সাগর নিয়ে রূপকথা

মৃত্যুঞ্জয় রায়

যেসব দেশের সাথে সাগর বা মহাসাগর রয়েছে সেসব দেশের প্রায় প্রতিটি দেশেই সাগরকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে অনেক মজার মজার রূপকথা। তবে এ ক্ষেত্রে বাল্টিক সাগরের দেশ ডেনমার্কের যেন কোনো তুলনা নেই। কতশত রূপকথায় যে সাগর বন্দী হয়ে আছে! এমনই একটি বিশ্বশ্রেষ্ঠ রূপকথা ‘দ্য লিটল মারমেইড’ লেখা হয়েছে সাগরকে নিয়ে। রূপকথার নায়িকা মৎস্যকন্যাÑ যার প্রায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি সাগরে। এ মজার রূপকথাটি নিশ্চয়ই তোমরা অনেকে পড়েছ। রূপকথার সেই মৎস্যকুমারী ছিল অর্ধেক মানবী আর অর্ধেক মাছ। সাগর রাজার পাঁচ মেয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। সে থাকত সাগরে, মাছের মতোই। এক মানব রাজপুত্রকে ভালোবেসে অমর আত্মার অধিকারী হওয়ার আকাক্সক্ষায় সে তার জীবন বিসর্জন দেয়। কত কল্পকাহিনী, নাটক, সিনেমা, কার্টুন, অ্যানিমেশন ফিল্ম, উপন্যাস, ডাকটিকিট যে এই মৎস্যকুমারীকে ঘিরে সারা বিশ্বে হয়েছে! কোপেনহেগেন শহরের এক প্রান্তে বাল্টিক সাগরের তীরে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বখ্যাত অপূর্ব স্থাপত্য ‘লিটল মারমেইড’। প্রতি বছর লক্ষাধিক পর্যটক তাকে দেখতেও যায় সেখানে। দুনিয়াজুড়ে এই লিটল মারমেইড মূর্তিটি এখন ডেনমার্কের পরিচিতি আইকন। মজার এ রূপকথাটি কে লিখেছেন জানো? ১৮৩৬ সালে হ্যান্স ক্রিস্টিয়ান এন্ডারসেনের এ রূপকথাটি প্রকাশিত হলে বিশ্বব্যাপী তা বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। বাংলা ভাষাতেও সাগরকে কেন্দ্র করে ‘পাতালপুরীর রাজকন্যা’ নামে এক মজার রূপকথা আছে। সাগরকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর আরো কিছু বিখ্যাত ও পরিচিত রূপকথা হলো নরওয়ের সাগর কেন লোনা (হোয়াই দ্য সি ইজ সল্ট), ইউরোপীয় রূপকথা লিলিপুটের দেশে (ভয়েজ টু লিলিপুট), জার্মান রূপকথা সোনালি মৎস্যকন্যা (গোল্ডেন মারমেইড) এবং জেলে ও জেলে বউয়ের কাহিনী (স্টোরি অব ফিশারম্যান অ্যান্ড হিজ ওয়াইফ) প্রভৃতি। খুঁজলে হয়তো আরো পাওয়া যাবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.