বাড়িতে এডিস মশার জীবাণু পেলে জেলজরিমানা সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৮ এপ্রিল বাসাবাড়িতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, তখন কোনো বাড়িতে এডিস মশার জীবাণু পেলে জেল-জরিমানা, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান মেয়র।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বচ্ছ ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় মশকবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও মশক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
সাঈদ খোকন বলেন, আজ মঙ্গলবার থেকে সংবাদমাধ্যমের সহায়তায় গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। যে গণবিজ্ঞপ্তির মধ্যে থাকবে ‘প্রত্যেক নাগরিক আপনি আপনার বাসাবাড়ি বা বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত টায়ার বা কনটেইনারে স্বচ্ছ পানি জমে থাকলে পরিচ্ছন্ন রাখুন।’ একইসাথে ১ লাখ ৬৫ হাজার বাসায় সচেতনতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি পৌঁছে যাবে। প্রত্যেক বাড়ির মালিককে এ গণবিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ জারি করব। নোটিশে উল্লেখ থাকবে ভবনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন, কোনোক্রমে কোনো অবস্থাতেই যেন এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র না থাকে এটা নিশ্চিত করবেন। এ কার্যক্রম ২০ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
মেয়র বলেন, রেডিও, টেলিভশনসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের কার্যক্রম আরো জোরদার করতে চাই, যাতে জনগণ এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়। পাশাপাশি আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বকে গতিশীল করে মশার প্রজননক্ষেত্র নষ্ট করতে আমাদের কার্যক্রম চলবে।
নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আগে কখনো যা করিনি আজকের সভা থেকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই। আমরা আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে যাচ্ছি। আপনার বাসাবাড়ি আপনি পরিষ্কার করুন। ৮ এপ্রিল থেকে বাসাবাড়িতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
সেই মোবাইল কোর্টের সময় যেসব ভবনে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া যাবে বা লার্ভা পাওয়া যাবে, আইনানুযায়ী সেই সব ভবন মালিকের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
এ সময় তিনি আইনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, আমাদের পেনাল কোডের ২৬৯ এবং ২৭০ এর আওতায় দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। আমরা চাই না কোনো নাগরিক কোনোক্রমে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ুক। পাশাপাশি এও চাই, কারো কোনো অবহেলাজনিত কারণে অন্য কোনো নাগরিক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
মতবিনিময় সভা শেষে মেয়র সাঈদ খোকন আনন্দবাজার এলাকায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় এলাকার যেসব দোকানপাট, ফুটপাথ দখল করে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ করে রেখেছিল তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন। এরপর এসব এলাকায় আবর্জনা পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন মেয়র।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দীন, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজা মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীষ সরকার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, আইসিডিডিআরবির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নুজহাত নাসরিন বানু, সেফওয়ে পেস্ট কন্ট্রোলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মঞ্জুর চৌধুরী প্রমুখ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.