ads

বাড়ির আঙ্গিনায় সাংবাদিক ফয়সালের লাশ দাফন
বাড়ির আঙ্গিনায় সাংবাদিক ফয়সালের লাশ দাফন

বাড়ির আঙ্গিনায় সাংবাদিক ফয়সালের লাশ দাফন

মোঃ বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর

নেপালে বিমান দূর্ঘটনায় নিহত আহমেদ ফয়সালের লাশ আজ মঙ্গলবার তার নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় তাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় হাজার হাজার লোকের অংশগ্রহণে জানাযা হয়। ফয়সালের দাফনের মধ্য দিয়ে ওই বাড়িতে প্রথম কারো কবর দেয়া হলো। বাড়িতে প্রবেশ করতে এবং বের হতে প্রথমেই স্বজনদের চোখ পড়বে ফয়সালের কবরের দিকে। যেতে-আসতেই মা-বাবাসহ সর্ব সময় স্বজনদের দোয়ার জন্যই তাদের চোখের সামনে ফয়সালের লাশ দাফন করা হয় বলে জানান স্বজনরা।

এর আগে সোমবার ফয়সালের লাশ বাংলাদেশে আসছে সংবাদের পর থেকেই ছেলে হারানোর শোকে মা সামছুন নাহার বেগম বার বার বাকরুদ্ধ হয়ে পরেন। বাবা সামছুদ্দিন সরদার ছেলের রুহের মাগফেরাত কামনায় সকলেরর দোয়া কামনা করছেন আর নিরব চোখের পানি ঝরাচ্ছেন। ভাই বোনসহ অন্য স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠে। রাত ৩টায় ফয়সালের লাশ বহনকারী গাড়িটি শরীয়তপুরের ডামুড্যার নিজ বাড়িতে এসে পৌচ্ছায়। সকাল সারে আটটার দিকে তার মরদেহ নিয়ে রাখা হয় পূর্ব মাদারীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে। বেলা বারার সাথে সাথে প্রতিবেশী নারী পুরুষের ঢল নামতে শুরু করে কলেজ মাঠে।

জানাগেছে, শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিধলকুড়া গ্রামের হাজী সামসুদ্দিন সরদারের ছেলে বৈশাখী টেলিভিশনের রিপোর্টার আহমেদ নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়। দূর্ঘটনার পরে সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে ১৯ মার্চ সোমবার বিকেলে একটি বিমানে করে সনাক্ত করা ফয়সালসহ বাংলাদেশী ২৩ জনের লাশ শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌছায়। এর পরে এম্বুলেন্সে করে আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়ে সম্মিলিত জানাযা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর পর তার নিজ কর্মস্থল বৈশাখী টেলিভিশন ও ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে পৃথক পৃথক জানাযা দেয়া হয়।

একই দিন রাত ৩ টায় তার নিজ গ্রামের বাড়ি লাশ পৌছায়। লাশ বাড়ি আসার পর আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশীসহ শত শত লোক ফয়সালের বাড়ি এসে ভিড় জমায়। সেখানে বাব মাসহ সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। নিহতের মা সামনসুন্নাহার বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বাবা সামসুদ্দিন সরদার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এলাকাবাসী ও স্বজনরা সান্তনা দিতে গিয়ে তারাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার রাশ নিয়ে রাখা হয় পূর্ব মাদারীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে।

সকাল সোয়া ১০টায় কলেজ মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী, ডামুড্যা পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর বাচ্চু ছৈয়াল, ডামুড্যা উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি, ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজী আকতার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাস্টার কামাল উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক বাবলু সিকদার, একুশে টিভির বিশেষ প্রতিনিধি দিপু সারোয়ার, বৈশাখী টিভির বাতাং প্রযোজক মহিম চৌধুরী অনন্ত, সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোর্শেদ, রিসাদ মাহামুদ,মাবুদ আজমি, ইকরামুল আদনান ও জসিম।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার লোক জানাযায় অংশ নেয়। জানাযা শেষে ফয়সালের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও তার কর্মস্থলের সহকর্মীরা। শেষে ডামুড্যা বাজারের তার নিজ বাড়ি সরদার গার্ডেনে চোখের পানিতে ফয়সালের লাশ দাফন করা হয়। ফয়সালের লাশ দাফন শেষে তার সহকর্মীরা বিদায় নেয়ার সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় ফয়সালের বাবার সাথে সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.