তুলাগাছ সূর্যকন্যা

মানুষ যে সুতি কাপড় পরে সেটি মূলত কিসের তৈরি? তুলা থেকে তৈরি বা উৎপন্ন। আমরা তুলা অনেক কাজেই ব্যবহার করি। কিছু মানুষ তুলাগাছকে সূর্যকন্যা নামে অভিহিত করে। কারণ সূর্যের শক্তিশালী তাপে তুলাগাছ জন্মায়, আবার শক্তিশালীভাবে বেঁচেও থাকে সূর্যের আলোর উত্তাপের ওপর। সূর্যের তাপ যত বেশি উত্তপ্ত হবে তুলার আঁশ তত বেশি সাদা ও শক্ত হবে। এ জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ অঞ্চল এবং এর কাছের এলাকাগুলোয় তুলা চাষ ভালো হয়। পৃথিবীর ৩৭০ উত্তর ও ৩৭০ দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত দেশগুলোয় সাধারণত তুলা চাষ ভালো হয়।
তুলাগাছ যখন প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তখন তাতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু গাছে ফল হওয়ার পর থেকে শুষ্ক হাওয়া প্রয়োজন। ফল তার শুষ্ক বীজকোষের মুখ উন্মুক্ত করে আর তুলার সাদা গোলাকার বীজকোষ বেরিয়ে আসে। এ সময় সামান্য আর্দ্রতায় তুলার আঁশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী আবহাওয়া হলো বীজকোষের মুখ খোলার আগ পর্যন্ত বৃষ্টি এবং পরে সম্পূর্ণ শুষ্ক অবস্থা। কাপড় তৈরির তন্তুর জন্য তুলা খুবই উপযোগী। একমাত্র তুলার আঁশ ব্যবহার করার জন্য অন্য কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণ করার প্রয়োজন হয় না। শুধু ব্যবহারের আগে বিচি ছাড়িয়ে নিতে হয়।
তুলাগাছ সাধারণত এক থেকে দুই মিটার লম্বা হয়। গাছের মূল শেকড় খাড়াভাবে লম্বা আর পাতাগুলো প্রশস্ত হয়। তুলার ফুলগুলো সাদা, মাত্র এক দিন বেঁচে থাকে। ফুল শুকানোর পর ফলের জন্ম হয়। তুলার গোলাকার কোষ পরিপূর্ণ সবুজ আকৃতি আসতে প্রায় দুই মাস লাগে।
তুলা ২০ ধরনের। এর মধ্যে চার ধরনের তুলার চাষ হয়। রাশিয়া, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানত তুলা চাষ হয়। এ ছাড়া ভারত, পেরু, ব্রাজিল, মিসর, পাকিস্তানের উষ্ণ অঞ্চলে তুলা খুব ভালো হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.