মহেষপুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণের পর তাদের সাথে ইউএনও কামরুল ইসলাম  : নয়া দিগন্ত
মহেষপুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণের পর তাদের সাথে ইউএনও কামরুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত

শিক্ষা বিস্তারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগ মহেশপুরে সাড়া ফেলেছে

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধ, শতভাগ উপস্থিতি ও মাদকমুক্ত ছাত্রসমাজ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন মহেশপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রতিদিন কোনো না কোনো বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান এবং শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিত করেন। ফলে উপজেলার ১৫২টি প্রাথমিক ও ৪৮টি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকেরা সময়মতো হাজির হচ্ছেন। বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় স্কুলের শিক্ষা উপকরণের কী অভাব আছে তা নিজে যাচাই করেন। পরে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করে অভাব পূরণ করেন। ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দেয়ার জন্য জিপিএ ৫ প্রাপ্ত পিএসসির ৪৫০ জন ও জেএসসির ২৮ জন ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধনা, সম্মাননা পুরস্কার ও শিক্ষাসামগ্রী উপহার দিয়েছেন।
উপজেলার কোনো ছাত্রছাত্রী যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় এবং টাকার অভাবে কোনো ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ না হয় তার জন্য তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
এরই মধ্যে মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্কুলব্যাগ বিতরণ করেছেন। সাথে সাথে গরিব ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা দিয়ে তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
শিক্ষকেরা যাতে বেশি করে ক্লাসে মনোযোগী হয় তার জন্য সেরা শিক্ষক নির্বাচন করে এক শিক্ষকের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছে। এ সময় তিনি সেরা স্কুল নির্বাচন করে তাদের সম্মাননা স্মারকও দিয়েছেন।
ছাত্রছাত্রীরা যাতে বাহ্যিক ও সাধারণ জ্ঞানে পিছিয়ে না পড়ে সে জন্য নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতি মাসে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম এর আগে শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন।
দিনমজুর আবদুল কাদেরের ছেলে ফরম ফিলাপের টাকার অভাবে কলেজে পরীক্ষা দিতে পারছিল না। তিনি জানার পর সেই ছেলের হাতে টাকা তুলে দেন। সীমান্তের বাগাডাঙ্গা গ্রামের এক অসহায় ছাত্র ইয়াছিন আলী বিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার মতো ভালো জামাকাপড় ও ব্যাগ নেই এমনটি শোনার পর তার হাতে নতুন পোশাক ও একটি স্কুলব্যাগ তুলে দেন। পুরন্দপুর মডেল একাডেমির শিক্ষকেরা ইউএনওর কাছে একটি কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার দাবি করেন। তিনি সে দাবি সাথে সাথে পূরণ করেন। এ ভাবে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বসার জন্য বেঞ্চ, ক্লাস রুমে ফ্যানের ব্যবস্থা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের উদ্যোগে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা শিক্ষা উন্নয়নের জন্য এডিবির যে বরাদ্দ পান এবার তা সম্পূর্ণ ব্যয় করা হয়েছে এই খাতে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক পান্তাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকার গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
মহেশপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার ব্যাপারে যে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে এ এলাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক গতি আসবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.