ads

স্বপ্ন

শরীফ হাসানুল বান্না

রুপালি থালার মতো জোছনা আকাশজুড়ে। জোছনা না থাকলেও বরাবরের মতো কল্পনায় জোছনা দেখার চেষ্টা করি।
আজ অবিশ্বাস্য সুন্দর জোছনা আকাশজুড়ে। বসে জোছনা দেখছি। আশপাশে কী হচ্ছে সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। না থাকারই কথা। এমন অবিশ্বাস্য সুন্দর জোছনা! হঠাৎ একজনের ডাক শুনে বুঝলাম কেউ ডাকছেÑ
এই যে হিমু, এই হিমু।
তার কথায় বিন্দুমাত্র খেয়াল না করে বসে জোছনা দেখছি। তবে লোকটা যে পেছন থেকে ডাকছে সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছি। বারবার ডেকে যাচ্ছে লোকটা। পেছনে তাকাতে ইচ্ছা করছে না। লোকটি এবার একটু জোরেই বললÑ এই যে হিমু সাহেব।
একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও পেছনে ফিরে তাকালাম, তাকিয়ে দেখি আহমেদ! হ্যাঁ, হুমায়ূন আহমেদ দাঁড়িয়ে আছে।
সাদা ধবধবে একটা পাঞ্জাবি গায়ে তাকিয়ে আছে। বললাম, স্যার আপনি এ সময়?
বিস্মিত হলে?
না।
তিনি এক প্রকার অবাক হয়ে বললেন, কেন?
নিজের সৃষ্টি নিজে ভুলে গেছেন নাকি? হিমুরা বিস্মিত হয় না অন্যদের বিস্মিত করার অদ্ভুত ক্ষমতা রাখে।
হু। জোছনা শুধু দেখছ নাকি গায়ে মাখছ?
দুটোই।
সব কিছু ছেড়ে হিমু হলে কেন?
আপনার সৃষ্টিকে পূর্ণতা দেব বলে।
কথা কিন্তু সুন্দর বল তুমি। হিমু হলে তো অনেক কষ্ট করতে হয়।
সে আর এমন কি, বাবার উপদেশ।
হিমু জগৎ সংসারের মায়া ত্যাগ করা অনেক কঠিন। ত্যাগ করতে পেরেছ?
জি পেরেছি।
রুপার কথা কি মনে পড়ে? কথা হয়?
না।
রুপা কি এখন আর তোমার জন্য নীল শাড়ি পরে চুলের খোঁপায় ফুল দিয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করে?
জানি না। রুপা এখন নিজেকে নিয়ে অনেক ব্যস্ত।
মেয়েটা দেখতে মায়াবতী।
হু।
রুপার প্রেমে পড়ে যাওনি তো আবার? মুচকি হেসে প্রশ্নটি করলেন হুমায়ূন স্যার।
না। প্রেম বলে কিছু নেই, সব শরীরের প্রতি আকর্ষণ। শরীর নশ্বর তাই প্রেম ও নশ্বর। রুপাকে অনেক পছন্দ করি। কিন্তু বিষয়টি অপ্রকাশ্য।
আমার কথা আমাকে শুনিয়ে দিলে?
জি দিলাম। আপনি কি চলে যাবেন?
সবাইকে চলে যেতে হবে। সময়টা একটু আগে পরে হবে এই যা, আর কিছু না। আমি কি তোমার সাথে বসে কিছুক্ষণ জোছনা দেখতে পারি?
হুম অবশ্যই পারেন। আসেন দু’জনে একসাথে বসে জোছনা দেখি।
আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে যে (মনে মনে বললাম)।
হুমায়ূন আহমেদ স্যার বসে আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, ভালো থেকো, কাছের মানুষদের ভালো রেখো তবে বুঝতে দিও না, আর হ্যাঁ, আমার সৃষ্টিকে এভাবে বাঁচিয়ে রেখো।
বলতে যাচ্ছিলাম, হুম দোয়া করবেন। ঠিক সেই সময় শরীরে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম, সাথে নারীকণ্ঠ। চোখ মেলে দেখি আম্মু ডাকছে এই হিমু উঠিস না কেন আর কত ঘুমাবি, তাড়াতাড়ি উঠে পড়।
মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছে না, চুপ করে রইলাম। তবে মনে মনে ভাবতে লাগলামÑ কত সুন্দর স্বপ্নই না দেখছিলাম।
গ্রিন রোড, ঢাকা

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.