ভালুকা উপজেলার আউলাতলী গ্রামে খাল ও বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে এভাবেই সাইনবোর্ড ও সীমানা পিলার স্থাপন করা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত
ভালুকা উপজেলার আউলাতলী গ্রামে খাল ও বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে এভাবেই সাইনবোর্ড ও সীমানা পিলার স্থাপন করা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

ভালুকায় খাল ও বন বিভাগের জমি দখলের অভিযোগ

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ভালুকায় ঐতিহ্যবাহী লাউতি খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে সীমানা পিলার স্থাপন করে খালের জায়গা দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এক ব্যক্তি উপজেলার পাড়াগাঁও মৌজার আউলাতলী গ্রামে অবৈধভাবে ওই খালের বেশির ভাগ অংশ ও বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড ও সীমানা পিলার স্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
বন বিভাগ ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকার প্রভাবশালী আব্দুর রশিদ পাড়াগাঁও মৌজার বন বিভাগের দাবিকৃত ৮২ নম্বর দাগসহ বেশ কয়েকটি দাগে ঐতিহ্যবাহী লাউতি খালের পাড় ঘেঁষে প্রায় ১৫ একর জমি কিনেছেন। পরে তিনি ওই স্থানে খালের বেশির ভাগ অংশ ও বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড ও কয়েক শ’ সীমানা পিলার স্থাপন করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, পাশের শ্রীপুর উপজেলা থেকে শুরু হয়ে ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়ন ও হবিরবাড়ির ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে এ লাউতি খাল প্রবাহিত। উজান এলাকার শত শত মিল কারখানার বর্জ্য এ খাল দিয়ে খিরু নদীতে গিয়ে পড়ছে। অসাধু ব্যক্তিদের নজরে পড়ে খালটির প্রায় অংশই বর্তমানে দখলে চলে গেছে। এখন এটি সরু খালে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি হবিরবাড়ি এলাকার প্রভাবশালী আব্দুর রশিদ এ খালের আউলাতলী অংশের বেশির ভাগ দখলে নিয়ে সীমানা পিলার স্থাপন শুরু করেছেন। মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী খালটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এতে এ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের কাদিগড় বিটের বিট কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি জানান, পাড়াগাঁও মৌজার ৮২ নম্বর দাগে মোট জমি রয়েছে ১৭ একর। তার মধ্যে বন বিভাগের রয়েছে তিন একর। ওই মৌজায় বন বিভাগের সাথে জনসাধারণের জমির সীমানা নির্ধারণ করা আছে কি না তা তার জানা নেই। তবে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত জমি ক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, পাড়াগাঁও মৌজার ৮২ নম্বর দাগসহ বেশ কয়েকটি দাগে তিনি ১৫ একর জমি কিনেছেন। আরো জমি কেনা হচ্ছে। তিনি খালের পাড় ঘেঁষে সীমানা পিলার নির্মাণ করছেন তা ঠিক আছে। তবে সরকার যদি খালের মাপ ঠিক করে দেয় তাহলে তিনি পিলার উঠিয়ে নিয়ে তার জমির ওপর স্থাপন করবেন। বনের জমির ওপর সাইনবোর্ড স্থাপনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি তেমন কোনো সদুত্তর দিতে পারননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, বিষয়টি তারও জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন। খাল দখলের মতো কোনো ঘটনা থাকলে দখলকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.