ডিমের খোসা রহস্য

রফিকুল আমীন খান

রহস্যের পেছনে ছুটতে তোমার আমার সবারই ভালো লাগে, তাই না বন্ধুরা? নিশ্চয়ই। অজানাকে জানার মাঝেই মজা। এ জন্য বেশি বেশি বই পুুুুুুুস্তক পড়তে হবে। প্রয়োজনে বড়দের সাহায্য নিতে হবে। শিক্ষককে বারবার জিজ্ঞেস করবে। জগতে যারা জ্ঞানে-গুণে বড় হয়েছেন, তারাও তোমার আমার মতোই মানুষ। কেউই অসাধারণ হয়ে জন্ম নেননি। তাদের জীবনী পড়ে দেখ, দেখবে অলসতা তাদেরকে ছুঁতে পারেনি। সবসময় পড়া আর গবেষণা এই নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তারা। খুব সামান্য বিষয় নিয়েও তারা ভাবতেন। এক সময় রহস্য ভেদ করে তবেই শান্ত হতেন।
নিউটনের কথাই ধরো না। নিউটন কে ছিলেন জানো তো! পুরো নাম আইজ্যাক নিউটন। বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ। মনে পড়ে তাকে? তিনি তার বাড়ির আঙিনায় একটি আপেল গাছের নিচে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎই একটি আপেল গাছ থেকে মাথায় পড়ল। তিনি ভাবনায় ডুবে গেলেনÑ আপেল কেন উপরে না গিয়ে সোজা নিচের দিকে নেমে এলো? তারপর কি কাণ্ডটাই না ঘটিয়ে ফেললেন! মধ্যকার্ষ সূত্র আবিষ্কার করে গোটা বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিলেন।
নিউটন সামান্য বিষয় নিয়ে ভেবে জগৎ বিখ্যাত হয়ে গেলেন। অথচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আমাদের ভাবায় না। ভাবতে হবে। এতে জ্ঞানের পরিধি বাড়ে বই কি। ভাবনার কী শেষ আছে? এই যেমন তোমার হাতের নাগালে থাকা সামান্য ডিম নিয়ে ভাবতে পার। যাহ! ডিম নিয়ে ভাবার কী হলো? আছে বই কী। ডিমের খোসায় এক বিস্ময়করা তথ্য লুকিয়ে রয়েছে। সেটা বলতেই এত কথা।
ডিম ফাটানো কত সহজ তাই না! আলতো করে আঘাত করলে ফেটে যায়। হাতের মুঠোয় নিয়ে চাপ দিলেও ফাটে। এবার একটু ভিন্ন উপায়ে ফাটানোর চেষ্টা কর দেখি। ভিন্ন উপায়! হ্যাঁ, ঠিক তাই। প্রথমে ডিমটি দুই আঙুলের মাঝে নাও। এবার শরীরে যত শক্তি আছে পুরোটা কাজে লাগিয়ে ওপর-নিচ বরাবর চাপ দাও। ফাটছে না সেটাই বলবে তো? ঠিক তাই। তুমি কেন মল্লযুদ্ধে বিজয়ী বড় পালোয়ানও এখানে ফেল মারবে! বিচিত্র বিষয়ই বটে।
এবার ভাবো, দোকানে ক্রেতা আকর্ষণ বাড়াতে শত শত ডিম লম্বালম্বিভাবে খাচিতে একটার পর একটা রাখা হয়েছে। এভাবে শত শত ডিম রাখা হলেও সব অক্ষতই থাকে। এটা যেমন সত্য তেমন তা দেয়ার জন্য আস্ত মুরগির ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিমের ওপর বসে থাকার পরও সেগুলো অক্ষত থাকাটাও সত্য। দোকানির খাচিতে রাখা ডিমগুলোর মতোই তা দেয়ার জন্য ডিমগুলোও ওই রকম লম্বালম্বিভাবে সাজিয়ে রাখে মুরগি নিজেই। যাতে শরীরের চাপে ডিমগুলো ফেটে না যায়।
কিন্তু কেন এমনটা হয়, ভেবে দেখেছো? থাক আর মাথা ঘামাতে হবে না। ডিমের ওই না ফাটার রহস্য ডিমের খোসায় নিহিত। খোসার আকৃতির ওপর ডিমের আকৃতি নির্ভর করে। ডিমের এই খোসা অত্যন্ত ভঙ্গুর। স্থায়িত্ব খুবই কম। সামান্য চাপে এর দফা শেষ হওয়ার কথা। অথচ চার-পাঁচ কেজি ওজনের আস্ত একটি মা মুরগি তা দেয়ার জন্য এর ওপর বসে থাকে কিন্তু ভাঙছে না। কেন এমনটি হয়?
আরেকটু খোলাসা করে বলা যাক। মসজিদের গম্বুজের সাথে তুমি আমি সবাই পরিচিত। গম্বুজের মতোই ডিমের কোনার দিকটা গোল। ছাদের নিচে অনেকগুলো পিলার স্থাপন করা হলে তবেই মসজিদের গম্বুজগুলো ছাদের ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি পায়। কিন্তু একটু ভাবো ছাদের নিচে পিলারগুলো ভারসাম্য উপায়ে না থাকলে গম্বুজগুলো ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো কি না? এটা এক কথায় অসম্ভব। পিলারগুলো ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে এক সময় গম্বুজ ভেঙে পড়তÑ এটাই স্বাভাবিক ঘটনা।
অথচ গম্বুজের মতো ডিমের শীর্ষ ভাগের দিকে খেয়াল করা। ভারসাম্য রক্ষা করতে না আছে কোনো পিলার বা না আছে কোনো যুতসই আবরণ। তা সত্ত্বেও দুই আঙুল দিয়ে জোড়ে লম্বালম্বিভাবে চাপ দাও দেখি ডিম ভাঙতে পারো কি না? ভাঙছে না, তাই না? এখানেই ডিমের খোলসের রহস্য।
মসজিদের গম্বুজ তৈরি করতে আধুনিক স্থপত্যকলার অনেক কৌশল অবলম্বন করেই তবেই গম্বুজকে ছাদের ওপর স্থাপন করা গেছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কী অপার বিস্ময় এই সামাান্য ডিমে? সৃষ্টি কর্তার কাছে আধুনিক স্থাপত্য কলার সব কৌশলই এখানে ফেল। যদিও বিজ্ঞান ডিমের খোলসের এভাবে না ভাঙার অনেক যুতসই যুক্তিই দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
চল একটি পরীক্ষা করা যাক। এ জন্য দুটি ডিম লাগবে। দুটি ডিমের শীর্ষ দেশে ছোট ফুটো করে ভেতরের অংশ বের করে নেই। এবার দুটোরই মাঝ বরাবর পাতলা টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে নেই। এবার সূক্ষ্ম মাথাওয়ালা একটি ধারালো কাঁচি দিয়ে টেপের মাঝ বরাবর কেটে নেই। কাটার পর চারটি খোলস পাবে। এবার একটি সাদা কাগজ নিয়ে খোলসগুলোর আকৃতির সঙ্গে মিল রেখে আয়তাকার চারটি ঘর আঁক। আয়াতাকার এ ঘরগুলোর ওপর খোলস চারটি স্থাপন কর। এবার খোলসগুলোর ওপর একটি একটি করে বই রাখতে থাক যতক্ষণ পর্যন্ত না সেগুলো ভেঙে পড়ছে। বিজ্ঞান বলছে যতক্ষণ না বইগুলোর ওজন একটি মুরগির ওজনের চেয়ে বেশি না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত খোলসগুলো অক্ষত ছিল। ঠিক যখনই বইগুলোর ওজন একটি মুরগির ওজনের চেয়ে বেশি হলো তখনই খোলসগুলো ভেঙে গেল।
এ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেই বুঝতে পারবে ডিমের খোলসের ওজন ধারণের ক্ষমতা কতখানি সেটা। পড়াশোনার ফাঁকে এ রকম একটা পরীক্ষা নিজেই করে দেখতে পারো। ডিম না ফাটার রহস্য নিজেই খুব ভালো করে বুঝতে পারবে তখন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.