ads

কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত
কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত
২৯ মার্চ নাগরিক সমাবেশ

মামলা প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহার ও সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থীসহ ও আশপাশের এলাকা থেকে চাকরিপ্রত্যাশীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়া সাজু বলেন, কোটা সংস্কারের যে দাবি, এটা আমাদের অযৌক্তিক দাবি নয়। ইতোমধ্যে সুশীলসমাজও কোটা সংস্কারের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা আশা করছি তরুণদের মনের ভাষা সরকার বুঝতে পারবে। অচিরেই এ কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে।
অন্য বিক্ষোভকারী ইমন বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ হামলা করে উল্টো আমাদের নামে মামলা দিয়েছে। সরকারকে বলব এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে।
এ দিকে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর শাহবাগ মোড়, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), নীলক্ষেত মোড় ঘুরে আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এ সময় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, আগামী ২৫ মার্চ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান হবে শাহবাগ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ২৯ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকেল ৪টায় নাগরিক সমাবেশের আহ্বান করা হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে কোটা সংস্কারপ্রত্যাশীরা। তাদের পাঁচ দফা দাবি হলোÑ কোটা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা, কোটা প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া, চাকরিতে একাধিকবার কোটা সুবিধা ব্যবহার না করা, কোটার কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, চাকরি ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা।
১৪ মার্চ আন্দোলনকারীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়ার উদ্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের সামনে এলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় ঘটনাস্থলে আন্দোলনকারীদের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ ছাড়া দুই পর্যায়ে ৫৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে আটককৃতদের মুক্তি দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দেয়। কিন্তু এ ঘটনায় পুলিশি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানা পুলিশ অজ্ঞাত ৭০০-৮০০ আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে। তারই প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ পালন করে তারা।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিক্ষোভ করেছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা নগরীর দুই নম্বর গেট থেকে মিছিল নিয়ে ষোলশহর পর্যন্ত যান। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশে ঢাকায় আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানানো হয়। একই সাথে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
শাবি সংবাদদাতা জানান, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধসহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে অনেক মুক্তিযেদ্ধার সন্তানও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এডলফ হিটলারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন কর্মসূচির সমন্বয়ক মো: নাসির উদ্দিন, আল আমিন, আলম ভূঁইয়া, খালেদ সাইফুল্লাহ ইলিয়াস, নুরুল আলম ও সুহেল আহমেদ প্রমুখ।
রংপুর অফিস জানায়, বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, রংপুর বিভাগীয় কমিটির ব্যানারে নগরীর লালবাগ মোড় থেকে পার্কের মোড় পর্যন্ত এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা। এতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর সরকারি কলেজ, রংপুর মডেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরে তারা মানববন্ধন করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল, আরিফ, মামুন, ওয়াহেদ, কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদ, রায়হান শরিফ, আরিফ, হানিফ, সোহেল ও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী বিপ্লব।
মানববন্ধন থেকে গত ১৪ মার্চ একই দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ঢাকায় ৬৩ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার ও অজ্ঞাত ৭০০ জনকে আসামি করে মামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।
বাকৃবি সংবাদদাতা জানান, কোটা সংস্কারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
গতকাল রোববার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন তারা। মিছিলটি বিভিন্ন অনুষদের করিডোর হয়ে ফের মুক্তমঞ্চের সামনে আসে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শিক্ষার্থী কামরুল হাসান কামুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেনÑ খান আসিফ তপু, বরকত তমাল, জোবাইদা ফারজানা, আব্দুস সবুর ও আমিনুর রহমান অমিত।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তরুণসমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে। এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। লাখ লাখ বেকারের প্রতি, দেশের জনগণের প্রতি সুফলতা বয়ে আনার লক্ষ্যেই আমাদের কোটা সংস্কার আন্দোলন চালাতে হবে।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.