মুশফিকের দৃষ্টিতে ফাইনাল ম্যাচের লাভ-ক্ষতি
মুশফিকের দৃষ্টিতে ফাইনাল ম্যাচের লাভ-ক্ষতি

মুশফিকের দৃষ্টিতে ফাইনাল ম্যাচের লাভ-ক্ষতি

বাসস

ভারতের কাছে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে হেরেছে বাংলাদেশ। শিরোপার কাছে গিয়েও তা স্পর্শ করতে না পারলেও নিজেদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে বাহ-বা কুড়িয়েছে টাইগাররা। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের মতে ধীরে হলেও টি-২০ ফরম্যাটে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে বাংলাদেশ। গতকাল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে আজ ঢাকায় ফিরে মুশফিক বলেন, ‘গেলো কয়েক বছর ধরে আমরা টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভালো পারফরমেন্স করে আসছি এবং আমাদের দিনে আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি। তবে টি-২০ ফরম্যাটে আমরা ধীর গতিতে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছি।’

গেলো জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারের পর শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট-টি-২০তে হারের লজ্জ পায় বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় শ্রীলংকার মাটিতে নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে যায় টাইগাররা। ভারতের কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, শ্রীলংকাকে হারিয়ে দেয় টাইগাররা। লীগের দ্বিতীয় পর্বে আবারো ভারতের কাছে হার মানে মাহমুদুল্লাহ’র দল। তবে লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ঠিকই লংকানদের আবারো হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত ইনিংসের কল্যাণে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের ইনিংসের ১৮ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ বাংলাদেশের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু রুবেল হোসেনর ১৯তম ওভারে ২২ রান ও শেষ ওভারে সৌম্য সরকারের কাছ থেকে ১৩ রান আদায় করে বাংলাদেশকে শিরোপা বঞ্চিত করেন উইকেটরক্ষক দিনেশ কার্তিক। ম্যাচের শেষ বলে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিলো ৫ রান। সেখানে ছক্কা মেরে ভারতকে শিরোপা এনে দেন কার্তিক।

শিরোপা হাতছাড়া হলেও দলের পারফরমেন্সে খুশি হয়েছেন বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তাই তো ম্যাচ শেষে সতীর্থদের প্রশংসা করেছেন তিনি। তবে এখনো দলের অনেক কিছু শেখার বাকি আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক দলপতি মুশফিক। তিনি বলেন, ‘এটি সত্যি যে, আমরা এখনো টি-২০ ফরম্যাটে ভালো দল হতে পারিনি। আমরা এখনো অনেক কিছু শিখছি এবং উন্নতি করার চেষ্টা করছি। তবে এমন কিছু বিষয় আছে যেখানে আমরা উন্নতি করতে পারি এবং আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট ও কোচিং স্টাফরা এসব বিষয় জানেন।’

নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলতে বড় অবদান রেখেছেন মুশফিক। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। ৫ ইনিংসে ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান করেছেন মুশফিকুর। লিগের প্রথম পর্বে শ্রীলংকার দেয়া ২১৫ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩৫ বলে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ফলে রেকর্ড গড়ে বড় টার্গেট পূরণ করে জয় পায় বাংলাদেশ।

তবে সব কষ্ট ফাইনালে হারে শেষ হয়ে যায়। তারপরও এই আসরের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে দেবে বলে মনে করেন মুশফিকুর, ‘আমরা ফাইনাল খেলেছি। ফাইনাল খেলা আমাদের জন্য বড় অর্জনই ছিল তবে ফাইনাল হারে সকলে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু আমরা অনুভব করছি, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে দেবে এবং সামনের সিরিজগুলোতে ভালো খেলতে সহায়ক হবে।’

দেশে ফিরেছে টাইগাররা
ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ নিদাহাস ট্রফিতে অংশগ্রহণ শেষে আজ দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টায় শ্রীলংকান একটি বিমানে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে টাইগাররা।
৭০তম জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিদাহাস ট্রফির আয়োজন করেছিল শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ভারতের কাছে দুটি ম্যাচে হেরে গেলেও স্বাগতিক লংকানদের দুই দফায় হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায়।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে লংকানদের ছুড়ে দেয়া রেকর্ড ২১৫ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট টপকে টাইগারদের জয় এনে দিয়েছিলন মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ম্যাচে ফের লংকানদের হারায় বাংলাদেশ। নাটকীয় ম্যাচের শেষ দুই বলের প্রথমটিতে অসাধারণ এক ছক্কা হাকিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে ফের জয়ের আনন্দ এনে দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ওই দুই জয়ের সুবাদে ভারতের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে টাইগাররা।
তবে গতকাল অনুষ্ঠিত টান টান উত্তেজনার ফাইনালে দিনেশ কার্তিকের শেষ বলের ছক্কায় বাংলাদেশ দলের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে ভারত।

সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণের পর মুশফিকুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন,‘ আমরা এখনো টি-২০ ক্রিকেটে ভাল দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারিনি। এখনো অনেক বিষয়ে উন্নতি করার প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি অবশ্যই দেখছেন টিম ম্যানেজম্যান্ট ও কোচিং স্টাফরা।’

তবে ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ভার্সনে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে উল্লেখ করে মুশফিক বলেন, এক দিন দলটি শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.