আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তোমরা তো জানোই, তিনি আমাদের বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। শেখ মুজিব বাংলাদেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। সহ্য করেছেন জেল-জুলুম। বঙ্গবন্ধু জীবনের সুখ-স্বস্তি, আরাম-আয়েশ, ধনদৌলতের মোহ ত্যাগ করেন। কেন? গরিব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, তিনি এক ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। পরে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় অর্জিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন দেশে কিছু বিপথগামী সৈন্যের হাতে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথার বিখ্যাত বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ করেছে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। বইটি তোমরা পড়তে পারো বড়দের সাহায্য নিয়ে। জানার ও শেখার আছে অনেক কিছু। তোমাদের জানার জন্য এ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো :
“আব্বার কাছেই আমি ঘুমাতাম। তাঁর গলা ধরে রাতে না ঘুমালে আমার ঘুম আসত না। আমি বংশের বড় ছেলে, তাই সমস্ত আদর আমারই ছিল। আমার মেজো চাচারও কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। আমার ছোট দাদারও একমাত্র ছেলে আছে। তিনিও ‘খান সাহেব’ খেতাব পান। এখন আইয়ুব সাহেবের আমলে প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য আছেন। ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের সভ্যও ছিলেন, নাম শেখ মোশাররফ হোসেন।
১৯৩৪ সালে যখন আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি তখন ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছোট সময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং খুব ভাল ব্রতচারী করতে পারতাম। হঠাৎ বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। আব্বা আমাকে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যান। কলকাতার বড় বড় ডাক্তার শিবপদ ভট্টাচার্য, এ কে রায় চৌধুরী আরো অনেককেই দেখান এবং চিকিৎসা করাতে থাকেন। প্রায় দুই বছর আমার এইভাবে চলল।”

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.