ads

ঘুরে আসুন শিমুল বাগান

মোহাম্মদ শাহ জাহান

শিমুল বাগান যাবো প্রায় দুই বছরের স্বপ্ন। অবশেষে ঝবব ইধহমষধফবংয-এর মাধ্যমে সময় ঠিক করে কয়েকজন প্রিয়জন মিলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শ্যামলী পরিবহনে রওনা দিলাম। ?বৃহস্পতিবার রাতে অনেক জ্যাম থাকে আর যেহেতু ট্যুরটা এক দিনের, সেহেতু শুক্রবার রাতেই রওনা দিলাম।
রাতে বাস উজান ভাটিতে যাত্রা বিরতি করল। আমরা হালকা নাশতা সেরে নিলাম। সকাল ৬টায় গাড়ি সুনামগঞ্জে থামল। সকালের নাশতা সেরে অটোতে নতুন ব্রিজে এলাম। নতুন ব্রিজ থেকে লেগুনা ভাড়া করলাম লাউরের গড় যাওয়া ও আসা পর্যন্ত। যাওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হলাম। চোখে পড়ল থরে থরে সাজানো শাকসবজি ও তরমুজের বাগান।
লাউরের গড়ে নেমে বিশাল চর মানে বালুর ওপর দিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। প্রখর রৌদ্দ মাথায় নিয়ে হেঁটে চলে এলাম জাদুকাটা নদীর তীরে। এর মাঝে মোবাইলে ডিএসএলআরে ছবিও তোলা হচ্ছে। নৌকায় পার হলাম জাদুকাটা নদী। এ পাড়ে এসে মোটরসাইকেল ঠিক করা হলো বারিকটিলা, নীলাদ্রি ও শিমুল বাগানের জন্য।
বারিকটিলার উঠে তো সবাই অবাক। সামনে সীমানা পিলার। এক দিকে ভারতের মেঘালয় অন্য দিকে বাংলাদেশ আর নিচে জাদুকাটা নদী। মন ভোলানো এ কী অপরূপ দৃশ্য! সবাই ব্যস্ত গ্রুপ ও সিংগেল ছবি তোলায়।
মোটরসাইকেলে গেলাম নীলাদ্রি। আসল নাম শহীদ সিরাজ লেক। কিন্তু এটিকে সবাই নীলাদ্রি লেক নামেই চেনেন। এ লেকের একপাশে পাহাড় যা ভারতের সীমানায় পড়েছে, অন্য পাশে ছোট ছোট টিলা। এর মাঝ দিয়ে চলে গেছে একটি ছোট রাস্তা। শহীদ সিরাজ লেকে এসে প্রথমেই সাইমুন নেমে গেল গোসল করতে। পরে রিপন ভাই, লাবলু, আমি, জাকির ও মামুন।
আবার মোটরসাইকেলে চলে গেলাম সেই আকাক্সিক্ষত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিমুল ফুলের বাগান। ১০০ বিঘাজুড়ে এই শিমুল ফুলের বাগান, পাশাপাশি আছে লেবুগাছ। প্রায় ১৪ বছর আগে দুই হাজার ৪০০ শতক জমিতে এই শিমুল বাগান গড়ে তোলেন জয়নাল আবেদীন নামে স্থানীয় এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। বসন্তের দুপুরে পাপড়ি মেলে থাকা শিমুলের রক্তিম আভা মন রাঙায় তো বটেই, ঘুম ভাঙায় শৌখিন হৃদয়ের। ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝে জাদুকাটা নদী আর এপারে শিমুল বাগান। সব মিলে গড়ে তুলেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য। বসন্ত এলে যখন একসাথে গাছে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে তখন পর্যটকদের নজর কেড়ে নেয় শিমুল বাগান। জয়নুল আবেদিন শখেই এ বাগানটি করেন কিন্তু বাগানটি যে এতটাই সুন্দর রূপ নেবে তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউই জানতেন না। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস, তিনি নিজেই এর আসল রূপ না দেখেই চলে গেছেন পরপারে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই অর্থাৎ বসন্তের শুরুতেই এর আসল রূপ প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। শিমুল বাগানে ঘণ্টাখানেক থেকে চলে এলাম আর মনটা রেখে এলাম ওখানেই। আবারো যেতে হবে। ফেরার পথে গেলাম হাসন রাজার বাড়ি ও সিলেটের হজরত শাহজালাল রহ:-এর মাজার। রাতের বাসেই ফিরে এলাম ঢাকায়। সাথে থাকল দারুণ একটা ভ্রমণের আনন্দ।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বাসে সুনামগঞ্জ। ভাড়া ৫৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ নেমে নতুন ব্রিজের ওই পাড়ে মোটরসাইকেল। বারিকটিলা নদীর এ পাড় পর্যন্ত ভাড়া ২০০ টাকা। চুক্তি করে ১৫০ টাকায়ও যাওয়া সম্ভব! এতে দু’জন চড়া যায়। আবার লেগুনায়ও যাওয়া যায়। ভাড়া দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। জাদুকাটা নদী ৫ টাকা দিয়ে খেয়া পারাপার হয়েই বারিকটিলা, যা থেকে সুন্দর পুরো জাদুকাটা নদী দেখা যায়।

যাওয়ার সঠিক সময়
শিমুল বাগানের রক্তরাঙা সৌন্দর্যের দেখা মেলে প্রতি বছরের একটি মাসে। ফাল্গুনের শুরুতে গাছে ফুলের সমারোহ দেখতে পাবেন।

যা মনে রাখতে হবে
যেখানে-সেখানে ময়লা, শুকনো খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল বা জার, কলার খোসা ফেলা থেকে বিরত থাকবেন। এগুলো পরিবেশ দূষণের সাথে আমাদের ভ্রমণের স্থানগুলোর সৌন্দর্যও নষ্ট করে। আমরা পরিবেশ দূষণ করব না।
ঢাকা

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.