ads

ডাচ্- বাংলা সোনালী ও অগ্রণী গ্রাহক হয়রানির শীর্ষে
ডাচ্- বাংলা সোনালী ও অগ্রণী গ্রাহক হয়রানির শীর্ষে

ডাচ্- বাংলা সোনালী ও অগ্রণী গ্রাহক হয়রানির শীর্ষে

আশরাফুল ইসলাম

গ্রাহকেরা নানাভাবে ব্যাংকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আর এ হয়রানির মাত্রা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু এক মাসেই হয়রানির শিকার হয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করেছেন ৪০১ গ্রাহক। গ্রাহক হয়রানির শীর্ষে রয়েছে বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এর পরেই রয়েছে সরকারি খাতের সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ তথ্য গত ফেব্রুয়ারি মাসের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকের কাছে নানাভাবে গ্রাহক হয়রানির শিকার হন। বেশির ভাগই এর কোনো প্রতিকার পান না। গ্রাহক হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০১১ সালের ১ এপ্রিল উদ্যোগ নেয়া হয়। হয়রানির প্রতিকার পেতে গ্রাহক তিনভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানাতে পারে। এর মধ্যে টেলিফোনে, লিখিতভাবে ও অনলাইনে হয়রানির তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানাতে পারেন গ্রাহকেরা। প্রতি মাসের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক।


বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১ এপ্রিল থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত অভিযোগ পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৭৩২টি। এর মধ্যে লিখিতভাবে পাওয়া গেছে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার।
এ দিকে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান হতে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে টেলিফোনে ২১৭ গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগ করেন ১৬৯ জন। অনলাইনে অভিযোগ করেন ১৫ জন গ্রাহক। ফলে আলোচ্য মাসে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকের কাছ থেকে ৪০১টি গুরুতর অভিযোগ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৩৯২টিই নিষ্পত্তি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য মাসে গ্রাহকেরা সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করেছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন ৩১ গ্রাহক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আলোচ্য মাসে ২৫ গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করেন। গ্রাহক হয়রানির দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। আলোচ্য মাসে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ২৩ গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। এর মধ্যে সাধারণ ব্যাংকিং সংক্রান্ত সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলোচ্য মাসে সাধারণ ব্যাংকিং সংক্রান্ত ১৫৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পরেই রয়েছে ঋণ ও অগ্রীম সংক্রান্ত ৩৭টি, এলসির বিপরীতে আমদানি বিল পরিশোধ না করা সংক্রান্ত ৪৯টি, কার্ড সংক্রান্ত ৩৭টি, নোটস ও কয়েন সংক্রান্ত ১২টি, সেবা অসন্তোষ সংক্রান্ত ২৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর বাইরে চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত দু’টি, রেমিট্যান্স সংক্রান্ত চারটি, লিগ্যাল নোটিশ দু’টি, ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত তিনটি এবং মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত ১০টি অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে ৫৫টি।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.