিক ভবন এবং বহুতলবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায় তিনি নিজ নামে মোট ৩ কোটি ১০ লাখ সতের হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হন, যেখানে তিনি ২ কোটি ৪২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের বিপরীতে কোনো আয় দেখাতে পারেননি। এছাড়া তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.