স্ত্রীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত মালয়েশিয়া প্রবাসী
স্ত্রীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত মালয়েশিয়া প্রবাসী

স্ত্রীর পরকীয়ায় সর্বস্বান্ত মালয়েশিয়া প্রবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্ত্রীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হওয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী খোরশেদ আলম এখন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। পুলিশের তদন্তে স্ত্রীর প্রতারণার প্রমাণ মিললেও খোরশেদ কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। বরং টাকা বা সম্পদ ফিরে পাওয়া দূরের কথা, উল্টো সাবেক স্ত্রীর অব্যাহত হুমকির কারণে তিনি দেশেও ফিরতে পারছেন না।

রাজবাড়ী জেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম ২০০৫ সালে একই গ্রামের ওমবার আলীর মেয়ে ঝুমুর ওরফে আকলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের দিয়া নামে এক কন্যাসন্তান (১২) রয়েছে। খোরশেদ আলম স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সুখে জীবন যাপনের আশায় বেশ কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। খোরশেদ জানান, বিদেশ থেকে প্রতি মাসে স্ত্রীর নামে টাকা পাঠাতেন। সংসারের খরচ ছাড়াও এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা স্ত্রীকে পাঠিয়েছেন।

কিন্তু খোরশেদ বিদেশ থাকা অবস্থায় পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন স্ত্রী। একপর্যায়ে গোপনে অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৩ সালে খোরশেদ আলমকে ডিভোর্স দেন তিনি। কিন্তু খোরশেদ এর কিছুই জানতেন না। বিষয়টি গোপন রেখে তার কাছ থেকে নিয়মিত সংসার খরচ এবং জমা রাখার জন্য বাড়তি টাকা নিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে এলাকার লোকজন টের পেয়ে বিষয়টি খোরশেদ আলমকে জানালে তিনি টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেন। কিন্তু খোরশেদ আলম জীবনে যা অর্জন করেছিলেন তার সবই হাতিয়ে নিয়ে ছটকে পড়েন আকলিমা আক্তার।
এতেই ক্ষান্ত হননি আকলিমা। মেয়েকে জিম্মি করে খোরশেদ আলমকে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন নানাভাবে। টাকা না পাঠালে মেয়েকে হত্যা করে উল্টো তাকে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন তিনি। স্ত্রীর প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে খোরশেদ মানবাধিকার সংস্থাসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ দিকে স্ত্রীর প্রতারণার বিষয় খোরশেদ আলমের পক্ষে তার পরিবার আইজিপির দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে। রাজবাড়ী সদরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আছাদুজ্জামান গত ১৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন। তদন্তে প্রতারণার প্রমাণ মেলে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আকলিমা আক্তার ওরফে ঝুমুর তার স্বামী খোরশেদ আলমকে গত ২০১৩ সালে একতরফাভাবে তালাক প্রদান করে বিষয়টি গোপন রাখেন। এর পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তিনি ও তার মা রেখা বেগম মালয়েশিয়া থেকে খোরশেদ আলমের পাঠানো ৯ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৭ টাকা ও জমি ক্রয় বাবদ ৬ লাখ টাকাসহ মোট ১৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আকলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়।

খোরশেদ আলম ফোনে অভিযোগ করেন, পুলিশের তদন্তে স্ত্রীর প্রতারণার প্রমাণ মিললেও আকলিমা তার টাকা ফেরত দেয়া দূরের কথা, উল্টো তার হুমকিতে পরিবার নিয়ে শঙ্কিত। এমনকি তিনি আকলিমার হুমকির কারণে দেশেও ফিরতে পারছেন না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.