ads

জ্যামের গল্প

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

গতকাল আমার এক বন্ধুর সাথে বাসে উঠলাম। ওঠার সাথে সাথেই জ্যামের গ্যাড়াকলে আটকা। আমি বিরক্তির ভাব দেখিয়ে বললাম, ঢাকার জ্যাম নিয়ে যে কী করি। অসহ্য!
আমার বিরক্তির ভাব দেখে বন্ধুও বিরক্তির ভাব দেখিয়ে বললÑ দূর, তোদের নিয়ে আর পারা গেল না। জ্যামের শুধু অসুবিধার দিকটাই দেখলে সুবিধার কথা একটুও চিন্তা করলে না।
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, জ্যামের সুবিধা মানে?
বন্ধু বলল, আছে। জ্যামটাকে এনজয় কর। দেখবে ভালো লাগবে।
আমি বললাম, তুই কি পাগল হয়ে গেলি?
বন্ধু এবার বলে চলল, শোন তাহলে, কয়েক দিন আগের কথা। অফিস শেষে কান্ত দেহে ফার্মগেট থেকে বাসে উঠলাম, গন্তব্য মোহাম্মদপুর। ওঠার মিনিট পরই বাস থেমে গেল।
তাকিয়ে দেখি সামনে পেছনে মিলিয়ে হাজারখানেক গাড়ি একমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভীষণ জ্যামে মিনিট পাঁচেক গাড়ি স্থির থাকার ফলে কখন যে ঘুমের রাজ্যে চলে গেলাম বুঝতেই পারিনি। গাড়ির হেঁচকা টানে যখন ঘুম ভাঙল তখন খরগোশের মতো ঘুম ঘুম চোখে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি পুরো দুই ঘণ্টা ঘুমালাম। বাহ কী চমৎকার! একেবারে নির্ভেজাল ঘুম। শরীরটাও ফুরফুরে মনে হচ্ছে। হাই তুলে ডানে বামে তাকালাম। বাম পাশে বসা লোকটি মিটমিট করে আমার দিকে তাকাচ্ছে। চোখে চোখ পড়তেই তিনি একগাল হেসে বললেন, আংকেল আপনাকে চেনা চেনা লাগছে। আলাপচারিতায় প্রমাণিত হলো তিনি আমার দেশী লোক। দেশী বলতে বাংলাদেশী তো অবশ্যই, আমার গ্রাম এলাকার লোক। আলাপের আলোকে আরো জানতে পারলাম তার দাদা আর আমার দাদা দুই বেয়াই ছিল। আমি যেন তার ছেলের বিয়েতে অবশ্যই উপস্থিত থাকি তার জন্য স্পেশাল দাওয়াত দিলেন। কথার ফাঁকে ফাঁকে আধা ঘণ্টা পরপর গাড়ি এগোচ্ছে এক হাত করে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি সংসদ ভবনটা আমার দিকে তাকিয়ে লাল আলো ছড়িয়ে হাসছে। তার মানে আসাদগেটের কাছাকাছি এলাকা। সামনের সিটের মধ্যবয়স্ক এক লোক পানের ডিব্বা বের করে বললেন, নেন পান খান। পান খেতে খেতে কথা বলার মজাই আলাদা। ভাবলাম আইডিয়াটা মন্দ না। বললাম, দেন, একখান পান চিবাতে চিবাতে গল্প করি। যখন মোহাম্মদপুর বাসায় পৌঁছলাম যখন রাত সাড়ে ৩টা।
বউ ঘুমের ঘোরে মাথা তুলে শুধু বলল, খাবার রেডি আছে, খেয়ে নাও। শার্ট খুলতে খুলতে ভাবছি। কী রিলাক্স। প্রথমে কান্তি দূর করা দুই ঘণ্টা নির্ভেজাল একখান ঘুম, তারপর নাতির বিয়ের দাওয়াত, পান খাওয়া, খোশগল্প, বাসায় ফিরে প্রতিদিনকার মতো বউয়ের ঘ্যানর ঘ্যানর নেই। নেই চেঁচামেচি। ঢাকার জ্যাম, ভালোই তো, ভালো না?

 

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.