ads

একদিন কৃষ্ণপুরে

জোবায়ের রাজু

চেহারা সুরত আমার সেভাবে ভালো না হলেও ছবিগুলো কিন্তু ঝাক্কাস ওঠে। যে পোজেই সেলফির সামনে দাঁড়িয়ে কিক করি, ছবিগুলো অন্য রকম সুন্দর হয়। আর এই অন্য রকম সুন্দর ছবিগুলো ঘনঘন ফেসবুকে আপলোড করার বাতিক আমার পুরনো। সবাই ধুমছে লাইক মারে আর কমেন্টের এলাহি কাণ্ড ঘটায়।
তেমনি এলাহি কাণ্ড নিয়মিত ঘটানোর একটি ছেলের নাম মিঠু, মিঠু খান। ফেসবুকে পরিচয়। ইয়াং ছেলে। এই ছেলে আমার চেহারার কঠিন ভক্ত। ছবি আপলোড করলেই লাইন আর সুন্দর সব কমেন্ট করে আমাকে পুলকিত করে তোলে। একদিন ম্যাসেঞ্জারে নক করল।
Ñহাই ভাইয়া।
Ñহ্যাঁ মিঠু। ভালো?
Ñজি। আপনি তো পুরাই মডেল।
Ñহা হা হা।
Ñসত্যি বলছি। মডেলিং করতে পারেন।
Ñআমি তো মডেলিং করি।
Ñসত্যি?
Ñহ্যাঁ। তিনটি বিজ্ঞাপনের শুটিং শেষ করেছি। আরো চারটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি।
Ñওয়াও! ভালো তো?
ঠাট্টা করে কথাটি বলেছি আর মিঠু সত্যি ভেবে বিশ্বাস করে ফেলল। মডেল তারকা হওয়ার যোগ্যতা আমাতে নেই। এ আমি বুঝি। চেহারা ভালো বা ন্যূনতম ভালো হলেই মডেল হওয়া যায় না।
আরেক দিন মেসেঞ্জারে নক করল মিঠু।
Ñভাইয়া, আমি ভাগ্যবান।
Ñকেন?
Ñআমার মতো এই অধমকে আপনার মতো মডেল তারকার ফ্রেন্ডলিস্টে জায়গা দিয়েছেন।
Ñহা হা হা।
Ñভাইয়া, আপনার করা বিজ্ঞাপনগুলো টিভিতে প্রচার হচ্ছে?
Ñএখনো হয়নি। হবে।
Ñকী কী পণ্যের মডেল হয়েছেন?
Ñজুস, ব্যাটারি, আর জুতার মডেল হয়েছি।
Ñবাহ।
আমি ফান করে এপার থেকে মিঠুর সাথে ভুয়া চ্যাট করছি, আর মিঠু বিষয়টা দারুণ আমলে নিয়েছে। আজকালকার যুগে এমন সহজ সরল ছেলে হয় না। এর পর থেকে মিঠু আমাকে অনলাইনে দেখলেই ডাকতে থাকে। কত প্রশ্ন ওর। একটা বিজ্ঞাপনে কত টাকা দেয়, কিভাবে শুটিং করে, মডেলকন্যারা কি বাস্তবেও সুন্দরÑ মিঠুর এমন রকমারি প্রশ্নের বানে ভাসতে থাকি। বেচারা বুঝতেই পারছে না এসব আমার ঠাট্টা করা সাজানো গল্পকথন। কথায় কথায় একদা জানলাম মিঠুদের বাড়ি কৃষ্ণপুরে। কৃষ্ণপুর আমাদের গ্রাম থেকে কয়েক গ্রাম পরেই। যেহেতু নিকটবর্তী আমাদের বসবাস, মিঠুর প্রায়ই আবদার আমি যেন একদিন তার বাড়ি পরিদর্শন করি।
২.
আমি এখন কৃষ্ণপুরে। মিঠুদের বাড়িতে। আজ মিঠুর বড় ভায়ের ছেলের আকিকা প্রোগ্রামে আমাকে ইনভাইট করা হয়েছে। এখানে এসে যে জিনিসটা আমাকে মুগ্ধ করেছে, সেটা হলো মিঠু সব আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধু মহলে আগেই প্রচার করে দিয়েছে তাদের এই পারিবারিক অনুষ্ঠানে একজন মডেল তারকা আসবে। সে মডেল তারকা স্বয়ং আমি। কিন্তু এটা যে একটা ভুয়া নিউজ, সেটা কেউ জানে না। মিঠু বিষয়টা নিয়ে এত সিরিয়াস হবে, আগে ভাবিনি।
আমাকে দেখে মিঠুর একদল মেয়ে কাজিন কাছে এসে নানান গল্পের আসর তুলে ফেলল। কয়েক দফা ছবি আর সেলফিও হয়ে গেল এরই মধ্যে। মিঠুর কাজিন মিতা, সুমা, রিপা, রুবি, আলো সবাই আলাদা আলাদা ছবি তুলল ফেসবুকে আপলোড করতে। আমি একজন মডেল তারকা, এটা জেনে মিঠুর ভাইয়েরা আমাকে বিশেষ গুরুত্ব দিলেন। মিঠুর বন্ধু মহলেও আমাকে নিয়ে নানান কৌতূহল। এই বাড়িতে একজন মডেল এসেছে, এটা তাদের কাছে একটা রাজ্যের বিস্ময়। সবাই মডেলকে এক নজর দেখতে বেশ ব্যাকুল।
দুপুরে খানাপিনার আয়োজনে অতিথিদের ঢল। মিঠুর বড় ভাই আমাকে তার বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ঘর থেকে বাইরে ডেকে নিলেন। কিন্তু তার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে আমি আকাশ থেকে পড়লাম। কারণ মিঠুর ভাইয়ের বন্ধুটি আমার স্বয়ং মেজো মামা।
পরিচয় করিয়ে দিয়ে মিঠুর বড় ভাই তার বন্ধুকে বললেন, ‘ও আমার ছোট ভাইয়ের ফ্রেন্ড। টিভিতে মডেলিং করে। কয়েকটা বিজ্ঞাপন করেছে। এখনো রিলিজ হয়নি।’
মামা অবাক হয়ে বললেন, ‘কী আন্দাজে বকছিস, ও তো আমার ভাগ্নে। বড় আপার ছেলে। কিরে, তুই এখানে?’
মিঠুর বড় ভাই বললেন, ‘দূর পাগল। ও তোর ভাগ্নে হতে যাবে কেন? ও মডেল তারকা।’
আমার অলরেডি গা কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেছে। মামা এখানে আসবে জানলে আমি কি আসতাম? মোটেও না। আমি ক্রমশ ধরা পড়ে যাচ্ছি। মামা বললেন, ‘কিরে, এরা কী বলছে? মডেলিং করিস কবে থেকে?’
আমি কেবল নার্ভাস হয়ে আসছি। মিঠুর বড় ভাই আর মিঠু আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মিঠু বলল, ‘ভাইয়া, উনি যা বলছেন, সত্য? আপনি উনার ভাগ্নে?’
আমি প্রসঙ্গ পাল্টাব কী করে, সেই ফন্দি খুঁজছি।

 

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.