খড়খড়িয়া নদী থেকে ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইনসেটে ভেঙে ফেলা সীমানা প্রাচীর  : নয়া দিগন্ত
খড়খড়িয়া নদী থেকে ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইনসেটে ভেঙে ফেলা সীমানা প্রাচীর : নয়া দিগন্ত

খড়খড়িয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি

নীলফামারী সংবাদদাতা

সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের জানেরপাড় গ্রামের খড়খড়িয়া নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন দুইজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে নদীসংলগ্ন বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি ও বালু নিয়ে যাওয়া-আসা করায় ওই এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই মাস ধরে ওই এলাকার প্রভাবশালী রোকনুজ্জামান কাজল ও সোহেল সরকার খড়খড়িয়া নদীর ওই স্থান থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন এক শ’ থেকে দেড় শ’ ট্রাক্টর মাটি ও বালু বিক্রি করেন তারা। দীর্ঘ দিন ধরে মাটি ও বালু উত্তোলন করায় নদীসংলগ্ন জানেরপাড়া, সরকারপাড়া ও বসুনিয়াপাড়ার বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন নদী থেকে শত শত ট্রাক্টর বালু নিয়ে যাওয়া-আসা করায় ওই এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে পড়েছে। ট্রাক্টর যাওয়া-আসার সময় রাস্তার ধুলো উড়ে পাশের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ছাড়া দিনরাত ট্রাক্টরের শব্দে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে গ্রামের লোকজন।
এ দিকে বালু বহনকারী ট্রাক্টর দিয়ে সম্প্রতি জানেরপাড় মসজিদসংলগ্নœ প্রতিবন্ধী আফজাল হোসেনের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। আফজাল হোসেন সীমানা প্রাচীর মেরামত করতে চাইলে উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বালু উত্তোলনকারীরা জানান আফজাল হোসেন।
গত শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, চারটি ট্রাক্টরে করে নদী থেকে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ট্রাক্টর চালকেরা জানান, ভাড়ার চুক্তিতে তারা নদী থেকে মাটি ও বালু পরিবহন করছেন।
জানেরপাড় গ্রামের রাজু বসুনিয়া, মোহাম্মদ আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, হজরত আলীসহ অনেকে জানান, প্রভাবশালী চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। উত্তোলনকৃত বালু ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহন করায় এলাকার রাস্তাঘাট নষ্টসহ সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা ও গাছপালা নষ্ট করা হচ্ছে। নদী থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
বালু উত্তোলনকারী রোকনুজ্জামান কাজল জানান, নদীর যে জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সে জায়গাটি এক সময় তাদের ছিল, এখন নদী হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পরিমল কুমার সরকার জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.