প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যার লাশের জন্য স্বজনদের অপেক্ষা

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গত সোমবার ইউএস-বাংলার বিমান দূর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরের দুই পরিবারের পাঁচ সদস্যের তিন সদস্য শুক্রবার বিকেলে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। এরা হলেন গাজীপুরের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান, তার স্ত্রী কামরুন নাহার স্বর্ণা ও মেহেদী হাসানের ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী অ্যালমুন নাহার এ্যানি। তবে তাদের সঙ্গে ফিরেন নি এ্যানির স্বামী আলোকচিত্রী ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও তাদের শিশু সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামারা।
দূর্ঘটনায় প্রিয়ক ও তামারা নিহত হয়েছেন। নিহতদের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তাদের স্বজনরা। একমাত্র ছেলে ও নাতনীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগম। আহত পূত্রবধূ শুক্রবার দেশে ফিরে আসার খবরে তিনি কিছুটা স্বস্তি পেলেও নিহত ছেলে ও নাতনীর জন্য তিনি বিলাপ করে কাঁদতে থাকেন।
এসময় তিনি বলতে থাকেন আমার ছেলে ও নাতনী কখন আমাদের মাঝে ফিরে আসবে, আমি তাদেরকে দেখতে চাই। তার এ বিলাপ করে কান্নার সময় উপস্থিত সবাই অশ্রুসজল হয়ে উঠেন। যেন তাকে সান্তনা দেওয়ার সকল ভাষা সবাই হারিয়ে ফেলেছেন। তবুও স্বজনরা তাকে সান্তনা দেওয়ার পাণান্তর চেষ্টা করছিল।
এদিকে ঘটনার পাঁচদিন পরও নিহতদের লাশ তাদের পরিবার কখন পাবেন সে বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেন নি তাদের স্বজনরা। স্বজনদের লাশের অপেক্ষায় তারা এখন প্রহর গুনছেন। রয়েছেন তারা নানা উৎকণ্ঠায়। তাদের এ অপেক্ষার প্রহর যেন কাটছেনা। শুক্রবার শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামে প্রিয়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পুরো বাড়িতে বিরাজ করছে স্তব্ধতা। কারো মুখে হাসি নেই। প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগমের এখন একটাই চাওয়া কখন ফিরে আসবে তার একমাত্র সন্তান ও নাতনী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায় শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে নেপাল থেকে আহত এ্যানী, মেহেদী ও স্বর্ণা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছেন। পরে বিমান বন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে তাদের যথাযথ চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরিক্ষার করা হবে।
প্রিয়কের চাচাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতটি দেখা ও বিদেশ ভ্রমণের জন্য গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের এফএইচ প্রিয়ক ওরফে ফারুক হোসেন তার তিন বছরের একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ী তামাররা ও স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানিকে নিয়ে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজে চড়ে গত সোমবার নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। একই বিমানে চড়ে ফারুকের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান অমিত ও অমিতের স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তারও নেপাল যাচ্ছিলেন। তাদের পাঁচ দিনের সফর শেষ করে শুক্রবার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তাদের সেই আনন্দ সফর পরিণত হয়েছে বিষাদে। সোমবার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নেপালেই নিহত হন ফারুক ও তার মেয়ে প্রিয়ংময়ী। শুক্রবার প্রিয়কের স্ত্রী এ্যানী, মেহেদী ও তার স্ত্রী স্বর্ণা ফিরে এলেও ফিরে আসেনি প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যা প্রিয়ংময়ী।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.